ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ফসলের মাঠে মাঠে খননযন্ত্রের বিকট আওয়াজ। শুকনা ক্ষেতে এত যন্ত্রের চলাফেরা মানুষ কয়েক বছর আগেও দেখেনি। কেউ বলছে বড় বড় সেতু আর লেনের রাস্তা বানাতে বিনা শুল্কে আনা খননযন্ত্রের উচ্ছিষ্ট এগুলো। ঠিকাদারদের হাত গলে এখন কৃষিজমিতে। ফসলি জমি ‘জবাইয়ের’ এ রকম কত যন্ত্র এখন জমি বধে ব্যস্ত, তার হিসাব কারও কাছে নেই।
ঝিনাইদহের শৈলকুপাজুড়ে চলছে কৃষি জমির টপসয়েল কাটা ও অনুমোদনহীন পুকুর পুন:খননের হিড়িক। কৃষকদের নানা কৌশল-প্রলোভনে ফেলে ব্যবসায়ীরা টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় কৃষিজমি তার উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে। জমি থেকে উত্তোলিত মাটি ট্রাক্টরে করে মানুষের বাড়ীর গর্ত ভরাট ও ইট ভাটায় নেয়া হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবৈধ পন্থায় চলে মাটি সন্ত্রাসদের তান্ডব। শুধু জমির উর্বরতা শক্তিই হারাচ্ছে না,ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত পাকা রাস্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার হাজরামিনা,হেতামপুর,কৃষ্ণনগর,চাঁ
দাপটের সাথে অবৈধ কাজ চলমান থাকায় এরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসকল কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে বলে ধারনা স্থানীয়দের।
প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে মাটিখেকোরা ট্রলি-ট্রাক্টরযোগে সে মাটি উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের রহস্যময় নীরবতার অভিযোগ করছে স্থানীয়রা। তারা বলছেন, উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা মাটিকাটা সিন্ডিকেটকে দিন দিন লাগামহীন করে তুলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,ভাটা মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশে পুকুর খননের নামে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করছেন স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ পুকুরেই পুন:খননের কোন অনুমতি নেই। আর মাটি বাইরে বিক্রি করার কোন নিয়মতো নেই-ই।
মাটি বেচাকেনার কাজে একশ্রেণির ব্যবসায়ী গড়ে উঠেছে এ উপজেলায়। তাঁরা বছরের বিভিন্ন সময় চুক্তিতে জমি বা পুকুর খননের মাটি কেনেন। ইটভাটার মৌসুমে জমি থেকে মাটি কেটে বেশি দামে ইটভাটায় সরবরাহ করেন। কোনো কোনো জমির মালিক সরাসরি ভাটার মালিকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে মাটি বিক্রি করেন। এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন,আজিজুল,বাশার,ইলিয়াস,সো
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাটি ব্যবসায়ী বলেন,‘কৃষক বা পুকুর মালিকের সাথে চুক্তি করেই তাঁরা কৃষিজমির মাটি কিনে থাকেন। পুকুর খনন করলে প্রশাসনকে একটু জানালেই চলে।’
রেজাউল ইসলাম নামের এক চাষি বলেন,‘তিনি তাঁর উচু সবজিক্ষেতের মাটি কেটে ধানের জমি বানিয়েছেন। বিনিময়ে মাটি ব্যবসায়ীরা তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এভাবে তাঁদের মাঠের অনেক কৃষক সবজিক্ষেতকে ধানের খেত বানিয়েছেন। অনেক কৃষক প্রতি ট্রাক্টর মাটি ৩’শ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি যাকে টপ সয়েল বলে। এ মাটি কাটলে জমি তার উর্বরতা শক্তি হারায়। যার ফলে ফসলের উৎপাদন ব্যহত হয়।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) বনি আমিন বলেন,‘উপরিভাগের মাটি কেটে কোনো অবস্থাতেই কৃষিজমি নষ্ট করা যাবে না এবং পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রির ব্যাপারে অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শেখ ইমন/ইবিটাইমস