ভিয়েনা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হলেন যারা পুলিশ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা দেবে ইউনেস্কো ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯, গেজেট কাল তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে বাজেট অনুমোদন ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ BDOAA অলিম্পিয়াডে মাভাবিপ্রবি’র সাফল্য: ভাইস- চ্যান্সেলরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে সৌদি আরবে উপসাগরীয় নেতাদের বৈঠক

৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ কুমিল্লা পাক হানাদার মুক্ত হয়

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০২:২১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২
  • ৬৬ সময় দেখুন

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাক সেনাদের কুমিল্লা বিমান বন্দর ঘাঁটির পতনের পর মুক্ত হয় কুমিল্লা

 কবির আহমেদ, ভিয়েনাঃ কুমিল্লা মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাক হানাদার মুক্ত হয় কুমিল্লা। বাংলার বীর সন্তানদের দাপটে পিছু হটে পালায় পাকিস্তান বাহিনী। ভোর হতেই কুমিল্লার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে মুক্তিকামী মানুষের মিছিলে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনীর চুড়ান্ত অভিযান শুরু হয়। বিবির বাজার, কটক বাজার, নিশ্চিন্তপুর, চৌদ্দগ্রাম, বেলুনিয়া, ইটাল্লা ও মাঝিগাছা, সদর দক্ষিণের বিশ্বরোড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে পিছু হটে। ২৮ নভেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদিঘী এলাকা প্রথম মুক্ত হলে কুমিল্লা বিমান বন্দরের ঘাঁটি থেকে শহরসহ পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালায়। পরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাক সেনাদের বিমান বন্দরের ঘাঁটির পতনের পর ৮ ডিসেম্বর প্রত্যুষে কুমিল্লা শহরকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লা জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিউল আহমেদ বাবুল বলেন, ৮ ডিসেম্বর ভোর রাতে গেরিলা দল কুমিল্লায় প্রবেশ করে বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা জন্য কুমিল্লার বালুতুপায় এসে অপেক্ষা করতে থাকে। বালুতুপা থেকে ৮ মাইল দূরে পাকসেনারা বাংকার ডিফেন্স নিয়েছিলো। নবম বেঙ্গলের সেনা অল্প সংখ্যক হওয়ায় তারা পাকিস্তানিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি, পাকিস্তানি সেনাদের পিছনের দিক দিয়ে ৬ ডিসেম্বর কুমিল্লা শহরে প্রবেশ করে। শিখজাট ব্যাটালিয়ন বিমান বন্দর আক্রমণ করে ৬ ডিসেম্বর রাতে। রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ হয় সেখানে। এই আক্রমণে শিখজাট ও মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন আহত ও নিহত হয়। পাকসেনারা বিমান বন্দর ছেড়ে চলে যায়। মূলত এর মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় কুমিল্লা শহর। ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা শহরে জয়বাংলা ধ্বনি দিয়ে প্রবেশ করে শহরের সকল স্তরের মানুষ স্বাধীন বাংলার পতাকা নিয়ে আনন্দে উল্লাসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করে নেয়। স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা উড়ে কুমিল্লার সার্কিট হাউজ, কালেক্টরেট ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। বিজয় মিছিল এবং শ্লোগানে সমস্ত শহর মুখরিত হয়ে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। সে এক অপূর্ব দৃশ্য! বিজয়ের কি যে আনন্দ!।

প্রতি বছরের ন্যায়ে এবারও কুমিল্লায় আজ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালিত হছে কুমিল্লা মুক্ত দিবস । দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় নগর উদ্যান সংলগ্ন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য  আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা, জেলা প্রশাসক মো. মোহাম্মাদ কামরুল হাসান ও পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জেলা প্রশাসন ছাড়াও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা পরিষদ, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলাপুলিশ, এলজিইডি, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযথ ভাবে দিবসটি পালন করেন।

বিকাল ৫টায় মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ বীরাঙ্গণা ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে টাউন হল প্রাঙ্গণে শিখা প্রজ্জ্বলন ও সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা(বাসস)

বি/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হলেন যারা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ কুমিল্লা পাক হানাদার মুক্ত হয়

আপডেটের সময় ০২:২১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাক সেনাদের কুমিল্লা বিমান বন্দর ঘাঁটির পতনের পর মুক্ত হয় কুমিল্লা

 কবির আহমেদ, ভিয়েনাঃ কুমিল্লা মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাক হানাদার মুক্ত হয় কুমিল্লা। বাংলার বীর সন্তানদের দাপটে পিছু হটে পালায় পাকিস্তান বাহিনী। ভোর হতেই কুমিল্লার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে মুক্তিকামী মানুষের মিছিলে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনীর চুড়ান্ত অভিযান শুরু হয়। বিবির বাজার, কটক বাজার, নিশ্চিন্তপুর, চৌদ্দগ্রাম, বেলুনিয়া, ইটাল্লা ও মাঝিগাছা, সদর দক্ষিণের বিশ্বরোড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে পিছু হটে। ২৮ নভেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদিঘী এলাকা প্রথম মুক্ত হলে কুমিল্লা বিমান বন্দরের ঘাঁটি থেকে শহরসহ পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালায়। পরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাক সেনাদের বিমান বন্দরের ঘাঁটির পতনের পর ৮ ডিসেম্বর প্রত্যুষে কুমিল্লা শহরকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লা জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিউল আহমেদ বাবুল বলেন, ৮ ডিসেম্বর ভোর রাতে গেরিলা দল কুমিল্লায় প্রবেশ করে বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা জন্য কুমিল্লার বালুতুপায় এসে অপেক্ষা করতে থাকে। বালুতুপা থেকে ৮ মাইল দূরে পাকসেনারা বাংকার ডিফেন্স নিয়েছিলো। নবম বেঙ্গলের সেনা অল্প সংখ্যক হওয়ায় তারা পাকিস্তানিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি, পাকিস্তানি সেনাদের পিছনের দিক দিয়ে ৬ ডিসেম্বর কুমিল্লা শহরে প্রবেশ করে। শিখজাট ব্যাটালিয়ন বিমান বন্দর আক্রমণ করে ৬ ডিসেম্বর রাতে। রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ হয় সেখানে। এই আক্রমণে শিখজাট ও মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন আহত ও নিহত হয়। পাকসেনারা বিমান বন্দর ছেড়ে চলে যায়। মূলত এর মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় কুমিল্লা শহর। ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা শহরে জয়বাংলা ধ্বনি দিয়ে প্রবেশ করে শহরের সকল স্তরের মানুষ স্বাধীন বাংলার পতাকা নিয়ে আনন্দে উল্লাসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করে নেয়। স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা উড়ে কুমিল্লার সার্কিট হাউজ, কালেক্টরেট ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। বিজয় মিছিল এবং শ্লোগানে সমস্ত শহর মুখরিত হয়ে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। সে এক অপূর্ব দৃশ্য! বিজয়ের কি যে আনন্দ!।

প্রতি বছরের ন্যায়ে এবারও কুমিল্লায় আজ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালিত হছে কুমিল্লা মুক্ত দিবস । দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় নগর উদ্যান সংলগ্ন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য  আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা, জেলা প্রশাসক মো. মোহাম্মাদ কামরুল হাসান ও পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জেলা প্রশাসন ছাড়াও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা পরিষদ, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলাপুলিশ, এলজিইডি, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযথ ভাবে দিবসটি পালন করেন।

বিকাল ৫টায় মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ বীরাঙ্গণা ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে টাউন হল প্রাঙ্গণে শিখা প্রজ্জ্বলন ও সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা(বাসস)

বি/ইবিটাইমস