স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে রবিবার রাতে ঘটে যাওয়া উচ্চগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে
ইউরোপ ডেস্কঃ সোমবার (১৯ জানুয়ারী) উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্প্যানিশ রেল কর্তৃপক্ষ আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি ট্রেনের পেছনের অংশ কর্দোবার কাছে লাইনচ্যুত হয়। ওই ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন।লাইনচ্যুত অংশটি বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
এর আগে আন্দালুসিয়া অঞ্চলের প্রধান হুয়ান মোরেনো জানান, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৭৫ জন যাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর। অধিকাংশ আহতকে কর্দোবা শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের রেড ক্রস দুর্ঘটনাস্থলের কাছে আদামুজ শহরে একটি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সেখানে জরুরি সেবাকর্মী ও স্বজনদের তথ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাতভর স্পেনের সিভিল গার্ড ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ট্রেনের বগিগুলো উল্টে পড়ে রয়েছে এবং ধাতব অংশগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
স্পেনের গণমাধ্যমকে যাত্রীরা জানান, ভাঙা জানালা দিয়ে তারা বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ জরুরি হাতুড়ি ব্যবহার করে জানালা ভেঙে বের হন। স্পেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিভিইর সাংবাদিক সালভাদোর হিমেনেস একটি লাইনচ্যুত ট্রেনে ছিলেন। তিনি ফোনে বলেন, ‘এক মুহূর্তে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে, তারপরই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।’
এদিকে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী ওস্কার পুয়েন্তে সোমবার ভোরে জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তিনি এই দুর্ঘটনাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে বর্ণনা করেন, কারণ এটি এমন একটি সমতল রেলপথে ঘটেছে, যা গত মে মাসে সংস্কার করা হয়েছিল। তিনি আরো জানান, লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনটি চার বছরেরও কম পুরোনো।
পুয়েন্তে আরও বলেন, প্রথম ট্রেনটির পেছনের অংশ লাইনচ্যুত হয়ে অন্য ট্রেনটির সামনের অংশে আঘাত করে। এতে রেনফে কম্পানির ট্রেনটির প্রথম দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় চার মিটার নিচে পড়ে যায়।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ওই ট্রেনটির সামনের অংশে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কত সময় লাগতে পারে—এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত শেষ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্যমতে, স্পেনে ২৫০ কিলোমিটার গতির বেশি চলাচলকারী ট্রেনের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে বড় উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। দেশটিতে এমন রেলপথের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ১০০ কিলোমিটারের বেশি। এই রেলসেবা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হিসেবে জনপ্রিয়। রেনফে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে তাদের উচ্চগতির ট্রেনে ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। দুর্ঘটনার পর সোমবার মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার বিভিন্ন শহরের মধ্যে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
উল্লেখ্য যে, চলতি শতাব্দীতে স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালে। তখন দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জন নিহত হন। তদন্তে জানা যায়, অনুমোদিত গতির চেয়ে অনেক বেশি গতিতে চলার কারণেই সেই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর




















