তীব্র তাপদাহে পুড়ছে দেশ, বিপর্যস্ত জনজীবন

ইবিটাইমস ডেস্ক: তীব্র তাপদাহে পুড়ছে দেশ। দিনদিন তাপমাত্রার পারদ ওপরের দিকে উঠছে। প্রখর তাপে বিপর্যস্ত জনজীবন। গরম ও অস্বস্তিতে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে খেটে খাওয়া শ্রমজীবিদের।

রৌদ্রের প্রখর তাপে বিভন্ন জেলায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষের পাশাপাশি হিটস্ট্রোকে বিভিন্ন পশুপাখি মারা যাচ্ছে। বেড়েছে ডায়রিয়া, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। গরম সহ্য করেত না পেরে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন হিট স্ট্রোকে। রোববার (২১ এপ্রিল) ছয় জেলায় হিট স্ট্রোকে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

তীব্র তাপপ্রবাহের জেরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে শিখন ঘাটতি পূরণে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস চালু করেছে। বাকিরাও বিকল্প এ পাঠদানের চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানা গেছে।

রোববার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের জানান, তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বুঝে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ানোর চিন্তা করছেন। শিশুদের কোনোভাবেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ঠিক হবে না বলে জানান তিনি।

রোববার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৩টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে দেশের দুই জেলার ওপর দিয়ে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২১ এপ্রিল) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সিলেট জেলা সমূহের ওপর দিয়ে সোমবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টার মধ্যে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী, টাঙ্গাইল, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শ্রীমঙ্গল ও চাঁদপুর জেলাসহ ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিবিরাজ করতে পারে।

এ ছাড়া একই সময়ে ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয়:

দেশে চলমান তাপদাহের কারণে জনজীবনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআর,বি নিম্নলিখিত পরামর্শসমূহ প্রতিপালনের জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে :
অতিরিক্ত গরমে যেসব সমস্যা দেখা দেয় :
১.শরীরে অস্বস্তিবোধ
২. পানিশূন্যতা
৩. প্রচন্ড মাথাব্যথা
৪. অনিদ্রা
৫. মাংসপেশিতে ব্যথা
৬.  খাবারে অরুচি
৭. চামড়ায় ক্ষত
৮.  কিডনি ও ফুসফুসে সমস্যা
৯. শ্বাসকষ্ট
১০. হার্টের সমস্যা
১১.  হিট স্ট্রোক
১২.  হিট ক্র্যাম্পস।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে যারা :
১.শিশু
২.বয়স্ক ব্যক্তি
৩. প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
৪. শ্রমজীবী ব্যক্তি- যেমন রিকশাচালক, কৃষক, নির্মাণশ্রমিক
৫. যাদের ওজন বেশি
যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ, বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ আছে।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় :
১. দিনের বেলায় যথাসম্ভব বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন, রোদ এড়িয়ে চলুন।
২. বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি/ক্যাপ বা কাপড় দিয়ে মাথা যথাসম্ভব ঢেকে রাখুন।
৩. হালকা রঙের ঢিলে ঢালা জামা, সম্ভব হলে সুতির জামা পরুন।
৪. প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
৫. সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাসি বা খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৬. দিনের বেলায় একটানা শারীরিক পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকুন।
৭.সম্ভব হলে একাধিকবার পানির ঝাপটা নিন বা গোসল করুন।
৮. প্রসাবের রঙের দিকে নজর রাখুন, তা হলুদ বা গাঢ় হলে অবশ্যই পানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।
৯. ঘরের পরিবেশ যেন অতিরিক্ত গরম বা ভ্যাপসা না হয়, সেদিকে  খেয়াল রাখুন।
১০. বেশি অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তাপদাহের ফলে রোগের উপশম দেখা গেলে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা নিতে স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডেস্ক/ইবিটাইমস/এনএল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »