ব্যুরো চীফ, অস্ট্রিয়াঃ যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ৫ নাম্বার ডিস্ট্রিক্ট হতে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক পার্টি সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন আগামী শুক্রবার এক সপ্তাহের ব্যক্তিগত সফরে অস্ট্রিয়া আসছেন।
জর্জিয়া রাজ্যের স্টেট সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান ব্যক্তিগত সফরে আগামী শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়া সফরে আসলেও তিনি অস্ট্রিয়ান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করবেন। তাছাড়াও তিনি এই সময়ের মধ্যে ইতালি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করবেন এবং উক্ত দেশ সমূহের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথেও বৈঠক করবেন। সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় দীর্ঘদিন যাবত বসবাসকারী প্রবাসী মাসুদুর রহমান মাসুদের খালাতো ভাই।
সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমানকে আগামী শনিবার (১ অক্টোবর) বিকাল পাচঁটায় অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী প্রবাসী কিশোরগঞ্জ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এক নাগরিক সম্বর্ধনা দেওয়া হবে। এই নাগরিক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অস্ট্রিয়া কিশোরগজ্ঞ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এই নাগরিক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন রাজধানী ভিয়েনার ২৩ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের পিপলস পার্টি অস্ট্রিয়ার (ÖVP) কাউন্সিলর বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি মাহমুদুর রহমান নয়ন।
স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র নিয়ে জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টা শহরে বসবাসকারী শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দনের বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায়। তাঁর আদি পুরুষের বাস কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচরে। রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার বাবার চাকরির সুবাদে তাঁর ছোটবেলা কাটে ঢাকায়। তাঁর বাবা শেখ নজিবর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ও আগরতলা জয়বাংলা যুবশিবিরের সুপারভাইজার ছিলেন।
শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন ১৯৮১ সালের ৭ জানুয়ারি একজন ছাত্র হিসাবে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া.রাজ্যের আটলান্টা শহরে আসেন। তিনি ১৯৯৫ সালে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও গ্লোবাল স্টাডিজ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। তারপর তিনি জর্জিয়া রাজ্যের ডেমোক্রেটিক রাজনীতির সাথে সক্রিয় হতে থাকেন। তিনি ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি একই সময়ে ন্যাশনাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক, সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ইত্যাদি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। এরপর তিনি নর্থ ক্যারোলিনায় ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া থেকে এমবিএ করেন।
শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্মেলনে দলের জাতীয় কমিটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে নিজেকে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এর আগে ২০১২ সালে তিনি জর্জিয়া রাজ্যের সাধারণ প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিনিধি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সর্বপ্রথম পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়াতে শিরোনাম হন। যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৫০টি স্টেট বা রাজ্য। জর্জিয়া তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি। সেখানকার আইনসভায় সিনেটরের পদ রয়েছে ৫৬টি। জর্জিয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সিনেটর নির্বাচিত হন এবং স্টেটটির প্রথম মুসলিম আইন প্রণেতাও নির্বাচিত হন তিনি। তাছাড়াও জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক কমিটির একজন সদস্য হিসাবে মনোনীত হন।
স্টেট সিনেটর চন্দনের বাবা নজিবুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। চন্দন গর্ববোধ করেন মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান হিসেবে। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন। অনেক দূরে থেকেও দেশের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা। চন্দন আরও বলেন, ‘আমি আমেরিকায় যত ভালো ভূমিকা রাখব, ততই দেশের নাম উজ্জ্বল হবে। বাংলাদেশই আমার পরিচয়।’ সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দনের মা ৯৩ বছর বয়স নিয়ে এখনও জীবিত আছেন। তিনি দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশে তাঁর মায়ের সাথে দেখা করে গেছেন।
স্টেট সিনেটে লড়াইয়ে নামার অনেক আগে থেকেই শেখ রহমান নিজেকে ডেমোক্রেট পার্টির নেতা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অনেক কাজ করেছেন। এ কারণেই তিনি জাতীয় পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু তা-ই নয়, শেখ রহমান বর্তমানে ডেমোক্রেটিক দলের স্থায়ী সুপার ডেলিগেট হিসেবে দলটির নীতিনির্ধারণী বিষয়েও ভূমিকা রাখছেন।
২০২০ সালের ২২ মে শেখ রহমান জর্জিয়ার সিনেট আসন ডিস্ট্রিক্ট ৫-এর ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়ে চূড়ান্ত নির্বাচনের পথে এগিয়ে যান। পরে ৬ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ধরাশায়ী করেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সাথে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া রাজ্যের স্টেট সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন বলেছিলেন, ‘আমার এই জয় আরো বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি আমেরিকানকে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে টেনে আনবে, বিশেষ করে তরুণদের। একজন আমেরিকান হিসেবে আমার নির্বাচনী এলাকার সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। ভোটাররা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে তার প্রতিদান দিতে চাই।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস