ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট;পিরোজপুর: পিরোজপুরের কাউখালীতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে শাসক দল কর্তৃক উপজেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মাদ (৫০) কে লাঞ্চিত করা হয়েছেন।ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান মামুন জানান, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে ওই দিন সকালে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে সেখানে থাকা উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আমিনুর রশিদ মিল্টনের নেতৃত্বে আ’লীগের লোকজন তাকে (বিএনপির সাধারন সম্পাদক) ফুল দিতে বাধা সহ গালাগালি করেন।এর পরেও তিনি ফুল দিতে গেলে তাকে প্রশাসনের সামনেই প্রথমে ধাওয়া ও পরে শারীরীকভাবে লাঞ্চিত করে।
তবে অভিযুক্ত আ’লীগ নেতা আমিনুর রশিদ মিল্টন জানান, ‘বিএনপির ওই নেতাকে শুধু মাত্র ফুল দিতে বাধা দেয়া হয়েছে।তাকে কোন লাঞ্চিত করা হয় নি।ওই বিএনপি নেতা আমার (সদর ইউপি) নির্বাচনে বিরোধীতা করেছে। এ ছাড়াও বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করার পরও তিনি চেয়ারম্যান পদে বিভিন্ন ইউনিয়নে তার সুবিধা মতো চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন তাই তাকেই ফুল দিতে নিষেধ করা হয়েছে মাত্র।
কাউখালী উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, শুনেছি উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মাদকে উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক লাঞ্চিত করেছেন।তবে এ সময় আমি সেখানে ছিলাম না।এটি রাজনৈতিক কোন বিরোধের জেরে নয়।
স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে সদর ইউনিয়নের পরাজিত নৌকার প্রার্থী আমিনুর রশিদ মিল্টনের বিরোধীতা করেছেন বিএনপি নেতা দ্বীন মোহাম্মাদ। এর জেরে মিল্টন এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
ভুক্তভোগী উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মাদ জানান, ‘আমি ওই দিন সকালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিতে শহীদ মিনারে যাই। এ সময় শহীদ মিনারের গেটে থাকা উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চিয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন আমাকে ফুল দিতে বাধা দেয়। এ সময় আমার সাথে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে বাকবিতন্ড হলে পরে আমাকে লাঞ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে জানতে কাউখালী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. বনি আমিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পান নি বা এমন কোন কথা শুনেন নি বলে জানান।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস