জার্মানির মধ্য-ডান জোট (সিডিইউ/সিএসইইউ) ফেডারেল সরকারকে অনিয়মিত অভিবাসন সীমিত করতে এবং দেশে শরণার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির মাঝে তথাকথিত “নিরাপদ” দেশের সংখ্যা বাড়াতে বলেছিল
ইউরোপ ডেস্কঃ ইউরোপের অভিবাসন সংক্রান্ত অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টস জানায়,জার্মানির মধ্য-ডান জোট অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশের গতি কমাতে এবং আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং নির্বাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বলেছে। ইতালির উপকূলে সত্তরের কাছাকাছি অভিবাসীর প্রাণ হারানোর পর এই ধরনের দাবি করার জন্য সিডিইউ/সিএসইইউ সংসদীয় গোষ্ঠীর সমালোচনা করেন এক রাজনীতিবিদ। অবশ্য প্রস্তাবটি জার্মানির পার্লামেন্টে সম্প্রতি এসপিডি, গ্রিনস, এফডিপি এবং বাম দলের ভোটে নাকচ হয়ে যায়।
সিডিইউ দলের রাজনীতিবিদ এবং সংসদ সদস্য থোর্স্টান ফ্রাই ক্ষমতাসীন সরকারি জোটের সমালোচনা করেছেন৷ তার দাবি, সরকার এমন লোকদের সাহায্য করছে, যাদের পরিচয় জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদে থাকার জন্য স্পষ্ট নয়। ফ্রাই বলেন, দেশের শরণার্থী নীতি ভুল সংকেত দিচ্ছে: “যে একবার জার্মানিতে এসেছে সেও এখানে থাকতে পারে।”
গত রোববার ৬০ জনেরও বেশি অভিবাসী ইতালি উপকূলে প্রাণ হারানোর পরপরই সিডিইউ/সিএসইউ পার্লামেন্টারি গ্রুপ এই বিষয়টি উত্থাপন করে৷ এসপিডি পার্টির সদস্য হেলগে লিন্ড এই প্রসঙ্গে এসপিডির নিন্দা করেন। প্রাক্তন সিডিইউ চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সরকারের অভিবাসন নীতিকে “বিপর্যয়” বলে উল্লেখ করেছেন চরম-ডানপন্থি এএফডি জাতীয়তাবাদী দলের সংসদীয় সেক্রেটারি বার্ন্ড বাউমান।
আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাসনকে ত্বরান্বিত করতে টিউনিশিয়া, মরক্কো, আলজেরিয়া এবং জর্জিয়াকে নিরাপদ দেশ (সেফ কান্ট্রি অফ অরিজিন) হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করার প্রস্তাব বুন্দেসরাতের বিরোধিতার কারণে মার্কেলের কার্যকালে ব্যর্থ হয়। সেফ কান্ট্রি অফ অরিজিন হলো এমন দেশ যেখানে রাজনৈতিক নিপীড়ন বা অমানবিক শাস্তি বা অবমাননাকর আচরণের কথা অন্তত আইনে বলা নেই। যার ফলে এসব দেশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় আবেদনের বিপরীতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রদানের হার অনেকটাই কমে আসে।
২০২২ সালে, ফেডারেল পুলিশ জার্মানিতে প্রায় ৯২ হাজার অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশ নথিভুক্ত করেছে, যা আগের তিন বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজিস অনুসারে, দুই লাখ ১৭ হাজার ৭৭৪ জন আশ্রয়প্রার্থী ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো আশ্রয় আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে৷ ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ সংখ্যাও এটি।
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে জার্মানি প্রায় ২৯ হাজার আশ্রয় আবেদন নথিভুক্ত করেছে। যাদের সবাই প্রথমবারের মতো জার্মানিতে আশ্রয় আবেদন করেছেন৷ এসব আশ্রয়প্রার্থীদের বেশিরভাগ সিরিয়া, আফগানিস্তান, তুরস্ক, ইরান ও ইরাক থেকে এসেছেন। ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা ইইউর নির্দেশে বিশেষ সুরক্ষা পান। তাদের আশ্রয়ের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করার প্রয়োজন নেই এবং অবিলম্বে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। ইউক্রেনীয় এবং অ-ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের প্রতি আচরণের পার্থক্যে অনেক এনজিও ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি রীতিমতো ক্ষুব্ধ ৷
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস