যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ইউরোপ ডেস্কঃ বৃটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান ঋষি সুনাককে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের অনুমতি দিয়েছেন। বিবিসি ও ভয়েস অফ আমেরিকা জানিয়েছে ঋষি সুনাকের পূর্বসূরি প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস পদত্যাগ করার পর মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন ঋষি সুনাক।
লিজ ট্রাস বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ প্রস্তাব দিতে যাওয়ার আগে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। রাজা তৃতীয় চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে থাকেন। ট্রাস প্রাসাদ ত্যাগ করার সাথে সাথে সুনাক উপস্থিত হন এবং তাঁর সাথে সরাসরি সাক্ষাতের পর রাজা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান।
৪২ বছর বয়সী প্রাক্তন হেজ ফান্ড বস ঋষি সুনাক, যিনি মাত্র ৭ বছর ধরে নির্বাচনের রাজনীতিতে রয়েছেন,তাকে ওয়েস্টমিনস্টারে অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং কোন্দলের অবসান ঘটানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং কোন্দলের কারণে বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক মিত্ররা আতংকিত রয়েছেন। গত
২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সুনাক ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নেতা।
১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে তার নতুন সরকারি বাসভবনের বাইরে বক্তৃতা করার সময় সুনাক ট্রাসের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং বলেন যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ট্রাসের পরিকল্পনা ভুল ছিল না তবে তার কিছু ভুল হয়েছিল। তিনি বলেন “এবং আমি আমার দলের নেতা এবং আপনাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি সেগুলো ঠিক করার জন্য।”
সুনাক এখন তার মন্ত্রিসভা গঠন করা শুরু করবেন। কিছু রক্ষণশীল আইনপ্রনেতারা আশা করছেন, তিনি তার কনজারভেটিভ পার্টির সমস্ত শাখার রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করবেন। বরিস জনসন সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ব্রিটেনের সর্বোচ্চ পদের লড়াইতে একবার হেরে গিয়েছিলেন। এখন তিনি আবার সুযোগ পেয়েছেন সেই আসনে আসীন হওয়ার।
কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত হয়ে কনজারভেটিভ দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসন পদত্যাগ করার পর, তার স্থলাভিষিক্ত হবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিজ ট্রাসের কাছে হেরে যান ব্রিটেনের সাবেক এই অর্থমন্ত্রী। তবে, অশান্ত ৪৫ দিনের মেয়াদের পরই পদত্যাগ করেন ট্রাস। অপরদিকে, জনসনও ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রচেষ্টায় ক্ষান্ত দিয়েছেন।
এতে করে সবচেয়ে সামনে চলে আসেন সুনাক। কনজারভেটিভ দলের নেতা হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সোমবার জয়লাভ করেন তিনি। মাত্র দুইমাস আগে তিনি যেই দায়িত্বটি পাননি, সেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বই এবার গ্রহণ করেছেন সুনাক।
কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্বের লড়াইয়ে বিজয়, সুনাকের জন্য একধরণের সত্যায়নও বটে। গতবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়ে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, ট্রাসের করহ্রাসের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাটি বেপরোয়া এবং তা সর্বনাশ ডেকে আনবে। এবং ঠিক তাই হয়েছে।
ট্রাসের কর হ্রাসের পরিকল্পনা অর্থবাজারকে শঙ্কিত করে তুলে, পাউন্ডের ব্যাপক দরপতন ঘটায় এবং তার কর্তৃত্বকে ধুলিস্মাৎ করে ফেলে। এরপরই গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন ট্রাস।
শ্বেতাঙ্গ নন, ব্রিটেনের এমন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হবেন সুনাক। ব্রিটেনের প্রথম হিন্দু প্রধানমন্ত্রীও হলেন তিনি। অসাধারণ রাজনৈতিক প্রখরতা সম্পন্ন সুনাকের তারুণ্যদীপ্ত চেহারা, তার চৌকস স্যুট, এবং স্বভাবসুলভ, আত্মবিশ্বাসী আচরণের কারণে ব্রিটেনের গণমাধ্যম তাকে “ডিশি ঋষি” হিসেবে সম্বোধন করেছে।
১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের সাউদ্যাম্পটনে জন্ম হয় সুনাকের। তার পিতা-মাতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত, তবে তাদের দুইজনেরই জন্ম পূর্ব আফ্রিকায়। সুনাক এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা একজন ডাক্তার ও তার মা একজন ফার্মাসিস্ট। সুনাক বলেছেন যে, তিনি তার বাবা-মায়ের পরিশ্রমী হওয়ার নীতিটি নিয়ে বেড়ে উঠেছেন।
এদিকে এক বার্তায় যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক-কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমাদের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর (ঋষি সুনাক) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ।”
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অভিনন্দন পত্রে বলেন, “আমি বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে গ্রেট ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।” শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এর মূল; গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সহনশীলতার গভীরে নিহিত।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নে আমাদের দৃঢ় সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোপরি, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি- ব্রিটিশ প্রবাসীরা দুই দেশের উন্নয়নের জন্য সাধারণ সম্পদ হিসেবে কাজ করে।”শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে এ বছর বাংলাদেশ ও ব্রিটেন, কমনওয়েলথভুক্ত দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। অভিনন্দন পত্রে, ঋষি সুনাক-এর সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সাফল্য কামনা করেন শেখ হাসিনা।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস