অস্ট্রিয়ায় করোনা ভাইরাসের নতুন রূপান্তর ওমিক্রোনের প্রাদুর্ভাব শুরু, আক্রান্ত ১,৬৯৭

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা ক্রমশ করোনা ভাইরাসের ওমিক্রোন ভ্যারিয়েন্টের হটস্পটে পরিনত হচ্ছে। ভিয়েনায় ওমিক্রোনে আক্রান্ত শনাক্ত ১,০৬৫ জন

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রোন তার প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে।মাত্র দুই দিনের ব্যবধানেই সংক্রমণের বিস্তার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ আকারে বাড়ছে। অস্ট্রিয়ান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন করোনার প্রতিষেধক টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পরেও অনেক মানুষ ওমিক্রোনে আক্রান্ত হচ্ছেন।তবে করোনার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ নেয়া লোকজন এখনও ওমিক্রোনে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে না।

অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা OE24 গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাদের অনলাইন প্রকাশনায় অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় ওমিক্রোন অস্ট্রিয়াতেও তার সংক্রমণের বিস্তার ক্রমশ প্রসারিত করছে।বর্তমান সমগ্র অস্ট্রিয়াতেই করোনার এই নতুন রূপ B.1.1.529 অর্থাৎ ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তার ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রাজধানী ভিয়েনায় সবচেয়ে বেশী পরিমানে ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়েছে অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় ওমিক্রোনের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬৯৭ তে পৌঁছিয়াছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাজধানী ভিয়েনায় ওমিক্রোনে আক্রান্ত শনাক্ত ১,০৬৫ জন।

এই বছরের ক্যালেন্ডারের শেষ দুই সপ্তাহ ৫০ তম থেকে ৫১ তম পর্যন্ত অস্ট্রিয়াতে ওমিক্রোন ভ্যারিয়েন্টের সাথে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়েছে।অস্ট্রিয়ার এজেন্সি ফর হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটি (AGES) থেকে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন “ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্ন” এর মধ্যে ১,২১৮টি শনাক্ত হয়েছে।

অবশ্য অস্ট্রিয়াতে করোনার চতুর্থ প্রাদুর্ভাব বা করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের(B.1.617.2) সংক্রমণের বিস্তার কমে এসেছে। বছরের শেষ সপ্তাহে অস্ট্রিয়াতে করোনার ডেল্টা ভাইরাস ওমিক্রোনের চেয়ে তিনগুণ কম নিবন্ধিত হয়েছে। যদি ৫০ তম সপ্তাহে ডেল্টা থেকে ওমিক্রনের অনুপাত এখনও ৫,৪৭৫ থেকে ৩৩২ হয়, তবে এক সপ্তাহ পরে এটি ৩,৩০৭ থেকে ১,২১৮ হয় এবং এটি সামগ্রিকভাবে সংক্রমণের সংখ্যা হ্রাসের সাথে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম আবিষ্কৃত এই করোনার এই নতুন পরিবর্তিত রূপ B.1.1.529 ওরফে ওমিক্রোনের বেশিরভাগ আক্রান্তই রাজধানী ভিয়েনায় শনাক্ত হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ভিয়েনায় ১,০৬৫ জনের শরীরে ওমিক্রোন ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের পর ভিয়েনার স্বাস্থ্য প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছেন। ভিয়েনা সিটি কাউন্সিলর ফর হেলথ পিটার হ্যাকার (SPÖ) এর মুখপাত্র মারিও ডুজাকোভিচ টুইটারে ঘোষণা করেছেন যে, “২৬  ডিসেম্বর প্রাসঙ্গিক সংক্রমণের হারের শতকরা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে”- এই বছরের জন্য প্রত্যাশিত ছিল না।আমরা এখনও লকডাউন যাওয়ার একটি স্যাঁতসেঁতে প্রভাব দেখতে পাচ্ছি, বলে তিনি এক অঘোষিত পূর্বাভাস দেন।

অস্ট্রিয়ান সরকারের নীতি নির্ধারকদের গত সপ্তাহের বৈঠকের পর একটি কথা বাতাসে ছড়িয়েছে যে, অস্ট্রিয়ায় ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তার লাভ করলে সরকার আগামী ১০ জানুয়ারী থেকে পুনরায় লকডাউনে যাওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন।অবশ্য সরকারের ঘোষণা আসবে নব গঠিত করোনার টাস্ক ফোর্সের(GECKO) অনুরোধের পর।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তার অস্ট্রিয়ার অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে লোয়ার অস্ট্রিয়া(NÖ)এবং আপার অস্ট্রিয়ায়(OÖ) গতকাল পর্যন্ত যথাক্রমে ১৬০ জন এবং ১৩৪ জন নিবন্ধিত হয়েছে।অস্ট্রিয়ার জার্মানির সীমান্তবর্তী পশ্চিমের রাজ্য সালজবুর্গে ওমিক্রোনে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১২৬ জন এবং বাকী ফেডারেল রাজ্যগুলিতে এখনও ওমিক্রোনের আক্রান্ত ১০০ জনের নীচে রয়েছে।

গত নভেম্বর মাসের ২২ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যালেন্ডার সপ্তাহ ৪৭ -এ অস্ট্রিয়াতে প্রথমবারের মতো ওমিক্রোন শনাক্ত নিশ্চিত করা হয়েছিল।  সেই সময়ে ছয়জন সংক্রামিত লোক ছিল যারা B.1.1.529 দ্বারা প্রতীয়মানভাবে সংক্রামিত হয়েছিল। তারা সকলেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অস্ট্রিয়ায় ফেরত এসেছিলেন।

ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তারের ক্ষিপ্তগতি যেমন, দুই থেকে তিন দিনের দ্বিগুণ হারের পরিপ্রেক্ষিতে, ভিয়েনার বর্তমান অবস্থা অনেকটা আতঙ্কিত হওয়ার মত।অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন “Ö1″এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে অস্ট্রিয়ার আণবিক ওষুধের গবেষণা কেন্দ্রের(ÖAW) প্রধান আন্দ্রেয়াস বার্গথালার বলেন, লকডাউনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হিসাবে ডেল্টা ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার কমে এসেছে।তবে এখন ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তার লাভ আমাদের আবার ভাবিয়ে তুলেছে। বার্গথালার বলেন, “আমরা সব সম্ভাবনায় একটি মোড়ের দিকে রয়েছি,” যোগ করেছেন যে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা সম্ভবত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবার ব্যাপকভাবে বাড়বে।  যতদূর ওমিক্রোনের বিপদের বিষয়ে, গ্রেট ব্রিটেনের পরিসংখ্যান অনুসারে, এটি আলফা এবং ডেল্টা ভেরিয়েন্টের মধ্যে রয়েছে – এবং এইভাবে হাসপাতালগুলির উপর একটি বোঝার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »