১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছিল পেটানোর কথা জানালেন আওয়ামী লীগ নেতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সিল পিটিয়ে নির্বাচিত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন পটুয়াখালী পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য ইঞ্জিঃ জামাল হোসেন। ওই সময় কোন উন্নয়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হলে এ নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

গত ১৮ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পটুয়াখালী- ১ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনীনয়ন প্রত্যাশী এড. আফজাল হোসেন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জামাল হোসেন তার বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

পটুয়াখালী জেলা পরিষদ ও পটুয়াখালী পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জামাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে অনেকেই আছেন, এর আগে আমরা ঘোর অন্ধকারে পড়েছি, গত ৫ টি বছর। পটুয়াখালীতে রেডিমেট এসে ( রুহুল আমিন হাওলাদার) আমাদের দিয়ে সিল পিটিয়ে, যেভাবেই হোক, কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করতে চাই না। আমাদের বলেছিল ( রুহুল আমিন হাওলাদার) সোনার চামচ মুখে দিয়ে দিবে, এই যুবলীগের (জেলা যুবলীগের সভাপতি) শহীদ ভাই স্বাক্ষী, কি শহীদ ভাই। আমরা আর গোলক ধারায় পড়তে চাই না।’

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদ ও পটুয়াখালী পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড.আফজাল হোসেন আয়োজিত মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড.হাফিজুর রহমান, পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ সহ জেলা পরিষদ সদস্য, পৌরসভার কাউন্সিলর এবং আওয়ামীলীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিষদ সদস্য ও পটুয়াখালী পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন এর বক্তব্যটি সামজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে দলের ভেতরে এবং বাহিরে চলছে নানামুখী সমালোচনা।

এ বিষয়ে জামাল হোসেন তার বক্তব্যের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন ‘আপনি নিজেও তো জানেন কিভাবে উনি এমপি হয়েছে। ওনাকে কেউ চেনে না, উনি হেলিকপ্টারে এসে আবার চলে যায়। এর আগে ৫ বছর এমপি ছিলেন সে সময় পাঁচ টা তাল গাছও লাগায় নাই। তিনি আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের ব্যবহার করেছেন। এবারও যদি তাকে (রুহুল আমিন হাওলাদার) মনোনয়ন দেয় তবে তার ভরাডুবি হবে। আওয়ামীলীগের অনেক প্রার্থী আছে। আমরা চাই তাদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হোক।

পটুয়াখালী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. তারিকুজ্জামান মনির কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি লোক মুখে এমন একটি ভিডিওর কথা শুনেছি, যেখানে নির্বাচন এবং উন্নয়ন নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো। এমন কথা মন্তব্য করলে তদন্ত করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

এ বিষয় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, এটা আত্মঘাতিক মূলক বক্তব্য। এটা আওয়ামীলীগের বক্তব্য হতে পারে না। বর্তমান সরকারের অধীনে ২০১৪ এর নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। যে এই বক্তব্য দিয়েছে তিনি তার দলকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। কারো পারপাস সার্ফ করে নিজেকে কলুষিত করেছেন তিনি।’

এ বিষয় জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এটি আওয়ামীলীগের দরীয় কোন বক্তব্য নয়। সে (জামাল) রাজনীতিতে নতুন, সে এসব বিষয় মন্তব্য করতে পারে না। আমরা বিষয়টি দেখছি।’

উল্লেখ্য ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বর্তমান কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়ার মনোনয়ন উড্ডো করিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে ওই সময় জাতীয় পার্টিকে জোটে জায়গা করে দেয় আওয়ামীলীগ। সে সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার। তৎকালীন  সময় শ্লোগান ছিলো ‘এ আসনে নৌকা নাই, লাঙ্গল হলো নৌকার ভাই’। এই শ্লোগান দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর সে সময় অনেকটা আওয়ামীলীগের কাধে ভড় করেই এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আব্দুস সালাম আরিফ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »