ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: সেতুতে শুকানো হচ্ছে পাটকাঠি,রাখা হয়েছে কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্র। জমেছে কাঁদার স্তুপ। খালের ওপর কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পড়ে থাকলেও চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। এতে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলাচল করছে। ফলে বেড়েছে দুর্ভোগ,বাড়ছে দুর্ঘটনা। এমন অবস্থা ঝিনাইদহের শৈলকুপা-লাঙ্গলবাঁধ সড়কের পাইকপাড়া গ্রামের জিকে সেচ খালের ওপর নির্মিত ওই সেতুটির। কর্তৃপক্ষ বলছেন,জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে শীঘ্রই সেতুটিতে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হবে।
জানা যায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকল্পের আওতায় ১৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহ ও মাগুরার ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্থকরণ ও মজবুতকরণ করা হয়। এরমধ্যে ২০২৩ সালে শেখপাড়া-লাঙ্গলবাঁধ সড়ক এলাকায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে দশটি সেতু (কালভার্ট) নিমার্ণ হয়। শৈলকুপার মনোহরপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় জিকে সেচ খালের ওপর কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় একটি সেতু। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যশোরের ময়নুদ্দীন বাশি লিমিটেড সেতুটি নির্মাণ করেন। তবে নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক। সেতুটির সীমানা অন্যের ব্যক্তিমালিকানা জমিতে চলে যাওয়ায় তৈরির দেড় বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক। এতে প্রায় ত্রিশ বছর আগে তৈরি ছোট সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো মানুষ
সরেজমিনে দেখা যায়,শৈলকুপা থেকে লাঙ্গলবাঁধ এলাকায় চলাচলের প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন ভ্যান, বাইসাইকেল, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, সিএনজি, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন শেখপাড়া-লাঙ্গলবাঁধ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এসব যানবাহন পাইকপাড়া এলাকার পুরোনো ছোট সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে। নতুন সেতু প্রায় দেড় বছর তৈরি হয়ে পড়ে থাকলেও ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়নি। সেতুটি ব্যবহার না করায় কৃষকেরা সেতুটির ওপর শুকাতে দিয়েছেন পাঠকাঠি,রাখছেন পাওয়ার টিলার। জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এতে কোনো কাজেই আসছে না সেতুটি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো সেতু দিয়েই চলাচল হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ,সেতুটি তৈরির সময় গড়মিলের কারণে এমনটি হয়েছে। দ্রæত সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি তাদের। অন্যদিকে সড়কে চলাচলকারীরা বলছেন,দ্রæত সেতুটি দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা না করলে যেকোনো সময় যানবাহনের চাপে পুরোনো সেতুটি ভেঙে যেতে পারে।
স্থানীয় আকমল হোসেন বলেন,‘সেতুটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই এক বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। মানুষের চলাচলের জন্য তৈরি করা হলেও ব্যবহারের ব্যবস্থা নেই। এতে পুরোনা সেতু দিয়েই চলতে হচ্ছে। যার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’
হাসান নামের একজন বলেন,‘সেতু উল্টো দিকে চলে গেছে। সামনের ঘর-বাড়ি না সরালে চলাচল করা যাবেনা। সেতুটি ডিজাইন করার সময় ঠিকমতো দেখে করলে এমনটি হতো না।’
ভ্যানচালক মোজাম্মেল বলেন,‘যাত্রী নিয়ে প্রায়ই ভ্যান উল্টে যাচ্ছে। নতুন সেতু থাকলেও পুরোনো সেতু দিয়েই চলতে হচ্ছে। দ্রæত সেতুটি চলাচলের ব্যবস্থা চাই।’
অটোভ্যান চালক রাশেদ বলেন,‘নতুন সেতু দিয়ে চলাচলের রাস্তা নেই। ঝুঁকি হলেও পুরোনো সেতু দিয়েই চলতে হচ্ছে। বছর ধরে পড়ে থাকলেও কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। কি সমস্যা, যারা করেছে তারাই ভালো জানে।’
যাত্রী রায়হান ইসলাম নামের একজন বলেন,‘ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে চড়ে পুরোনা সেতু দিয়ে পার হতে হচ্ছে। কিছু তো করার নেই। নতুন সেতু কেনো পড়ে আছে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,‘সরকারের কোটি কোটি টাকা এভাবে নষ্ট হচ্ছে অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো ব্যবস্থা নেই। এভাবে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ময়নুন্দীন বাশি লিমিটেডের ম্যানেজার রেজাউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,‘আমাদের দায়িত্ব ছিল সেতু তৈরি করে দেওয়ার। আমরা তৈরি করে দিয়েছি। আমাদের কাজ শেষ। এখন যা করার কর্তৃপক্ষ করবেন।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন,‘সেতুটি আমরা পরিদর্শন করেছি। মূলত জমি অধিগ্রহণের কারণে সংযোগ সড়ক তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই সংযোগ সড়ক তৈরি করা হবে।’
শেখ ইমন/ইবিটাইমস