ইবিটাইমস ডেস্ক: ‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত বিশ্বের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল আমাজনকে রক্ষা করতে দক্ষিণ আমেরিকান আটটি দেশ একটি জোট চালু করতে সম্মত হয়েছে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, পেরু, সুরিনাম ও ভেনিজুয়েলা আমাজন রক্ষার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। খবর- আল-জাজিরা
এককভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই রেইন ফরেস্টকে (ঘনবর্ষণ বনভূমি) ধ্বংসের এমন পর্যায়ে যাওয়া ঠেকাতে দেশগুলোর নেতারা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, যে পর্যায় থেকে ‘ফেরার কোনো পথ থাকে না’। তবে তারা বন উজাড় বন্ধ করার জন্য একক লক্ষ্যে সম্মত হতে পারেনি। দেশগুলো বন উজাড় বন্ধে নিজ নিজ লক্ষ্য ও পদক্ষেপ অনুসরণ করবে।
আমাজন রক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এই সম্মেলনকে আয়োজক দেশ ব্রাজিল একটি ‘নতুন ও উচ্চাভিলাষী এজেন্ডা বণ্টন’ হিসেবে দেখছে। মঙ্গলবার আমাজন কো-অপারেশন ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (এসিটিও) ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আমাজন নদীর মুখে ব্রাজিলের শহর বেলেমে জোটের আটটি দেশ যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে। টেকসই উন্নয়ন, বন উজাড় বন্ধ ও সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রায় ১০ হাজার শব্দের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
আমাজন সংরক্ষণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা প্রচেষ্টার একটি অংশ। ব্রাজিলের বেলেমে এই বিষয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে। গত ১৪ বছরের মধ্যে এই ধরনের প্রথম কোনো সমাবেশ এটি।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এখনই বন ধ্বংস ঠেকানো না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে বনাঞ্চলটি হয়তো বিলীন হয়ে যাবে। আমাজন নদী অববাহিকায় নয়টি দেশের ৭০ লাখ বর্গকিলোমিটারে বিস্তৃত এ বনাঞ্চল থেকে পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন উৎপাদিত হয়। এ কারণে একে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়। এ ছাড়া সেখানে প্রায় ১৬ হাজার প্রজাতির ৩৯ হাজার কোটি বৃক্ষ, ৪৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড়, ৪২৮ প্রজাতির উভচর, ৩৭৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তিন হাজার প্রজাতির মাছ ও জলজপ্রাণী রয়েছে। পৃথিবীর আর কোনো বনে এত বেশি প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য নেই।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/ এনএল