ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’ ভবনের প্রধান ফটকের তালা ও গ্রিলে ধরেছে মরিচা। প্রতিটি তলায় ধুলাবালুর আস্তরণ। কোথাও জমে আছে বৃষ্টির পানি। ভাঙা জানালার গøাস। আসবাব,শৌচাগার,টাইলস দেখে বোঝার উপায় নেই মাত্র কয়েকবছর আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে ভবনটি।
এটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের চিত্র। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরে সকলকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে তিনতলা কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করে সরকার। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ভবনটি। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ভবনটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তবে উদ্বোধনের পরদিন থেকেই এটি তালাবদ্ধ। ৫ বছর পার হলেও ভবনটিতে একদিনের জন্যও মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ভবনটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার কথা থাকলেও ভবনটি এখন লতাপাতা আর ধুলোয় আচ্ছন্ন। মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন,‘নেতৃত্বের দ্বন্দে¦ই বন্ধ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স। অন্যদিকে নির্বাচিত কমিটিও নেই। কমিটি থাকলে এমনটা হতো না।’
জানা যায়,এ উপজেলায় তালিকাভ’ক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৮ শতাধিক। সিনেমা হল রোডের ব্রাক অফিসের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত হয় এই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স। তিন তলা ভবনে রয়েছে সভাকক্ষ,পাঠকক্ষ,উপজেলা কমান্ডারের অফিস কক্ষ এবং বরাদ্দের জন্য রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভবনের দোকান ভাড়ার আয় থেকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো,রক্ষণাবেক্ষণ,একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্যও সঞ্চয় করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এক সেকেন্ডের জন্যও মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন,‘তাঁরা জীবিত অবস্থায় ভবনটি ব্যবহার করতে পারবেন কি না,তা নিয়ে সন্দিহান।’
মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান টুলু বলেন,‘দীর্ঘদিন যাবত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন নেই। তাই সংসদ পরিচালনার কোন কমিটি নেই। এজন্য ভবন রক্ষণাবেক্ষণের পিয়ন-নাইটগার্ড নেই। এছাড়া নির্বাচিত কমিটি ছাড়া কেউ কাউকে মানতে নারাজ। তাই কেউ কমপ্লেক্স ভবন যথাসময়ে খোলা-বন্ধ করাসহ মূল্যবান সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চান না। এ জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি বন্ধ রয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের পদচারণা নেই,থাকলে ভবনটির প্রাণ ফিরে পেত। ভবন থাকতো পরিষ্কার পরিচ্ছন,এমনকি নতুন প্রজন্মের মানুষগুলো সেখানে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারতো।’
মুক্তিযোদ্ধা সোবহান হোসেন বলেন,‘উদ্বোধনের পরদিন থেকে ভবনটিতে এক সেকেন্ডের জন্যও পরিচালিত হয়নি মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যত্রম। জীবিত অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধারা এই অট্টালিকা ভবন যদি ভোগদখল এমনকি ব্যবহার করে আতœতৃপ্তি নাই পায়,তাহলে মৃত্যুর পর অট্টালিকা ভবন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার লাভ কি?’
সাবেক কমান্ডার মনোয়ার হোসেন মালিথার ভাষ্যমতে,‘অনেক বছর যাবৎ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত কমিটি নেই। বর্তমানে ইউএনও ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার। কমিটি না থাকার কারণেই উদ্বোধনের পর থেকেই ভবনটি পড়ে আছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার দাস বলেন,‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনের বিষয়ে সরকারীভাবে কোন নির্দেশনা নেই। কমপ্লেক্স ভবনটিতে বসার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধারা আমার কাছে এসেছিলেন। শীঘ্রই তাদের সাথে আলোচনায় বসা হবে।’
শেখ ইমন/ইবিটাইমস