ভাগাড়ের ‘আবর্জনা’ রাস্তায়

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : রাস্তার পাশে ফেলা হয়েছে ময়লা-আবর্জনা। তা পঁচে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধের। এর মধ্যে লোকজন চলাচল করছেন নাক চেপে। ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনেও পড়ে আছে তা। প্রতিটি রাস্তা ও ড্রেনেও রয়েছে ময়লার উপস্থিতি। এ রকম দৃশ্যের দেখা মিলছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর এলাকায়। রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে পৌরবাসী।

পৌর শহরে গত ৩ মাস ধরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ বন্ধ রয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ী ডাষ্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে শহরের ময়লা-আবর্জনা। তা বাতাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে রাস্তা ও আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে,দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট স্থানেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছিল,তবে পৌরবাসীর বাধায় সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বাধা দেওয়া পৌরবাসীরা বলছেন,আবাসিক এলাকা হওয়ায় ময়লা-আবর্জনা ফেলতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায় শহরের ময়লা কোথায় ফেলা হবে এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা সমস্যা। পৌরবাসী মনে করছেন,প্রথম শ্রেণীর এই পৌরসভার জন্য সরকার নির্ধারিত স্থায়ী ডাষ্টবিন হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

জানা যায়,১৯৯২ সালে শৈলকুপা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া স্বত্তেও ৩২ বছরেও এ পৌরসভায় উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। সেইসাথে নির্মাণ হয়নি একটি স্থায়ী ডাস্টবিন। শহরের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার সেইসাথে স্থায়ী ডাষ্টবিন স্থাপন করে অতিসত্বর সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী ব্যবসায়ীসহ পৌরবাসীর।

শহর ঘুরে দেখা যায়,পৌর এলাকার হাবিবপুর গো হাটের উত্তরে একটি বড় আকারের গর্তে দীর্ঘদিন ধরে শহরের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছিল পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। কিন্তু গত ৩ মাস যাবৎ সেখানে কোন ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে না।  ৩ মাস ধরে পৌর শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা না করায় শহর যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে ময়লা পড়ে আছে। শহরের প্রতিটি রাস্তা ও ড্রেনে বিভিন্ন প্রকারের আবর্জনা জমে আছে। যা থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কোন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে শহরের ময়লা পরিস্কার করতেও দেখা যাইনি। পুরো শহর যেন ‘অস্বাস্থ্যকর’ শহরে পরিণত হয়েছে।

পৌর হাবিবপুরের গোহাট এলাকার বাসিন্দা নাজমা খাতুন জানান,‘তার ঘরের পাশেই এই ডাষ্টবিন। প্রতিনিয়ত শহরের ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলায় দুর্গন্ধে বসবাস করা যায় না। তাই এলাকার লোকজন ময়লা ফেলতে বাধা দিয়েছে।’

হাবিবপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন,‘আবাসিক এলাকায় ময়লা ফেলার কারনে পরিবেশ দূষণ হওয়ায় এলাকাবাসী ময়লা ফেলতে বাধায় এখানে ময়লা ফেলা বন্ধ রয়েছে।’

পৌর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ধলা মালাকার বলেন,‘এযাবতকাল হাবিবপুরের গো হাটার উত্তরে ওই গর্তে নিয়মিত ময়লা ফেলা হতো।  তবে এলাকার কিছু মানুষ বাধা দেওয়ায় সেখানে আর ময়লা ফেলতে যাই না। যার জন্য শহরের ময়লা পরিস্কার করা হচ্ছে না।’

শৈলকুপা শহরের ফার্মেসী ব্যবসায়ী জিহাদ হোসেন জানান,‘বেশকিছুদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কোন ময়লা না ফেলায় দোকানের সামনে ময়লা জমে পড়ে আছে। দুর্গন্ধে ব্যবসা করা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

পৌর শহরের হাট ইজারাদার বলেন,‘প্রায় একমাস বাজারের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার না করায় পুরো শহর আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। আর কিছুদিন এমন চলতে থাকলে দুর্গন্ধে ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাবে না। একটি স্থায়ী ডাষ্টবিন জরুরী হয়ে পড়েছে।’

পৌর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক রেজাউল ইসলাম বলেন,সাবেক পৌর মেয়রের নির্দেশমত আমরা কয়েক বছর ধরে শহরের ময়লা আবর্জনা ওই এলাকায় ফেলতাম। কিন্তু হঠাৎ করে এলাকার লোকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ময়লা ফেলতে বাধা দেওয়ার পর থেকে আমরা আর ওখানে ময়লা ফেলি না। পৌরসভাতে একটি স্থায়ী ডাষ্টবিন প্রয়োজন।’

সাবেক মেয়র খলিলুর রহমান বলেন,‘পৌরসভায় অনেক আগেই ডাষ্টবিন দরকার ছিল। গত ১৬ বছরে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পৌরসভা পরিচালিত হয়, তাই জনগণের স্বার্থে একটা স্থায়ী ডাষ্টবিন জরুরী হয়ে পড়েছে। আমরা চাই জরুরী ভিত্তিতে একটা জায়গা নির্ধারণ করে স্থায়ী ডাষ্টবিন স্থাপন করা হোক।’

শৈলকুপা পৌর প্রশাসক হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস বলেন,‘পৌর শহরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ কিছুদিন বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে আমি অবগত আছি। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে ময়লা সংগ্রহ করে তা ফেলার জায়গা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে সমস্যা হচ্ছে বলে শুনেছি। ইতোমধ্যে জায়গার সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সবেমাত্র পৌরসভার দায়িত্ব পেয়েছি। এতদিনেও কেন স্থায়ী ডাষ্টবিন হয়নি সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

শেখ ইমন/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »