দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপের ওপর দিয়ে চলমান সাহারা মরুভূমির তাপদাহ বর্তমানে মধ্য ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার ওপর দিয়েও প্রবাহিত হচ্ছে
ইউরোপ ডেস্কঃ বর্তমান চলমান সাহারা মরুভূমির তাপদাহে দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপের অনেক দেশেই তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে গেছে। এরই মধ্যে শীত প্রধান মধ্য ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার দেশ অস্ট্রিয়ায় গতকাল বুধবার (২০ জুলাই) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার আবহাওয়া অফিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করার হয় পশ্চিমের রাজ্য Tirol এর রাজধানী Innsbruck এ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরেই ছিল লোয়ার অস্ট্রিয়া (NÖ) রাজ্যের “ব্যাড ডয়েচ-আল্টেনবার্গে” ৩৬,৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সুইজারল্যান্ড সংলগ্ন Vorarlberg রাজ্যের ফেল্ডকির্চে ৩৬,৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ভিয়েনার তাপমাত্রা গতকাল রেকর্ড করা হয় এই বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ইউরোপের বর্তমান তাপদাহে এই পর্যন্ত প্রায় ১১০০ শতের ওপরে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অস্ট্রিয়ার প্রতিবেশী দেশ ইতালির Trieste এবং Grado এ প্রচণ্ড তাপদাহে জঙ্গলে আগুন লাগার কারণে অনেক হাইওয়ে বন্ধ রয়েছে বলে ইতালির সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
ইতালির অবকাশ যাবনের প্রসিদ্ধ আড্রিয়াটিক সমুদ্র সৈকতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে । ফলে অস্ট্রিয়া থেকে যাওয়া পর্যটকদের অনেকেই তাদের অবকাশ সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফেরত আসছে। অস্ট্রিয়ান ছাড়াও ইতালির এই অবকাশ স্বর্গে অবস্থানকারী অন্যান্য দেশের অবকাশ যাপনকারীরাও ভয় পাচ্ছে।
৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা হওয়ার কারনে দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপের অনেক দেশেই বনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে পর্তুগাল, স্পেন, গ্রীস, ফ্রান্স এবং গ্রেট ব্রিটেনের আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে।
অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে অস্ট্রিয়ার দক্ষিণের রাজ্য Kärnten এর সীমান্তবর্তী ইতালীয় অঞ্চল ফ্রিউলি-ভেনিজিয়া গিউলিয়ায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন আগুন লাগার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
ইতালির ট্রিস্টের দিকের A4 মোটরওয়েটি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, ভেনিস থেকে ট্রিস্টে পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল, গ্র্যাডোর মতো ছুটির রিসোর্টগুলি সংক্ষিপ্তভাবে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।
এদিকে বিবিসি জানায়,বৃটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই গরমের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাটকীয় ধারণ করেছে। লিঙ্কনশায়ারের ইস্টার্ন ইংলিশ কাউন্টিতে গতকাল তাপমাত্রা ৪০,৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পরিমাপ করা হয়েছিল এবং প্রচণ্ড গরমে পূর্ব লন্ডনে দুটি বড় দাবানল হয়েছিল। ফরাসি আটলান্টিক উপকূলেও বড় দাবানল জ্বলছে এবং বুধবারও তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
লন্ডনে অধ্যায়নরত একজন অস্ট্রিয়ান ছাত্র অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যমের সাথে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহ গরমের জন্য এখন “লন্ডন অনেকটাই খালি এবং গরমের দিনগুলি বাহিরের অবস্থা ভয়ঙ্কর।
তিনি আরও জানান,”গত কয়েক দিনের এই গরম ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। এটি একটি দুঃস্বপ্নের মত, ব্রিটিশরা কখনও এই রকম তাপমাত্রা অনুভব করেনি। গতকাল মধ্য লন্ডনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। ফলে শহরটি খালি ছিল, যেন নির্জন। পার্কে কেউ নেই, অফিসে কেউ নেই, কেউ আর কাজে যায়নি। অনেকটাই একেবারে ভুতের নগরীর মত।
লন্ডনের সুপারমার্কেটগুলিতে আর কোনও তাজা ফল খুঁজে পাওয়া যায়নি কারণ কুলিং সিস্টেমগুলি রেকর্ড মানগুলির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি বা এটি কেবল সুপারমার্কেট অপারেটরকে খুব বেশি অর্থ ব্যয় করে। একটি পাখাও ফুঁকছিল না, একেবারে বাতাস ছিল না, এবং সূর্য ক্রমাগত শহরের ওপরে তার দীপ্ত কিরণ দিয়ে যাচ্ছিল। তাই অতি জরুরী কাজ ছাড়া কেউ আর ঘর থেকে বের হয় নি।
এদিকে অস্ট্রিয়ার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ২১ শে জুলাই অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালার পশ্চিম এবং পূর্ব প্রান্ত (আরও স্থিতিশীল এবং শুষ্ক বায়ুর ভর এখানে সংরক্ষণ করা হয়) বাদে প্রায় সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। পূর্ব টিরল থেকে পশ্চিম উচ্চ স্টারিয়া পর্যন্ত সবচেয়ে সহিংস উন্নয়ন প্রত্যাশিত। পরবর্তী কোর্সে, আরও পূর্বে (হলুদ এলাকা), পৃথক কোষগুলিও সম্ভবের রাজ্যের মধ্যে রয়েছে।
তবে সেখানকার বেশিরভাগই অঞ্চলেই শুকনো ধরণের আবহাওয়া বিরাজমান থাকবে। তাছাড়াও শক্তিশালী বজ্রঝড়েরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে মুহলভিয়েরটেল এবং ভাল্ডভিয়েরটেলে। পূর্ব টিরল(Lienz থেকে পশ্চিম উচ্চ স্টাইরিয়া পর্যন্ত বজ্রঝড় থেকে উচ্চ মেঘের বিকিরণের কারণে, বিকেলে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস