জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়ব এর অপসারণের দাবি ও তাদেরকে লালমোহনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ছাত্র জনতা।
সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেন তারা। এতে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় জনতা অংশগ্রহণ করেন।
পরে শিক্ষার্থীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষকদ্বয়ের অপসারণ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ দুই শিক্ষক পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস পর হঠাৎ ১৫ মে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন। এ খবরে তার পাওনাদারগণ স্কুলে গিয়ে হাজির হন। পাওনাদারদের জড়ো হওয়া দেখে স্থানীয় একনেতার সহায়তায় সটকে পড়েন হেলাল উদ্দিন।
জানা যায়, ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন এর চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন এবং আবু তৈয়ব চাচাতো বোন জামাই। সে সুবাধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদ্যালয়ের জমি, গাছ-গাছালি, বাজারের জায়গা ও পুকুর বিক্রি করে দেন তারা।এ বাবদে প্রায় ৩৪৮ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেন। এদের মধ্যে কিছু লোককে জমি, বাজারের ঘর বুঝিয়ে দিলেও অনেকের টাকা আত্নসাৎ করলেও ওই সময় ভয়ে কেউ কিছুই বলতে পারেনি। এ শিক্ষকদ্বয় অবৈধভাবে শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগ প্রদান করেন।
গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর জনরোষের ভয়ে স্কুলে আসেসনি এবং লালমোহনেও তাদেরকে দেখা যায়নি। এর আগেও হেলাল উদ্দিন ও আবু তৈয়বের বিভিন্ন অনিয়ম এবং স্কুলে না আসায় তাকে অপসারণ দাবি করে একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছিল ছাত্র-জনতা।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস