ভিয়েনা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫০ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাতে প্রস্তুত নাসা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৯:২২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদে আবারও মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নাসা। এ উপলক্ষ্যে শনিবার সংস্থাটি তাদের বিশাল এসএলএস রকেট এবং ওরিয়ন মহাকাশযানকে উৎক্ষেপণ মঞ্চে (লঞ্চ প্যাড) নিয়ে এসেছে।

মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়ার এই ঐতিহাসিক মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্টেমিস-২’।

কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় নিয়ে করা এই স্থানান্তরের ফলে নাসা তাদের পরবর্তী ধাপের পরীক্ষাগুলো শুরু করতে পারবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই শক্তিশালী রকেটটি চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে পারে।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে বিশাল কমলা ও সাদা রঙের এসএলএস রকেট এবং ওরিয়ন যানটি ধীরে ধীরে বের করা হয়। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেটিকে ৩৯-বি লঞ্চ প্যাডে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীক্ষায় সফল হলে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে তিন মার্কিন ও এক কানাডীয় নভোচারী চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। ১০ দিনের এই মিশনে তারা সরাসরি চাঁদে না নামলেও উপগ্রহটির চারপাশ প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে আবারও চাঁদে পা রাখার যে লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন, এই মিশনটি তার একটি বড় ধাপ।

নভোচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রকেট স্থানান্তরের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।

হ্যানসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চারজন মানুষকে চাঁদের চারদিকে ঘুরতে দেখা যাবে। এটি কল্পনা করাও রোমাঞ্চকর।’

এ সময় ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করছি।’

রকেটটি উড্ডয়নের আগে প্রকৌশলীদের নিশ্চিত করতে হবে যে এসএলএস রকেটটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। এজন্য বেশ কিছু পরীক্ষার পর একটি ডামি মহাকাশ যাত্রা বা সিমুলেশন পরিচালনা করা হবে। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে আর্টেমিস-১ নামে একটি মানবহীন মিশন সফলভাবে পরিচালনা করেছিল নাসা।

এদিকে নাসা যখন চাঁদে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, চীনও পিছিয়ে নেই। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তারা।

চাঁদের দক্ষিণ মেরু অন্বেষণে ২০২৬ সালেই চালকবিহীন ‘চ্যাং ই-৭’ মিশন চালু করবে চীন। একইসঙ্গে দেশটির মানববাহী মহাকাশযান ‘মেংজু’র পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও এ বছর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

চীনকে টেক্কা দিতেই ট্রাম্প প্রশাসন আর্টেমিস-২ মিশন দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে আর্টেমিস-৩ মিশনটি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৭ সালে এই মিশনটি হওয়ার কথা থাকলেও ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স কোম্পানি এখনো প্রয়োজনীয় ‘স্টারশিপ’ মেগারকেট প্রস্তুত করতে না পারায় এটি পিছিয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

৫০ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাতে প্রস্তুত নাসা

আপডেটের সময় ০৯:২২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদে আবারও মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নাসা। এ উপলক্ষ্যে শনিবার সংস্থাটি তাদের বিশাল এসএলএস রকেট এবং ওরিয়ন মহাকাশযানকে উৎক্ষেপণ মঞ্চে (লঞ্চ প্যাড) নিয়ে এসেছে।

মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়ার এই ঐতিহাসিক মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্টেমিস-২’।

কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় নিয়ে করা এই স্থানান্তরের ফলে নাসা তাদের পরবর্তী ধাপের পরীক্ষাগুলো শুরু করতে পারবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই শক্তিশালী রকেটটি চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে পারে।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে বিশাল কমলা ও সাদা রঙের এসএলএস রকেট এবং ওরিয়ন যানটি ধীরে ধীরে বের করা হয়। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেটিকে ৩৯-বি লঞ্চ প্যাডে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীক্ষায় সফল হলে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে তিন মার্কিন ও এক কানাডীয় নভোচারী চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। ১০ দিনের এই মিশনে তারা সরাসরি চাঁদে না নামলেও উপগ্রহটির চারপাশ প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে আবারও চাঁদে পা রাখার যে লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন, এই মিশনটি তার একটি বড় ধাপ।

নভোচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রকেট স্থানান্তরের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।

হ্যানসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চারজন মানুষকে চাঁদের চারদিকে ঘুরতে দেখা যাবে। এটি কল্পনা করাও রোমাঞ্চকর।’

এ সময় ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করছি।’

রকেটটি উড্ডয়নের আগে প্রকৌশলীদের নিশ্চিত করতে হবে যে এসএলএস রকেটটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। এজন্য বেশ কিছু পরীক্ষার পর একটি ডামি মহাকাশ যাত্রা বা সিমুলেশন পরিচালনা করা হবে। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে আর্টেমিস-১ নামে একটি মানবহীন মিশন সফলভাবে পরিচালনা করেছিল নাসা।

এদিকে নাসা যখন চাঁদে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, চীনও পিছিয়ে নেই। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তারা।

চাঁদের দক্ষিণ মেরু অন্বেষণে ২০২৬ সালেই চালকবিহীন ‘চ্যাং ই-৭’ মিশন চালু করবে চীন। একইসঙ্গে দেশটির মানববাহী মহাকাশযান ‘মেংজু’র পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও এ বছর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

চীনকে টেক্কা দিতেই ট্রাম্প প্রশাসন আর্টেমিস-২ মিশন দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে আর্টেমিস-৩ মিশনটি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৭ সালে এই মিশনটি হওয়ার কথা থাকলেও ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স কোম্পানি এখনো প্রয়োজনীয় ‘স্টারশিপ’ মেগারকেট প্রস্তুত করতে না পারায় এটি পিছিয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ঢাকা/এসএস