ভিয়েনা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দায়িত্ব হস্তান্তরে একরাত সময় চেয়েও পেলেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কেড়ে নেওয়া হলো চাবি লালমোহনে ‘লাস্ট ড্রেস বাই শওকত’ এর উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের জন্য দাপন কাপনের সামগ্রী বিতরণ লালমোহনে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের মতবিনিময় সভা মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ তোফায়েল আহমেদ আর নেই খসড়া প্রস্তাবে ১২শ’ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের দাবি ইরানের : রাষ্ট্রীয় টিভি চুক্তি না হলে আবারও ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র শেষ হলো হজের আনুষ্ঠানিকতা, আজ রাতেই শুরু হচ্ছে ফিরতি ফ্লাইট শাহাদাত বার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা লালমোহনে পাকা সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

মেঘনা ও তেতুলিয়াতে ফের দেখা দিয়েছে ইলিশ সংকট, জেলেরা হতাশ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:২৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২
  • ৭০ সময় দেখুন

মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী থেকে জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে, নদীতে পলি জমে বাধাগ্রস্ত ইলিশের গতিপথ

ভোলা প্রতিনিধিঃ দ্বীপজেলা ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ফের দেখা দিয়েছে ইলিশ সংকট। এতে চরম সংকটে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা।
সারাদিন জাল বেয়েও কাঙ্খিত পরিমান ইলিশ না পেয়ে হতাশ তারা। যে কারনে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা।

মৎস্যবিভাগ জানায়, নদীতে পলি জমে থাকায় ভরাট হয়ে গেটে নদীর তলদেশ। কোথায় আবার ডুবোচর জেগে উঠেছে, তাই  সাগর থেকে নদীতে আসতে পারছে না ইলিশ। বাধা পেয়ে তারা দিক পরিবর্তন করছে, তাই উপকূলে নেই ইলিশ।  যে কারনে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলেরা।

উপকূলের বিভিন্ন মাছ ঘাট ঘুরে জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  ইলিশের প্রধান প্রজনন সময়ে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত  ২৮ অক্টোবর থেকে নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা শুরু হয়।এরপর থেকে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। কিন্তু সে ধারাবাহিকতা ছিলনা বেশিদিন।  এখন ভিন্ন চিত্র।গত ১০/১১ দিন ধরে নদীতে দেখা নেই ইলিশের। সারাদিন জাল বেয়ে তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা।

লালমোহনের উপজেলার গজারিয়া খালগড়া মৎস্য ঘাটের জেলে আলী হোসেন ও  বেলায়েত হোসেন বলেন,  অবরোধের পর ভালো ইলিশ ধরা পড়তো, কিন্তু এখন অনেক কম। এতে আমাদের তেলের খরচ উঠছে না।

একই ঘাটের আড়ৎদার মোঃ ফারুক বলেন, নদীতে মাছ না থাকায় আড়ৎগুলো জিমিয়ে পড়েছে।তেমন কেনাবেচা হচ্ছে না। জেলেরা আমাদের মাছ দিতে পারছে না, আমরাও বিক্রি করতে পারছিনা।

চরফ্যাশন উপজেলার মৎস্য ঘাটের জেলে মফিজ ও মনির সহ অন্যরা জানান, বিগত সময় অবরোধের পর জেলেরা ঝাকে ঝাকে ইলিশ পেত, এখন সাত্র ২/৩ দিন ইলিশ ধরা পড়লেও এখন আর সে চিত্র নেই। তেলের খরচ না উঠায় অনেকেই অভিমানে নদী যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

আরেক জেলে হানিফ মাছি বলেন, ২ দিন আগে নদীতে গিয়ে ৩ হাজার টাকার তেল খরচ হয়েছে কিন্তু মিছ পেয়েছি ৭’শ টাকার।

মৎস্যবিভাগের হিসাবে, নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে গত ১৫ দিন ইলিশ আহরন হয়েছে মাত্র ৭৫০ মেট্রিক টন। তবে শুরুর ৩ দিনেই  যা ছিলো ২৬০ মেট্রিক টন। ইলিশের এমন অকাল দেখা দেয়ায় চিন্তিত মৎস্য বিভাগও। তারা বলছেন, মোহনায় পলি জমে ইলিশের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। এমন বাস্তবতায় ড্রেজিং জরুরি বলে মন্তব্য তারা।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্ল্যাহ। বলেন, মোহনায় পলি জমে থাকায় ইলিশ উপকূলের দিকে আসতে পারছে না, এমন অবস্থা  চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের আরও সংকট দেখা দিবে। তাই নদী খনন জরুরি।

তিনি আরও বলেব,এমন বাস্তবতায় ইলিশের লক্ষমাত্রা অর্জনে অনিশ্চিয়তার পাশাপাশি ইলিশ উৎপাদনও হুমকির মুখে বলে মনে করছেন।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস

দায়িত্ব হস্তান্তরে একরাত সময় চেয়েও পেলেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কেড়ে নেওয়া হলো চাবি

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

মেঘনা ও তেতুলিয়াতে ফের দেখা দিয়েছে ইলিশ সংকট, জেলেরা হতাশ

আপডেটের সময় ০৩:২৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২

মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী থেকে জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে, নদীতে পলি জমে বাধাগ্রস্ত ইলিশের গতিপথ

ভোলা প্রতিনিধিঃ দ্বীপজেলা ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ফের দেখা দিয়েছে ইলিশ সংকট। এতে চরম সংকটে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা।
সারাদিন জাল বেয়েও কাঙ্খিত পরিমান ইলিশ না পেয়ে হতাশ তারা। যে কারনে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা।

মৎস্যবিভাগ জানায়, নদীতে পলি জমে থাকায় ভরাট হয়ে গেটে নদীর তলদেশ। কোথায় আবার ডুবোচর জেগে উঠেছে, তাই  সাগর থেকে নদীতে আসতে পারছে না ইলিশ। বাধা পেয়ে তারা দিক পরিবর্তন করছে, তাই উপকূলে নেই ইলিশ।  যে কারনে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলেরা।

উপকূলের বিভিন্ন মাছ ঘাট ঘুরে জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  ইলিশের প্রধান প্রজনন সময়ে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত  ২৮ অক্টোবর থেকে নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা শুরু হয়।এরপর থেকে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। কিন্তু সে ধারাবাহিকতা ছিলনা বেশিদিন।  এখন ভিন্ন চিত্র।গত ১০/১১ দিন ধরে নদীতে দেখা নেই ইলিশের। সারাদিন জাল বেয়ে তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা।

লালমোহনের উপজেলার গজারিয়া খালগড়া মৎস্য ঘাটের জেলে আলী হোসেন ও  বেলায়েত হোসেন বলেন,  অবরোধের পর ভালো ইলিশ ধরা পড়তো, কিন্তু এখন অনেক কম। এতে আমাদের তেলের খরচ উঠছে না।

একই ঘাটের আড়ৎদার মোঃ ফারুক বলেন, নদীতে মাছ না থাকায় আড়ৎগুলো জিমিয়ে পড়েছে।তেমন কেনাবেচা হচ্ছে না। জেলেরা আমাদের মাছ দিতে পারছে না, আমরাও বিক্রি করতে পারছিনা।

চরফ্যাশন উপজেলার মৎস্য ঘাটের জেলে মফিজ ও মনির সহ অন্যরা জানান, বিগত সময় অবরোধের পর জেলেরা ঝাকে ঝাকে ইলিশ পেত, এখন সাত্র ২/৩ দিন ইলিশ ধরা পড়লেও এখন আর সে চিত্র নেই। তেলের খরচ না উঠায় অনেকেই অভিমানে নদী যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

আরেক জেলে হানিফ মাছি বলেন, ২ দিন আগে নদীতে গিয়ে ৩ হাজার টাকার তেল খরচ হয়েছে কিন্তু মিছ পেয়েছি ৭’শ টাকার।

মৎস্যবিভাগের হিসাবে, নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে গত ১৫ দিন ইলিশ আহরন হয়েছে মাত্র ৭৫০ মেট্রিক টন। তবে শুরুর ৩ দিনেই  যা ছিলো ২৬০ মেট্রিক টন। ইলিশের এমন অকাল দেখা দেয়ায় চিন্তিত মৎস্য বিভাগও। তারা বলছেন, মোহনায় পলি জমে ইলিশের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। এমন বাস্তবতায় ড্রেজিং জরুরি বলে মন্তব্য তারা।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্ল্যাহ। বলেন, মোহনায় পলি জমে থাকায় ইলিশ উপকূলের দিকে আসতে পারছে না, এমন অবস্থা  চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের আরও সংকট দেখা দিবে। তাই নদী খনন জরুরি।

তিনি আরও বলেব,এমন বাস্তবতায় ইলিশের লক্ষমাত্রা অর্জনে অনিশ্চিয়তার পাশাপাশি ইলিশ উৎপাদনও হুমকির মুখে বলে মনে করছেন।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস