ভিয়েনা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালীতে ৬টি জাহাজ থামিয়ে দিল ইরান সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় মৎস্য পক্ষ’ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালু বিদ্যালয়ের যাবার রাস্তা নেই, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ চীন সাগরে ভিয়েতনামের জাহাজডুবি, নিখোঁজ ২৩ ২৭ জুলাই হতে শুরু হচ্ছে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষকের পাশে লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি

লালমোহনে খালে পানি থাকলেই বেসালজাল জেলের আনন্দ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৩
  • ৭০ সময় দেখুন

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: বর্তমানে খাল বিল জলাশয় ও নদীতে পানি থাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বেসাল/বেকজাল জালে মাছ ধরা জেলেরা। চারিদিকে পানি খালে বইছে জোয়ার ভাটা তাই বেসাল/বেকজালে মাছ ধরা জেলেদের ঘরে আনন্দের সুবাতাস। খালে পানি থাকলেই বেসালজাল জেলের আনন্দ। বর্তমানে তাদের প্রতিদিন সময় কাটছে মাছ ধরা, বিক্রি ও জাল মেরামত নিয়ে।

খাল বিল জলাশয়সহ চারদিকে এখন শুধু পানি থৈ থৈ করছে। চারদিকে পানি থাকায় ভোলার লালমোহন উপজেলার ৬০ বছর বয়সী ভেসাল জেলে তোফাজ্জল হোসেন মুন্সি এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে খালের বিভিন্ন স্থানে ভেসাল জালে মাছ শিকার করছেন তিনি। দিন অথবা গভীর রাত, যখনই খালে ভাটা শুরু হয় তখনই মাছ শিকার করতে ভেসাল জাল পাতেন। জাল উঠানোর পর সেখানে পাওয়া যায় চিংড়ি, কুলি, পুঁটি ও টাকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। যা বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হয় প্রায় পাঁচশত টাকা। এই আয়ে চলছে জীবন জীবিকা।

তোফাজ্জল হোসেন মুন্সি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মাছ শিকারের সঙ্গে আছি। প্রথমে নদীতে বেড় জালের মাধ্যমে মাছ শিকার করতাম। তবে সেখানে বেশি পরিশ্রম হওয়ায় তা বন্ধ করে দিয়েছি। এরপর ভেসাল জাল দিয়ে খালে মাছ শিকার শুরু করি।  তিনি আরও বলেন, এই ভেসাল জালে পাওয়া মাছ বিক্রির টাকায় সংসার চালাচ্ছি। সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে বড় ছেলেকে এই মাছ বিক্রির টাকায় পড়ালেখা করিয়েছি। এছাড়া সংসারের সবার তিন বেলা খাবার ও অন্যান্য খরচ এই ভেসাল জালে পাওয়া মাছ বিক্রির টাকাই চলে।

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বয়স হয়েছে তাই রাত-বিরাতে এই মাছ শিকার করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তবুও পেটের তাগিদেই এক প্রকার বাধ্য হয়ে ভেসাল জাল দিয়ে মাছ শিকার করছি। তবে এখন আর শরীর চলছে না। তাই সরকারি-বেসরকারি অনুদান পেলে অন্য পেশা বেছে নিতাম। তাহলে কষ্ট কিছুটা কমতো। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কিছুটা শান্তিতে থাকতে পারতাম।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলার সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ জানান, মৎস্যজীবীদের জন্য ভিজিএফ চালসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এ সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে ভেসাল জালের জেলেদের প্রথমে নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। এরপরও বয়সজনিত কারণে অথবা অঙ্গহানির ফলে মাছ শিকারে অসুবিধা হলে তাদেরকে সরকারিভাবে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

হরমুজ প্রণালীতে ৬টি জাহাজ থামিয়ে দিল ইরান

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহনে খালে পানি থাকলেই বেসালজাল জেলের আনন্দ

আপডেটের সময় ০৫:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৩

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: বর্তমানে খাল বিল জলাশয় ও নদীতে পানি থাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বেসাল/বেকজাল জালে মাছ ধরা জেলেরা। চারিদিকে পানি খালে বইছে জোয়ার ভাটা তাই বেসাল/বেকজালে মাছ ধরা জেলেদের ঘরে আনন্দের সুবাতাস। খালে পানি থাকলেই বেসালজাল জেলের আনন্দ। বর্তমানে তাদের প্রতিদিন সময় কাটছে মাছ ধরা, বিক্রি ও জাল মেরামত নিয়ে।

খাল বিল জলাশয়সহ চারদিকে এখন শুধু পানি থৈ থৈ করছে। চারদিকে পানি থাকায় ভোলার লালমোহন উপজেলার ৬০ বছর বয়সী ভেসাল জেলে তোফাজ্জল হোসেন মুন্সি এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে খালের বিভিন্ন স্থানে ভেসাল জালে মাছ শিকার করছেন তিনি। দিন অথবা গভীর রাত, যখনই খালে ভাটা শুরু হয় তখনই মাছ শিকার করতে ভেসাল জাল পাতেন। জাল উঠানোর পর সেখানে পাওয়া যায় চিংড়ি, কুলি, পুঁটি ও টাকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। যা বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হয় প্রায় পাঁচশত টাকা। এই আয়ে চলছে জীবন জীবিকা।

তোফাজ্জল হোসেন মুন্সি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মাছ শিকারের সঙ্গে আছি। প্রথমে নদীতে বেড় জালের মাধ্যমে মাছ শিকার করতাম। তবে সেখানে বেশি পরিশ্রম হওয়ায় তা বন্ধ করে দিয়েছি। এরপর ভেসাল জাল দিয়ে খালে মাছ শিকার শুরু করি।  তিনি আরও বলেন, এই ভেসাল জালে পাওয়া মাছ বিক্রির টাকায় সংসার চালাচ্ছি। সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে বড় ছেলেকে এই মাছ বিক্রির টাকায় পড়ালেখা করিয়েছি। এছাড়া সংসারের সবার তিন বেলা খাবার ও অন্যান্য খরচ এই ভেসাল জালে পাওয়া মাছ বিক্রির টাকাই চলে।

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বয়স হয়েছে তাই রাত-বিরাতে এই মাছ শিকার করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তবুও পেটের তাগিদেই এক প্রকার বাধ্য হয়ে ভেসাল জাল দিয়ে মাছ শিকার করছি। তবে এখন আর শরীর চলছে না। তাই সরকারি-বেসরকারি অনুদান পেলে অন্য পেশা বেছে নিতাম। তাহলে কষ্ট কিছুটা কমতো। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কিছুটা শান্তিতে থাকতে পারতাম।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলার সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ জানান, মৎস্যজীবীদের জন্য ভিজিএফ চালসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এ সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে ভেসাল জালের জেলেদের প্রথমে নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। এরপরও বয়সজনিত কারণে অথবা অঙ্গহানির ফলে মাছ শিকারে অসুবিধা হলে তাদেরকে সরকারিভাবে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস