টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ক্লাশ বর্জন করে প্রধান প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অপসরণসহ শাস্তি দাবী করেছে।
রবিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরের দিকে পাথরাইল বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচী পালন করে।
এরআগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা স্থানীয় ইসকন মন্দির থেকে একটি মিছিল বের করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ করে। এসময় তারা দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করে। পরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে। পরে তারা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বীনু বন্ধু প্রামানিক এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে ১৩ দফা অভিযোগ নামা পেশ করেন। এছাড়া তাদের দুইজনকে অপসারণসহ শাস্তি দাবী জানায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক দ্বীনু বন্ধু প্রামানিক একজন দলবাজ, চরিত্রহীন। তার কাছে ছাত্রীরা নিরাপদ নন। তিনি সন্ত্রাসী এবং দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি নিজের নিয়োগের লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্ন নিজেই তৈরি করেছেন। যার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। তিনি ধর্মীয় শিক্ষক থেকে সরাসরি প্রধান শিক্ষক হয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া তিনি বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক করেছেন। পরকিয়ায় আসক্ত এক নারীকে বিয়ে করতে তিনি হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে দীন ইসলাম নাম ধারণ করেন। গোপনে বিয়ের পর ওই নারীর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন। দাবি করেন, তিনি মুসলিম থেকে আবার হিন্দু হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ও ভীষণ ক্ষুব্ধ। সেইসঙ্গে চরিত্রহীন শিক্ষকের কাছে ছাত্রীরা অনিরাপদ বোধ করছেন। বিব্রত অভিভাবকরাও।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। কিন্তু জেলা পর্যায়ের বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই মামলার কার্যক্রম বন্ধ করিয়ে দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক এসব অপকর্ম করেছেন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, অবৈধ অর্থ এবং সন্ত্রাসীদের পেশিশক্তির সাহায্য নিয়ে।
এদিকে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও একাধিক ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে প্রধান শিক্ষক নিজের অপকর্ম হাসিলের জন্য পরিচালনা কমিটির সভাপতি করেন। সভাপতি বিদ্যালয়ে না গেলেও অবৈধ টাকার ভাগ-বাটোয়ারা বুঝে নিতেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের পুকুরের মাছ বিক্রি, মাটি বিক্রি, গাছ বিক্রি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এবং সেই টাকা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিতেন। এছাড়া অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দ্বীনু বন্ধু প্রামানিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দেলদুয়ার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয়েছে। আর্থিক দুর্নীতি ও চারিত্রিক অবক্ষয়সহ লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেখানে প্রধান ৮টিসহ মোট ১৩টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকেও দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা/ইবিটাইমস