ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। চলছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে শোডাউন ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কর্মযজ্ঞ।
আগেরদিন রাতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বলা হয়েছে ‘শোডাউনে না আসলে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া হবে’। তাতে ভয়ে তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে একপ্রকার জীবন রক্ষার্থে এসেছেন নানা ইউনিয়ন থেকে হাজারো মানুষ। গরমে অনেকের হিট স্ট্রোকও হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয় উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা,মোড়ে। এ সময় কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে থাকেন। এতে প্রায় ২ঘন্টা শহরে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঝিনাইদহের শৈলকুপার।
রবিবার সকাল থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী শামিম হোসেন মোল্লার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের শোডাউন শুরু হয়। শুরুতে ৭নং হাকিমপুর ইউনিয়ন থেকে শোডাউন শুরু হয়। শোডাউন এসে থামে হল মার্কেট এলাকায়। পরে হাকিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শিকদার ওয়াহিদুজ্জামান ইকুর নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন দেওয়া হয়। শোডাউনটি উপজেলার বিভিন্ন মোড় প্রদক্ষিণ শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঠে জড় হয়। একে একে উমেদপুর ইউনিয়ন,নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়ন,মনোহরপুর ইউনিয়ন,দিগনগর ইউনিয়ন,কাঁচেরকোল ইউনিয়ন,ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন সহ বেশকয়েকটি ইউনিয়নের কর্মী-সমর্থকেরা ব্যান্ড-পার্টি সহ স্লোগান দিতে দিতে শোডাউন নিয়ে আসে। শোডাউনে আসা সকলের মাথায় হলুদ রঙের ক্যাপ,তাতে লেখা ‘শামিম মোল্লা’। শোডাউনের নেতৃত্ব দেন স্ব স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা।
পরে সকলকে একত্রিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্ত¡রে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান বিশ^াস, সাধারন সম্পাদক এম হাকিম আহমেদ, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শামিম হোসেন মোল্লা,শিকদার ওয়াহীদুজ্জামান ইকু,সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। বক্তব্যে নেতারা বলেন, ‘যেকোন মূল্যে আমাদের মনোনিত প্রার্থী শামিম হোসেন মোল্লাকে বিজয়ী করতে হবে। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।’
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগের মনোনীত উপজেলা চেয়াম্যান প্রার্থী শামিম হোসেন মোল্লা,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুন্নবী কালু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা নাসরিন লিপি,চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম,চেয়ারম্যান শিকদার ওয়াহীদুজ্জামান ইকু,চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন জোয়ার্দার মামুন,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব হোসেনসহ প্রায় ২০ জন নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে উপজেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এ ব্যাপারে শৈলকূপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম হোসেন মোল্লা কোনো মন্তব্য রাজি হননি। তবে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নু অভিযোগ করে জানান, আমার প্রতিপক্ষ তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউনসহ জনসভা করে বেড়াচ্ছেন। আজ আবার হাজার হাজার মানুষ ভাড়া করে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এতে সুস্পষ্ট তিনি নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর প্রার্থীতা বাতিল করা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন ২০২৪ এর রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, যদি কোন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এবং কোন প্রার্থী অভিযোগ করে তবে সেই অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচ জনকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাবে না।
শেখ ইমন/ইবিটাইমস