শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান ও সখীপুর সরকারি কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাদের দু’জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন টাঙ্গাইলের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান এবং সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানকে নোটিশ প্রদান করেন।
জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন—এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল-৮ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্মারক নম্বর ০৫.৪১.৯৩৮৫.০০০.০৪.০০৩.২৫.১১৬৪ মূলে গত ২৯ ডিসেম্বর বিষয়টি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে পাঠানো হয়।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে আহমেদ আযম খান বলেন, “১২ বার তো ভোট দিয়েছেন, এবার ১৩ বার নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।”
এছাড়াও তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুইটি রাস্তা নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সংযুক্ত ভিডিও ও আলামত যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ছবি পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
এ অবস্থায় উভয়কে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে অবস্থিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস



















