প্রচণ্ড তাপদাহের কবলে বাংলাদেশ

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠেছে

বাংলাদেশ ডেস্কঃ বৈশাখ মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন শুভ বাংলা নববর্ষে দেশে তীব্র তাপদাহ চলছে। দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলেই গরমে জীবন ওষ্ঠাগত। কয়েকটি এলাকায় চলছে তীব্র দাবদাহ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশটির বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ আর গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। এ আবহাওয়ায়, দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও আবার হালকা কুয়াশা দেখা যাচ্ছে ভোরের দিকে।

ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠেছে। রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তামপাত্রা ছিলো ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস চুয়াডাঙ্গা জেলায়।

দেশের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে তাপমাত্রার এমন পরিবর্তন বাংলাদেশে। স্থানীয় প্রভাবের মধ্যে রয়েছে জলাশয় ধ্বংস ও বন উজাড়। বায়ুদূষণও তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানান তারা।

শুক্রবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এনিয়ে টানা ১৩ দিন সেখানে তাপদাহ প্রবাহিত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। অর্থাৎ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে গেছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে,এই টানা তাপপ্রবাহে চুয়াডাঙ্গায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা-ঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে। তবে, অনেককে জরুরি প্রয়োজন ও জীবন-জীবিকার তাগিদে দাবদাহ উপেক্ষা করে বাইরে বের হতে হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। জেলা সদরের হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বেড়েছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীর সংখ্যা।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়। যা ছিলো দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এরপর থেকে পর্যন্ত একটানা ১৩দিন ধরে চলছে তাপপ্রবাহ।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্র মতে, চুয়াডঙ্গায় গত ৩ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৪ এপ্রিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৫ এপ্রিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৬ এপ্রিল ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৭ এপ্রিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৮ এপ্রিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৯ এপ্রিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১০ এপ্রিল ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১১ এপ্রিল অর্থাৎ গত মঙ্গলবার ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১২ এপ্রিল ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৩ এপ্রিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ১৪ এপ্রিল (শুক্রবার) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আজ (১৪ এপ্রিল) দুপুর ৩টায় বাংলাদেশের ও এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়েছে।” “আপাতত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, ফলে এই তাপমাত্রা আরো বাড়বে;” জানান ইনচার্জ জামিনুর রহমান।

তথ্যসূত্র: বিভিন্ন বাংলা সংবাদ মাধ্যম

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »