ভিয়েনা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হবিগঞ্জে চুনারুঘাটে কালভার্টের নিচ থেকে দেশীয় শটগান ও কার্তুজ উদ্ধার শৈলকুপার ৬টি গ্রামে শুরু হয়েছে ‘কৃষি কার্ড’র তথ্য সংগ্রহ জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ারে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন মেডিকেল কোম্পানিতে ইরানি হ্যাকারদের হামলা ইরাকে বিমান হামলায় অন্তত দুইজন যোদ্ধা নিহত : নিরাপত্তা সূত্র নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সকল রাজনৈতিক দলের যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান রাষ্ট্রপতি’র সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত লালমোহনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা

আজ ঐতিহাসিক ৫ আগষ্ট, গৌরবের ৩৬ জুলাই

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:৪৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ২১৯ সময় দেখুন

কোটা সংস্কার দাবিতে ২০২৪ এর ১ জুলাই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এতেটানা একমাসেরও বেশি সময়ের এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেপরোয়া গুলি, গণগ্রেফতার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় প্রাণ দেন নারী ও শিশুসহ এক হাজারেরও বেশি মানুষ। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের একদফা দাবিতে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পতন হয় ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার। সরকার প্রধানসহ, সংসদ সদস্য, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এমনকি জাতীয় মসজিদের খতিবও পালিয়ে যায় আন্দোলনের ব্যাপকতায়। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের এমন পরাজয় বিরল। ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের জীবনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন বালাদেশ।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট কারফিউ ভেঙে গণভবন অভিমুখে লাখো মানুষের ঢল নামলে পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তখনই বিজয় উল্লাসে নামে পুরো জাতি। ছাত্র-জনতার জনসমুদ্র ততক্ষণে গণভবনে পৌঁছে যায় বিজয় মিছিল নিয়ে। গণভবনের প্রতিটি কোনায় তখন বাংলার মানুষের উপস্থিতি। পাশের লেকে নেমে গোসল করে হাজার হাজার মানুষ। সকলের মধ্যে তখন বিরাজ করছিল অদম্য-বুনো উল্লাস। আবেগ–আপ্লুত হয়ে কেউ কেউ কান্নাও করে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কেউ আবার আদায় করেন নামাজ। শুধু গণভবন নয়, সংসদ ভবনেও বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে ছাত্র-জনতা। গণতন্ত্রকে ফিরে পাবার আনন্দেই যেন এমন উল্লাস-আনন্দ-আর হাসিমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরও নিয়ন্ত্রণ নেয় সাধারণ মানুষ। বৈঠক রুম, দরবার হলসহ প্রতিটি কক্ষে মানুষ প্রবেশ করে। এসময় তারা কোটা বিরোধী আন্দোলনের নানা শ্লোগান দেয়ালে লিখে দেন। অনেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ছাদে উঠে। সেখানে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ছাত্র-জনতা।

২০২৪ এর ৫ আগষ্ট বেশিরভাগ মানুষের হাতেই ছিল লাল-সবুজের পতাকা। কেউবা মাথায় বেধেছেন লাল কাপড়। রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে জয়ের উচ্ছ্বাস তাদের চোখে-মুখে। যেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার আনন্দ-আয়োজন পুরো দেশজুড়ে। এমন বিজয় উল্লাস কে দেখেছে কবে? এ যেন নতুন এক বাংলাদেশ।

ইবিটাইমস/আরএন

জনপ্রিয়

হবিগঞ্জে চুনারুঘাটে কালভার্টের নিচ থেকে দেশীয় শটগান ও কার্তুজ উদ্ধার

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

আজ ঐতিহাসিক ৫ আগষ্ট, গৌরবের ৩৬ জুলাই

আপডেটের সময় ০৫:৪৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

কোটা সংস্কার দাবিতে ২০২৪ এর ১ জুলাই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এতেটানা একমাসেরও বেশি সময়ের এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেপরোয়া গুলি, গণগ্রেফতার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় প্রাণ দেন নারী ও শিশুসহ এক হাজারেরও বেশি মানুষ। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের একদফা দাবিতে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পতন হয় ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার। সরকার প্রধানসহ, সংসদ সদস্য, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এমনকি জাতীয় মসজিদের খতিবও পালিয়ে যায় আন্দোলনের ব্যাপকতায়। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের এমন পরাজয় বিরল। ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের জীবনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন বালাদেশ।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট কারফিউ ভেঙে গণভবন অভিমুখে লাখো মানুষের ঢল নামলে পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তখনই বিজয় উল্লাসে নামে পুরো জাতি। ছাত্র-জনতার জনসমুদ্র ততক্ষণে গণভবনে পৌঁছে যায় বিজয় মিছিল নিয়ে। গণভবনের প্রতিটি কোনায় তখন বাংলার মানুষের উপস্থিতি। পাশের লেকে নেমে গোসল করে হাজার হাজার মানুষ। সকলের মধ্যে তখন বিরাজ করছিল অদম্য-বুনো উল্লাস। আবেগ–আপ্লুত হয়ে কেউ কেউ কান্নাও করে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কেউ আবার আদায় করেন নামাজ। শুধু গণভবন নয়, সংসদ ভবনেও বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে ছাত্র-জনতা। গণতন্ত্রকে ফিরে পাবার আনন্দেই যেন এমন উল্লাস-আনন্দ-আর হাসিমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরও নিয়ন্ত্রণ নেয় সাধারণ মানুষ। বৈঠক রুম, দরবার হলসহ প্রতিটি কক্ষে মানুষ প্রবেশ করে। এসময় তারা কোটা বিরোধী আন্দোলনের নানা শ্লোগান দেয়ালে লিখে দেন। অনেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ছাদে উঠে। সেখানে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ছাত্র-জনতা।

২০২৪ এর ৫ আগষ্ট বেশিরভাগ মানুষের হাতেই ছিল লাল-সবুজের পতাকা। কেউবা মাথায় বেধেছেন লাল কাপড়। রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে জয়ের উচ্ছ্বাস তাদের চোখে-মুখে। যেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার আনন্দ-আয়োজন পুরো দেশজুড়ে। এমন বিজয় উল্লাস কে দেখেছে কবে? এ যেন নতুন এক বাংলাদেশ।

ইবিটাইমস/আরএন