ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ জনপদে মূর্তিমান আতংকের নাম আনায়ারুল আজিম আনার এমপি। ইন্টারপোলের এই আসামী হঠাৎ করেই যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পায়। কুখ্যাত এই মাদক সম্রাট অবৈধ টাকার বিনিময়ে হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। নিজ দলের নেতা-কর্মীকে হত্যা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামী জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদীকে নিয়ে প্রশংসা করে আবারো নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এমপি আনার।
জানা গেছে,আন্তর্জাতিক চোরা চালান সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এমপি আনার। ভারত সীমান্ত দিয়ে মাদক ও স্বর্ন চোরাচালানের ক্ষুদ্র কারবারি থেকে হয়ে যান শীর্ষ গডফাদার। দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চালের জেলাগুলোতে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে একের পর এক ব্যবসায়ী প্রতিপক্ষকে হত্যা করেন তিনি। এরপর কালীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আনার। সেই থেকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তার বিরুদ্ধে অর্ধশত মামলা ও ইন্টাপোলের রেড এলার্ট জারি হলে ২০০১ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। ২০০৪ সালে তৎকালিন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি নেতাদের সাথে যোগসাজস করে দেশে ফিরে যোগ দেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। এ সময়ে ক্ষমতাসীন দলের এমপি হওয়ায় অবৈধ পন্থায় আয় করেছেন শত শত কোটি টাকা। সেই টাকা দিয়ে দেশ বিদেশে করেছেন একাধিক স্থাপনা।
কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আইয়ুব হোসেন জানান,এমপি আনার আওয়ামী লীগের কেউ ছিলেন না। হঠাৎ করেই তার অবৈধ কর্মকান্ড জায়েজ করার জন্য আওয়ামী লীগে নাম লেখান। তারপর থেকেই ধরাকে সরা মনে করে একের পর এক অনিয়ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে বিএনপি-জামায়াত ও রাজাকারের পরিবারদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তিনি।
এ সকল অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে আনায়ারুল আজীম আনার এমপি জানান, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা করে কোন লাভ হবে না।
ঝিনাইদহ/ইবিটাইমস