অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সবচেয়ে পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতির এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতি
ইউরোপ ডেস্কঃ গতকাল রবিবার (১৫ মে) অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের একটি অডিটোরিয়ামৃ অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন আঞ্চলিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বেশ জমজমাট হয়েছিল। বৈশ্বিক মহামারী করোনা শুরুর পর থেকে অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির এই অনুষ্ঠানটিতেই ছিল সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসীর উপস্থিতি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। তারপর হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ গীতা থেকেও শোলক পাঠ করা হয়। তারপর বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতির সাবেক একাধিক বারের সভাপতি মরহুম শাহ্ মুহাম্মদ ফরহাদ সাহেবের স্মৃতিচারণ করা হয় এবং সবাই দাড়িয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন।
তারপর এক আলোচনা অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতির বিগত কার্য বৎসরের সভাপতি,সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
আমাদের ইউরো বাংলা টাইমসের ভিয়েনা প্রতিনিধির সাথে এক সাক্ষাৎকারে সমিতির বর্তমান সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম জানান,বৈশ্বিক মহামারী করোনার বিধিনিষেধ এবং পবিত্র রমজান মাসে পহেলা বৈশাখ হওয়ায় আমাদের এই সমস্ত ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানগুলো যথাসময়ে পালন করা সম্ভব হয় নি।
তিনি আরও বলেন,তাই গতকাল একই সাথে সবগুলো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মামুন হাসান আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির মোট ছয়টি সংগঠন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্টল দেন।
পিঠা উৎসব ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলো হল,অস্ট্রিয়া কুমিল্লা সমিতি, বাংলা ক্লাব অস্ট্রিয়া,বাংলা হিন্দু কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন,
নারায়ণগঞ্জ অস্ট্রিয়া অ্যাসোসিয়েশন,কিশোরগঞ্জ অস্ট্রিয়া অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্রাহ্মণবাড়ীয়া অস্ট্রিয়া অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতি বা অ্যাসোসিয়েশনের পিঠা উৎসবে অস্ট্রিয়া কুমিল্লা সমিতি সন্মানিত বিচারকদের রায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। অবশ্য প্রতিটি স্টলেই ছিল বিভিন্ন বাহারি পিঠা সহ অন্যান্য সুস্বাদু খাবারের সমারোহ। অস্ট্রিয়া কুমিল্লা সমিতি প্রধান হওয়ার অন্যতম কারন হল, তারা নিজেদের হাতে বানানো কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী ৩৩ রকমের পিঠা প্রদর্শন করেন তাদের স্টলে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে হিন্দু কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে যৌথভাবে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সমিতি ও বাংলা ক্লাব অস্ট্রিয়া। সমিতির সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম অস্ট্রিয়া কুমিল্লা সমিতির নেতৃবৃন্দের নিকট বিজয়ী ট্রফি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ইভেন্ট ছিল অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের মনোমুগ্ধ্ধকর গীতিনৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশনা। বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক এস এম রানার সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন ফারাহ দিবা। আমাদের এই প্রজন্মের সন্তানদের প্রবাসে এই ধরনের পারফরম্যান্স সকলকেই মুগ্ধ করেছে।
অস্ট্রিয়া নারায়ণগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ ফিরোজ আমাদের প্রতিনিধির সাথে এক সাক্ষাৎকারে আমাদের এই প্রজন্মের সন্তানদের জন্য
এই রকম একটি দেশীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ অনুষ্ঠান করায় বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া নেতৃবৃন্দের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির অন্যান্য সংগঠনকেও এই ধরনের অনুষ্ঠান করার আহবান জানান।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস