ভিয়েনা ১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এবার নতুন আইসিসির দাবি পাকিস্তানের গাজায় শান্তি প্রচেষ্টা এবং লিবিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তুরস্ক ও মিশর একসাথে কাজ করছে – এরদোগান “আপনি হৃদয়ের প্রধানমন্ত্রী”, আমাদের ভোলা-বরিশাল সেতু করে দেবেন-বরিশালে তারেক রহমানকে পার্থ বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ওপর জামায়াতের হামলা, আহত-৮ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধর, জরুরি বিভাগ ২ ঘণ্টা বন্ধ প্রচারণায় বাধার অভিযোগে টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন ১২ তারিখে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ এসেছে : জামায়াত আমীর জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে ছোট-বড় সকলেই বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া পাবে : মুজিবুর রহমান দেশে ইনসাফ কায়েম করতে চাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বর্ষা নিক্ষেপে স্বর্ণপদক পেলাে ঝালকাঠির মেয়ে ফারজানা

শশী নামে ডাকলেই ছুটে আসে হরিণ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪
  • ৫৮ সময় দেখুন

ভোলা প্রতিনিধিঃ ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় হরিণের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নূরুল্যাহ নামে এক বন কর্মী। তিনি হরিণটির নাম দিয়েছেন শশী। ওই নামে ডাকলে সাড়া দেয় হরিণটি।

জানা গেছে, প্রায় চারমাস আগে তজুমদ্দিনের বিচ্ছিন্ন চরমোজাম্মেলের বন থেকে দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসে একটি মা হরিণ। ওই হরিণটি একটি বাচ্চা প্রসব করে শিকারীদের ভয়ে আবার বনে ফিরে যায়। পরে স্থানীয়রা বন বিভাগের লোকজনকে সংবাদ দিলে বনকর্মীদের একটি টিম শশীগঞ্জ বিটের বিট কর্মকর্তা কাজী রোমেল হোসেনের নেতৃত্বে চরে গিয়ে হরিণের বাচ্চাটি উদ্ধার করে শশীগঞ্জ বনবিটের আওতায় আনেন।

এরপর ওই হরিণের বাচ্চাটিকে পরম যত্নে লালন-পালন করেন নূরুল্যাহ সিকদার নামে এক বনকর্মী। প্রথমদিকে নূরুল্যাহ হরিণের বাচ্চাটিকে দৈনিক দেড় লিটার গরুর দুধ খাওয়াতেন এবং রাতের বেলায় তার সঙ্গে একই খাটে রাখতেন। এক পর্যায়ে নূরুল্যাহর সঙ্গে মানুষের খাবার ভাত, কলা-রুটি, বিস্কিটসহ অন্যান্য খাবার খাওয়া শুরু করে। বনকর্মী নূরুল্যাহর সঙ্গে হরিণের বাচ্চাটির এমন সখ্যতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন স্থানীয় লোকজন বনকর্মী ও হরিণের সখ্যতা দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন শশীগঞ্জ বনবিট অফিসে।

স্থানীয় দলীল লেখক খোকন দাস বলেন, বনকর্মী নূরুল্যাহর সঙ্গে হরিণের বাচ্চাটির গত সাড়ে চারমাসে যে সখ্যতা গড়ে উঠেছে এটি সত্যিই একটি বিরল ঘটনা। প্রতিদিনই হরিণ ও মানুষের এমন সখ্যতা দেখতে এলাকাবাসী ফরেষ্ট অফিসে ভীড় জমাচ্ছেন। হরিণের সঙ্গে মানুষের এমন সখ্যতা সমাজে ভালোবাসার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এ নিয়ে বনকর্মী নূরুল্যাহ সিকদার জানান, উদ্ধারের পর হরিণের বাচ্চাটিকে পরম মমতায় লালন-পালন করায় হরিণটি এখন আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না। হরিণের বাচ্চাটি সারাক্ষণ আমার সঙ্গে থাকায় মানুষের খাবার ভাত, মাছ, তাজা সবজিসহ অন্যান্য সব খাবার খায়।

এই বনকর্মী আরো জানান, সরকারি নিয়মানুযায়ী হরিণের বাচ্চাটিকে আর কয়েকদিনের মধ্যে বন, চিড়িয়াখানা অথবা সাফারি পার্কে অবমুক্ত করতে হবে। তখন হয়তো সাময়িক কষ্ট হবে। তারপরও সরকারি আইন মানতেই হবে।

এ বিষয়ে দৌলতখানের রেঞ্জ বন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হরিণের বাচ্চাটিকে দীর্ঘদিন আমাদের কর্মীরা লালন-পালন করায় সেটির ভয় দূর হয়ে গেছে। এজন্য হরিণটি মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। তাই এটি বনে অবমুক্ত করলে শিকারীর কবলে পড়ার ঝুঁকি থাকে। সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশনা অনুযায়ী ওই হরিণটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

এবার নতুন আইসিসির দাবি পাকিস্তানের

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

শশী নামে ডাকলেই ছুটে আসে হরিণ

আপডেটের সময় ০৮:০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

ভোলা প্রতিনিধিঃ ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় হরিণের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নূরুল্যাহ নামে এক বন কর্মী। তিনি হরিণটির নাম দিয়েছেন শশী। ওই নামে ডাকলে সাড়া দেয় হরিণটি।

জানা গেছে, প্রায় চারমাস আগে তজুমদ্দিনের বিচ্ছিন্ন চরমোজাম্মেলের বন থেকে দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসে একটি মা হরিণ। ওই হরিণটি একটি বাচ্চা প্রসব করে শিকারীদের ভয়ে আবার বনে ফিরে যায়। পরে স্থানীয়রা বন বিভাগের লোকজনকে সংবাদ দিলে বনকর্মীদের একটি টিম শশীগঞ্জ বিটের বিট কর্মকর্তা কাজী রোমেল হোসেনের নেতৃত্বে চরে গিয়ে হরিণের বাচ্চাটি উদ্ধার করে শশীগঞ্জ বনবিটের আওতায় আনেন।

এরপর ওই হরিণের বাচ্চাটিকে পরম যত্নে লালন-পালন করেন নূরুল্যাহ সিকদার নামে এক বনকর্মী। প্রথমদিকে নূরুল্যাহ হরিণের বাচ্চাটিকে দৈনিক দেড় লিটার গরুর দুধ খাওয়াতেন এবং রাতের বেলায় তার সঙ্গে একই খাটে রাখতেন। এক পর্যায়ে নূরুল্যাহর সঙ্গে মানুষের খাবার ভাত, কলা-রুটি, বিস্কিটসহ অন্যান্য খাবার খাওয়া শুরু করে। বনকর্মী নূরুল্যাহর সঙ্গে হরিণের বাচ্চাটির এমন সখ্যতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন স্থানীয় লোকজন বনকর্মী ও হরিণের সখ্যতা দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন শশীগঞ্জ বনবিট অফিসে।

স্থানীয় দলীল লেখক খোকন দাস বলেন, বনকর্মী নূরুল্যাহর সঙ্গে হরিণের বাচ্চাটির গত সাড়ে চারমাসে যে সখ্যতা গড়ে উঠেছে এটি সত্যিই একটি বিরল ঘটনা। প্রতিদিনই হরিণ ও মানুষের এমন সখ্যতা দেখতে এলাকাবাসী ফরেষ্ট অফিসে ভীড় জমাচ্ছেন। হরিণের সঙ্গে মানুষের এমন সখ্যতা সমাজে ভালোবাসার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এ নিয়ে বনকর্মী নূরুল্যাহ সিকদার জানান, উদ্ধারের পর হরিণের বাচ্চাটিকে পরম মমতায় লালন-পালন করায় হরিণটি এখন আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না। হরিণের বাচ্চাটি সারাক্ষণ আমার সঙ্গে থাকায় মানুষের খাবার ভাত, মাছ, তাজা সবজিসহ অন্যান্য সব খাবার খায়।

এই বনকর্মী আরো জানান, সরকারি নিয়মানুযায়ী হরিণের বাচ্চাটিকে আর কয়েকদিনের মধ্যে বন, চিড়িয়াখানা অথবা সাফারি পার্কে অবমুক্ত করতে হবে। তখন হয়তো সাময়িক কষ্ট হবে। তারপরও সরকারি আইন মানতেই হবে।

এ বিষয়ে দৌলতখানের রেঞ্জ বন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হরিণের বাচ্চাটিকে দীর্ঘদিন আমাদের কর্মীরা লালন-পালন করায় সেটির ভয় দূর হয়ে গেছে। এজন্য হরিণটি মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। তাই এটি বনে অবমুক্ত করলে শিকারীর কবলে পড়ার ঝুঁকি থাকে। সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশনা অনুযায়ী ওই হরিণটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস