কোর্ট প্রতিনিধি: দুর্গাপুরের পৌর মেয়র মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন ওরফে আলার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিম্ন আদালতে মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার ৬ জানুয়ারি এ মামলার শুনানির কথা রয়েছে। এর আগে সমন জারি হলেও তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত হননি।
মামলার বাদী মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে এবং লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা নিয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর মেয়র মোঃ আলাউদ্দিন ওরফে আলাল। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর এবং ২৮ ডিসেম্বর যথাক্রমে ৪০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকার দুটি চেক দেন মেয়র। চেকটিতে মেয়র মোঃ আলাউদ্দিনের স্বাক্ষর করা রয়েছে এবং ব্যাংক ম্যানেজার বরাবর একটি প্রত্যয়ন পত্র রয়েছে।
ভূক্তভোগী বলেন, ব্যাংকে চেক জমা দিলে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকায় চেক দু’টো ডিজঅনার হয়। বিভিন্নভাবে বিষয়টি তাকে অবহিত করার চেষ্টা করলেও তিনি টাকা দেয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেননি। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করি। তিনি আমাকে চেক দিয়েছেন এ বিষয়ে আমার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।
মনজুরুল ইসলাম বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি এ ধরনের প্রতারণা করবেন এটি বুঝতে পারিনি। তিনি বলেন, আমি আমার পাওনা টাকার জন্য লড়াই করছি।
অভিযোগের বিষয়টি জানতে দুর্গাপুরের পৌর মেয়র মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন ওরফে আলার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চেক দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। জানান তার চেক হারিয়ে গেছে। চেকে তার স্বাক্ষর করা ছিল কিনা বা কিভাবে হারিয়েছে এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। দাবি করেন চেক হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলেও বাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। যদিও এর কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে রাজি হননি তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নেত্রকোনা দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচনের সময় মনজুরুল ইসলামের কাছে আর্থিক সহায়তা চান মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন ওরফে আলাল। যেহেতু তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে সেই বিশ্বাস থেকে তিনি তাকে টাকা দেন।
এদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন মোঃ আলাউদ্দিন বিশাল অংকের টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনেছেন। এছাড়াও দুর্গাপুর পৌরসভা সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেখানকার চোরাচালানের ঘটনায়ও তার সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে। যা নিয়ন্ত্রণ করছে তার ভাইয়েরা। প্রতারণা ও চোরাচালান বাণিজ্যেই পৌর মেয়র মোঃ আলালউদ্দিন হঠাৎই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে যান বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এছাড়া দুর্গাপুর পৌর এলাকায় অনেকেই নানাভাবে তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান জান্নাতুল ঝুমার সাথে পৌর মেয়র আলাউদ্দিনের বেশ সখ্যতা রয়েছে। আলাউদ্দিন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত পৌর মেয়র অন্যদিকে ঝুমা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের মধ্যে আঁতাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
আরটি/ইবিটাইমস/এমএইচ