ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট;পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুরে অসহায় এক ব্যাক্তির ছাগল চুরি করে ভূড়ি ভোজ করলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।
এ ঘটনায় ছাগলের মালিক ভুক্তিভোগী আ: লায়েক ফরাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানায় সহ
বিভিন্ন দপ্তরে মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আর ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ঘটনাটি নিয়ে গত ৩ দিন ধরে নাজিরপুর সহ জেলা ব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী লায়েক ফরাজী উপজেলা সদরের আ’লীগ অফিস সংলগ্ন একটি ছোট চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি আর্থিক সংকটে কয়েকটি ছাগল পালন করছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগীর একটি ছাগল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে চুরি হয়ে যায়। পরে ওই ছাগলের চামড়া স্থানীয় ঋষি ( চামড়া ক্রেতা) বিশ্ব নাথ এর কাছ থেকে গত সোমবার (২২ নভেম্বর)দুপুরে উদ্ধার করা হয়।
চামড়া ক্রেতা জানান, ‘ওই চামড়াটি হাসপাতালের সুইপার বাশার শেখ আমাকে দিয়েছে । বাশার শেখ জানান, ‘চামড়াটি হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ভূড়ি ভোজের জন্য জবাই দেয়া ছাগলের চামড়া। স্যারেরা ছাগলটি গত শুক্রবার রাতে খেয়েছেন। আমি এ বিষয়ে বাজলে (অভিযুক্ত হলে) সব তথ্য ফাঁস করে দিবো। আমিতো হুকুমের গোলাম’। ওই ছাগলটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রান্না ঘরেই রান্না হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন হাসপাতালে রান্নার কাজে থাকা খাদিজা বেগম।
আর ওই রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিস কক্ষেই ওই ভূড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়। আর এতে অংশ নেন ওই হাসপাতালে কর্তব্যরত ৪-৫ জন চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মচারীরা।
ওই ভুড়ি ভোজে অংশ নেয়া নিজেদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক চিকিৎসক ওই ভোজের তথ্য স্বীকার করে জানান, তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. ফজলে বারী’র দাওয়াতে সেখানে গিয়েছেন। সেখানে খাওয়া মাংসের ছাগল চুরি করা বা ক্রয় করা কিনা তা তাদের জানা নেই।
সেখানে ভোজে অংশ নেয়া এক নারী চিকিৎসক জানান, ‘স্যার ফোন দিয়ে আমাকে সেখানে নিয়েছেন’। এক পুরুষ চিকিৎসক জানান, ‘ওই রাতে আমি ও আমার আর এক সহকর্মী হাঁসের মাংশ দিয়ে রুটি খাচ্ছিলাম। কিন্তু স্যারে এসে আমাদের ডেকে নিয়ে যান’।
ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যক্ষদর্শী মো. সজল হোসেন হাওলাদার জানান, ‘গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে তিনি তার স্ত্রীর সন্তান প্রসব উপলক্ষে হাসপাতালের দোতালায় কেবিনের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওই হাসপাতালের ঝাড়ুদার আবুল বাশার সহ ৩ জনে একটি খাসি ছাগল দোতালায় নিয়ে হাসপাতালের কেবিনের একটি টয়লেটে আটকে রাখে। আমি তাদের নিষেধ করলেও তারা একটি বটি দিয়ে তা জবাই দিয়ে বাজারের শপিং ব্যাগে করে নিয়ে যায়’।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, এ বিয়য়ে ভুক্তভোগী মো. আব্দুল লায়েক ফরাজীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। তিনি অভিযোগটি উপজেলা চেয়ারম্যানেকেও দিয়েছেন।
থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, ‘ছাগলের ব্যাপারে একটি অভিযোগ জমা হয়েছে বলে
শুনেছি। আমি থানায় ছিলামা না তাই বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয় নি’।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচ এন্ড এফপিও) ডাক্তার মো. ফজলে বারীর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমি গত সোমবার (২২ নভেম্বর) আমার শ্বশুড়ের চিচিৎসার জন্য ঢাকায় আসছি। এখন ব্যাস্ত আছি, বাসায় ফিরে আপনাকে ফোন দিবো’।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস