আসাদ ও জেলেনস্কি সৌদি আরবে

আরব শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সৌদি আরব এসেছেন বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরব থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে,সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ শুক্রবার আরব শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সৌদি আরব রয়েছেন। সেখানে বাশার আল-আসাদ সেই সব নেতাদের সঙ্গে পাশাপাশি বসবেন, যারা বছরের পর বছর ধরে তাকে এড়িয়ে চলছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির বিরোধিতা সত্বেও এটা বড় ধরণের নীতি পরিবর্তন।

২০১১ সালে তার শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলে কঠোর বলপ্রয়োগে বিক্ষোভ দমন এবং পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে বেশিরভাগ আরব রাষ্ট্র আসাদ সরকারের সাথে সম্পর্ক চ্ছিন্ন করে। সেই গৃহযুদ্ধে সাড়ে তিন লাখ মানুষ নিহত হয়।এই ব্লকে তার সরকারের পুনঃপ্রবেশ এই সংকেত দেয় যে আসাদের বিচ্ছিন্নতার অবসান হচ্ছে।

হাস্যোজ্জ্বল আসাদ বৃহস্পতিবার স্বাগতিক শহর জেদ্দায় পৌঁছালে, মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স বদর বিন সুলতান এবং আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত তাকে স্বাগত জানান। অন্যান্য সিরীয় কর্মকর্তাদেরসহ আসাদকে সুরক্ষা প্রহরায় রয়্যাল টার্মিনালের অভ্যর্থনা হলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রিন্স বদর এবং আবুল ঘেইত সাথে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অভ্যর্থনা হলের দেয়ালে টাঙানো ছিলো সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ, বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশাল প্রতিকৃতি।

শুক্রবার শেষ বেলায়, অন্য আরব নেতাদের সাথে আসাদ শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের একটি দ্বিদলীয় গ্রুপ গত সপ্তাহে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসাদকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়া ঠেকাতে এবং ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা বাড়াতে একটি বিল উত্থাপন করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিও এক আকস্মিক সফরে সৌদি আরব এসেছেন। তিনিও আরব লীগ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করবেন। এই শীর্ষ সম্মেলনে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদও উপস্থিত রয়েছেন।

অঘোষিত এই সফরটি, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোর ইউক্রেন আক্রমণের পর, জেলেন্সকির প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। এই সফর ইউক্রেনের এই নেতাকে এই অঞ্চলের নেতাদের কাছে বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে।দৃঢ় সমর্থক পশ্চিমা মিত্রদের তুলনায়, এই অঞ্চলের নেতারা কিয়েভের প্রতি সমর্থনে খুবই কম ঐক্যবদ্ধ।

আসাদের উপস্থিত হওয়ার একদিন পর লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর জেদ্দায় পৌঁছান জেলেন্সকি। ২০১১ সালের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের কারণে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে, আরবলীগে সিরিয়ার সদস্যতা স্থগিত হয়। এর পর এবার আবার আসাদ সরকারকে আরব লীগে যুক্ত করা হচ্ছে।

সৌদি আরবে শীর্ষ সম্মেলন এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশটি মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরে তাদের কূটনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করছে।

আরব লীগের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, জেলেন্সকিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে; আরব লীগের পক্ষ থেকে নয়। মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে সৌদি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি।

দোহা সিরিয়ায় “যুদ্ধাপরাধের” জন্য জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছে। তবে আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-সানি এই শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের প্রত্যাশা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

আরব লীগের রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ মানজলাভি বুধবার আশরক আল-আওসাত সংবাদপত্রে লিখেছেন, আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে, মধ্যপ্রাচ্য যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে, তার বাইরেও, ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং “বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট” এর মতো বিষয়গুলোকে আমলে নেয়া উচিত।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »