ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট;পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের মেম্বার ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে ওই ইউপি’র চেয়ারম্যান মো.
রুহুল আমিন বাবলু দাঁড়িয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
গত রবিবার (২৭ মার্চ) জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে পাওয়া ওই ইউনিয়নের ১১ ইউপি সদস্যের ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ
সূত্রে জানা গেছে, ওই চেয়ারম্যান অসহায় নারীদের মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের নামে প্রতিজনের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহন
করেছেন। খাদ্য বান্ধব তালিকায় নতুন ৩৬ নামের তালিকা ভুক্তিতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা, আরো নতুন নাম দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সহস্রাধীক লোকের কাছ থেকে ৫ শত টাকা করে আদায়, নতুন জন্ম নিবন্ধন, তা সংশোধন বা ডিজিটাল করার বাবদ প্রতিজনের কাছ থেকে ৩ শত থেকে ৫ শত টাকা করে আদায়, হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) এর শ্রমিক নিয়োগে ৮৬ জনের কাছ থেকে জন প্রতি ১২ শত টাকা করে লক্ষাধীক টাকা, গভীর নলকুপ প্রদানে প্রতিজনের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন
করেছেন।
এ ছাড়া নির্বাচন কালে স্থানীয় হাট-বাজারের খাজ মওকুপের ঘোষনা দিয়েও তিনি তা নিচ্ছেন। মেম্বাররা আরো অভিযোগ করেন, টিআর, কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের কাজ করাতে প্রতি মেম্বারের কাজ থেকে শতকরা ১৫টাকা হারে ঘুষ নিচ্ছেন।এ ছাড়া এলজিএসপি-৩ এর কাজের বাবদ ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নজমুলের কাছ থেকে ৫০ হাজার, মনোজ ৬৫ হাজার, নাসির ৩৫ হাজার, কদম আলী ১৮ হাজার নাসিম শেখ ২০ হাজার, শহীদুল মোল্লা ৫৫হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন।এ ছাড়া একটি ব্রীজের পুরানো মালামাল ব্যবহার বাবদ ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় মেম্বাররা তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালগালি সহ বিভিন্নভাবে হুমকী প্রদান করেন।
ওই ইউনিয়নের সিংখালী গ্রামের দুলাল চন্দ্র মিস্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছ লিখিত অভিযোগ করে জানান, তার ছেলে দিপ্রজিৎ মিস্ত্রীর জন্ম নিবন্ধন
ডিজিটাল করা বাবদ চেয়ারম্যান ৩শত টাকা নিয়েছেন।একই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নুরুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, এমন অভিযোগে স্থানীয়দের ও ওই ইউনিয়নের মেম্বারদের পৃথক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
এ ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন বাবলু’র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ওই সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি মহল তাকে বিতর্কিত করতে এমন মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০০৭ সালে তিনি চেয়ারম্যান থাকা কালে ত্রানের চাল ও অন্যান্য সামগ্রী চুরির করেন। এতে মামলা হলে, পলাতক অবস্থায় র্যাবের হাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার হন।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস