ফরাসি আশ্রয় ও অভিবাসন নতুন বিলটি বর্তমানে ফরাসি সিনেটে পর্যালোচনাধীন রয়েছে
ইউরোপ ডেস্কঃ গত শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এই বিলের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শত শত মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান প্রতিকূল পরিবেশের নিন্দা জানিয়েছেন।
ইউরোপের অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টস জানিয়েছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা যে সমস্ত প্লাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তার মধ্যে অন্যতম ওকিউটিএফ নোটিশ’, ‘প্রেফেকচুর’, ‘দারমানা আইন’ নিয়ে আমরা বিরক্ত! ‘বৈধতা দাও’, সীমান্ত খুলে ‘দাও’ ইত্যাদি।
২০০৬ সালের সম্মিলিত প্লাটফর্মের আহ্বান এই প্রতিবাদ সমাবশ হয়েছে। সে সময় তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ফ্রান্সে বিদেশিদের প্রবেশ ও বাসস্থান বিষয়ক আইন সংস্কারের প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল অভিবাসীদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় এই সংগঠন। ২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ সমর্থিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারামানার অভিবাসন আইন নিয়েও মাঠে নেমেছে বহু এনজিও ও অভিবাসন সংস্থা।
ইনফোমাইগ্রেন্টস আরও জানান, এই বিক্ষোভ মিছিলে আসা অনেকেই ফ্রান্সের প্রশাসনিক আটককেন্দ্র বা ডিটেনশন সেন্টাররগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে ‘উদ্বিগ্ন’ অবস্থায় আছে অনিয়মিত অভিবাসীরা।.এমনই একজন অভিবাসী মুসা ত্রারোরে। তিনি বিশ্বাস করেন, তার কোনো অধিকার নেই। আফ্রিকার দেশ মালি থেকে আসা অনিয়মিত অভিবাসী মুসা ত্রারোরে নতুন আইন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
তার পাশেই আছেন ফুড ডেলিভারি বা খাদ্য বিতরণের প্ল্যাটফর্মের ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করা আফ্রিকান অভিবাসী কোফি। তিনি অনুশোচনা করে বলেন, নতুন অভিবাসন বিলে সংকটে থাকা পেশাগুলোর জন্য যে বিশেষ রেসিডেন্স পারমিট দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেই তালিকায় আমার পেশা নেই। এটি দুঃখজনক।
২০১৮ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাসকারী মালির এই অনিয়মিত অভিবাসী বলেন, “কোনো অধিকার ও সুযোগ না থাকলেও আমি প্রতিদিন কাজ করি। করোনা মহামারীর সময় যখন সবাই যার যার বাসায় বন্দি ছিল তখন আমরা কাজ করেছি। ফরাসিদের জন্য সবকিছু দিয়েছি।”
ট্রেড ইউনিয়ন, সংস্থা ও এনজিওগুলোর ‘ক্ষোভ’ অনথিভুক্ত অভিবাসীরা ছাড়াও নতুন আইনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, এনজিও এবং অভিবাসন সংস্থাগুলও। শনিবাররে বিক্ষোভে লা সিমাদ, হিউম্যান রাইটস লিগ, আইনজীবী ইউনিয়ন এবং অন্যান্য সংগঠনগুলো অংশ নেন। সলিডারিটি মার্চ নামক সংস্থার সদস্য মাথেও পাস্তুরের মতে, সকলের এই আইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কারণ এটি প্রত্যেক বিদেশির জন্য দুশ্চিন্তা তৈরি করে।”
নতুন বিলে প্রস্তাবিল বিলের আর্টিকেল ৩-এ ‘মেতিয়ের অঁ তনসিওঁ’ বা গুরুতর শ্রমিক সংকটে থাকা সেক্টরগুলোর আওতায় বৈধতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এই নিয়মিতকরণের বিষয়ে ফ্রান্সের ট্রেড ইউনিয়ন সিন্ডিকেট সুদের সদস্য সিবেল দাভিড বলেন, “আমরা সমস্ত অনিয়মিত অভিবাসী কর্মীদের জন্য একটি পূর্ণ আবাসনের অনুমতি দাবি করছি৷”
অনথিভুক্ত অভিবাসীদের কাজের অবস্থাকে “আধুনিক দাসত্বের” সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, “মূলত কাজের পরিবেশ উন্নয়নের শর্ত ছাড়াই বৈধতার পর অভিবাসীরা কঠিন কাজ করার অনুমতি পাবে। উপরন্তু, যদি কেউ চাকরি পরিবর্তন করে বা একটি কোম্পানিতে চলে যাই সেক্ষেত্রে রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।”
আশ্রয়ের আবেদনের নিয়ে কাজ করা ফ্রান্সের আইনজীবীদের সিন্ডিকেট ফরেনার্স কমিশনের আইনজীবী ও সহ-সভাপতি ওরিয়ান আন্দ্রেনি নতুন বিল নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “নতুন বিলটি আশ্রয়প্রার্থীদের স্বার্থ এবং মানসম্মত বিচারের জন্য ক্ষতিকর হবে। খসড়া আইনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয় আদালতে একক বিচারকের অধীনে আবেদনের আপিল শুনানির বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।”
ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর সদস্য রাখার গুরুত্বের উপর জোর দেন। গত শনিবার প্যারিস ছাড়াও ফ্রান্সের বোর্দো, তুলুজ, পেরপেনিও, নন্সিসহ বিভিন্ন শহরে একই দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর