বাংলাদেশ ডেস্ক থেকে রিপন শানঃ বাংলাদেশের বিদগ্ধ লেখক সাহিত্যিক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর আজ ২৪ জুন জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের এইদিনে জন্মগ্রহণ করেন সমাজ অধ্যয়ন কেন্দ্রের কর্ণধার ও প্রগতিধারার পত্রিকা নতুন দিগন্ত সম্পাদক সবার প্রিয় sic sir. জন্মদিনের এই মহতিক্ষণে তাঁকে সশ্রদ্ধ পুষ্পাঞ্জলি বাংলাদেশের লেখক সমাজের তরফ থেকে।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাকস্বাধীনতা, মানবিক অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক আন্দোলনের পুরোধা। তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেন। স্বাধীনতার পরে বাংলা প্রবন্ধসাহিত্য যাঁদের নিরলস অবদানে সমৃদ্ধ, তিনি তাঁদেরই অন্যতম। সাম্যবাদ চেতনায় উদ্বুদ্ধ, প্রগতিশীল ও মুক্তমনা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ‘নতুন দিগন্ত’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ১৯৮০’র দশকে ‘গাছপাথর’ ছদ্মনামে তিনি দৈনিক সংবাদ-এ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে ‘সময় বহিয়া যায়’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখেও বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম হাফিজ উদ্দিন চৌধুরী ও মা আসিয়া খাতুন। বাবার চাকরিসূত্রে তাঁর শৈশব কেটেছে রাজশাহীতে ও কলকাতায়। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি স্কুল, নটরডেম কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চতর গবেষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের লীডস বিশ্ববিদ্যালয় এবং লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৫৭ সালে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কর্তৃক তিনি দুইবার উপাচার্য হওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। সম্পাদনা করেছেন- পরিক্রমা, সাহিত্যপত্র, সচিত্র সময়, সাপ্তাহিক সময়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকা, ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টাডিস প্রভৃতি। তাঁর সম্পাদনায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে সাহিত্য-সংস্কৃতির পত্রিকা ‘নতুন দিগন্ত’। নতুন দিগন্ত প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার মানুষের লেখালেখির জন্য পরিচিত। ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রবন্ধ-গবেষণা : আম্বেষণ (১৯৬৪), Introducing Nazrul Islam (১৯৬৫), দ্বিতীয় ভুবন (১৯৭৩), নিরাশ্রয় গৃহী (১৯৭৩), আরণ্যক দৃশ্যাবলী (১৯৭৪), অনতিক্রান্ত বৃত্ত (১৯৭৪), The Moral Imagination of Joseph Conrad (১৯৭৪), প্রতিক্রিয়াশীলতা, আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যে(১৯৭৫), শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ (১৯৭৫), The Enemy Territory (১৯৭৬), আমার পিতার মুখ (১৯৭৬), বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক (১৯৭৬), কুমুর বন্ধন (১৯৭৭), উপরকাঠামোর ভেতরই (১৯৭৭), বেকনের মৌমাছিরা (১৯৭৮), স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি (১৯৭৯), একই সমতলে (১৯৮০), ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ (১৯৮০), স্বাধীনতার স্পৃহা, সাম্যের ভয় (১৯৮১), বাঙালী কাকে বলি (১৯৮২), বাঙালীকে কে বাঁচাবে (১৯৮৩), বৃত্তের ভাঙা-গড়া (১৯৮৪), টলস্টয় অনেক প্রসঙ্গের কযেকটি (১৯৮৫), নেতা, জনতা ও রাজনীতি (১৯৮৬), গণতন্ত্রের পক্ষ-বিপক্ষ (১৯৮৭), শেষ মীমাংসার আগে (১৯৮৮), উদ্যানে এবং উদ্যানের বাইরে (১৯৮৯), শ্রেণী, সময় ও সাহিত্য (১৯৯০), স্বপ্নের আলো ছায়া (১৯৯১), কেউ বলে বৃক্ষ, কেউ বলে নদী (১৯৯০), দ্বিজাতিতত্ত্বের সত্য-মিথ্যা (১৯৯২), লেনিন কেন জরুরী (১৯৯২), আপনজন (১৯৯৪), অপরিচিত নেতা, পরিচিত দুর্বৃত্ত (১৯৯৪), বাঙালীর জয়-পরাজয় (১৯৯৪), লিঙ্কনের বিষণ্ণ মুখ (১৯৯৪), এর পথ ওর প্রাচীর (১৯৯৫), ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি (১৯৯৫), মাঝখানের মানুষেরা (১৯৯৫), দুই বাঙালীর লাহোর যাত্রা (১৯৯৬), পতঙ্গ, ভৃত্য ও দৈত্য (১৯৯৬), রাষ্ট্রের মালিকানা (১৯৯৭), উপনিবেশের সংস্কৃতি (১৯৯৮), শেক্সপীয়রের মেয়েরা (১৯৯৯), বাঙালীর জাতীয়তাবাদ (২০০০), বাঙালীর সময়-অসময় (২০০০), ধ্রুপদী নায়িকাদের কয়েকজন (২০০০), পুঁজিবাদের দুঃশাসন (২০০১), আত্মপ্রতিকৃতি নয় (২০০২), Middle Class and the Social Revolution in Bengal (২০০০), An Unfimished Agenda; ইংরেজি সাহিত্যে ন্যায়-অন্যায় (২০০২), ভূতের নয়, ভবিষ্যতের (২০০২), বন্ধ করো না পাখা (২০০৪), প্রভুর যত ইচ্ছা (২০০৫), ভরসার জায়গাজমি (২০০৫), বিচ্ছিন্নতার সত্য-মিথ্যা (২০০৬), গণতন্ত্রের অমসৃণ পথ (২০০৬), দ্বন্দ্বের মেরুকরণ (২০০৬), গণতন্ত্রের সন্ধানে (২০০৬), বিরূপ বিশ্বে সাহসী মানুষ, জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি।
ছোটগল্প : ভালো মানুষের জগৎ (১৯৯০), দরজাটা খোলো (১৯৮৯)।
উপন্যাস : শেষ নেই (২০০৪), কণার অনিশ্চিত যাত্রা (২০০৫), বাবুলের বেড়ে-ওঠা (১৯৯১)।
অনুবাদ : এরিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব (১৯৭২), ইবসেনের বুনো হাঁস (১৯৬৫), হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব (১৯৬৫), হোমারের ওডেসি (১৯৯০)।
সম্পাদনা : আনোয়ার পাশা রচনাবলী (তিন খণ্ড), Dhaka University Convocation Speeches (দুই খণ্ড), ত্রৈমাসিক নতুন দিগন্ত ২০০৩।
লেখক সংঘ পুরস্কার-১৯৭৫, বাংলা একাডেমি পুরস্কার-১৯৭৬, আবদুর রহমান চৌধুরী পদক-১৯৭৮ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), লেখিকা সংঘ পদক-১৯৮০, মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পদক-১৯৮৩, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার-১৯৮৮, একুশে পদক-১৯৯৬, আবদুল রউফ চৌধুরী পুরস্কার-২০০১, ঋষিজ পদক-২০০২, শেলটেক পদক-২০১৭, প্রথম আলো বর্ষসেরা বই-১৪২১।
সমকালীন বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি ও সমাজকর্মের বটবৃক্ষ ড. অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে জন্মদিনের লালগোলাপ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- ইউরো বাংলা টাইমসের এডিটর ইন চিফ বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, বজ্রকণ্ঠ ডটকম এর প্রধান নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ মিজান, ভোলার কণ্ঠ সম্পাদক কিরণ শর্মা, রেডটাইমসবিডি সম্পাদক কবি সৌমিত্র দেব, ইউরো বাংলা টাইমসের ম্যানেজিঙ এডিটর কবি রিপন শান, স্টেটমেন্ট২৪ সম্পাদক কবি রেজাউর রহমান রিজভী, ভয়েস সিটিজি’র প্রধান নির্বাহী টিটু বড়ুয়া, পদক্ষেপ নিউজ সম্পাদক জান্নাতুন নিসা প্রমুখ ।
বা ডে/ইবিটাইমস