ভিয়েনা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাবে আজ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করবে উত্তর কোরিয়া মার্কিন চাপের মুখে ২ হাজারের বেশি বন্দিকে ক্ষমার ঘোষণা কিউবার সরকারি ব্যয় সংকোচন, অফিস সময় কমানো ও সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত টানা প্রায় ১৬ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় চালু হচ্ছে ই-হেলথ কার্ড তেলের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে : মীর শাহে আলম ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক টাঙ্গাইলে হামে আক্রান্ত ৮ মাসের শিশুর মৃত্যু টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গ্রীষ্মকালীন কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

পানির দরে পান !

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০১:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ নভেম্বর ২০২১
  • ৪৫ সময় দেখুন

শেখ ইমন,ঝিনাইদহ: পান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ ঝিনাইদহ জেলা। তবে পানের দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত উঠেছে।  এ জেলার পানের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।এমনকি ঝিনাইদহের পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হয়ে থাকে। পান চাষে সফলতা পেয়ে এখানকার চাষিরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে এবার ভরা মৌসুমে বাজারে পানের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কম চাহিদা আর রপ্তানি প্রায় বন্ধ থাকায় ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পান। দাম এতটাই কম যে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। জেলা শহরের নতুন হাটখোলা, হলিধানী, ডাকবাংলা, হরিণাকুন্ডুর ভবানীপুর, আমতলা, জিন্দারের মোড়সহ বিভিন্ন হাটে খুবই কম দামে বিক্রি হচ্ছে পান।

হলিধানী হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভালোমানের প্রতি পণ (৮০টি) পান বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০ টাকায়। পাঁচ টাকা পণেও বিক্রি হচ্ছে কিছু পান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই বছর জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়েছে।

শৈলকূপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের পানচাষি অশোক বিশ্বাস বলেন, এবার পানের যে দাম যাচ্ছে তা গত কয়েক বছরের তুলনায় সবচেয়ে কম। পানের দাম কম হওয়ার কারণে এবার উৎপাদন খরচও উঠছে না। কৃষক জিয়ারত আলী বলেন, এক বিঘা পান আবাদ করতে সার, খৈল, বিচুলি, পাটকাঠি, ওয়াসি, শ্রমিকসহ হিসাব করলে ৩ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে বর্তমানে পানের যে দাম যাচ্ছে তাতে ভালোমানের পান হলেও ১ লাখ টাকার বেশি পাওয়া যাবে না।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভাদড়া গ্রামের পানচাষি আকবর আলী বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছর পান বিক্রি কম হয়েছে। এখন বিক্রি হলেও দাম কম। এভাবে চলতে থাকলে পানের আবাদ বন্ধ করে অন্য আবাদ করা লাগবে। তিনি আরও বলেন, পানের ভালো দাম পেতে এখন সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ভারত থেকে কিছু পান আসে, সেই পান আনা বন্ধ করতে হবে। আর বিদেশে পান রপ্তানি বাড়াতে হবে। শহরের নতুন হাটখোলা বাজারের পান ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, গত বছরের এই সময়ে যে পান ৭০ থেকে ৮০ টাকা পণ দরে বিক্রি হয়েছিল, সেই পান এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ১৫ থেকে ২০ টাকা পণের পান বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজগর আলী বলেন, দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পান রপ্তানি করা হয়। করোনা শুরুর পর থেকে লকডাউনের কারণে পান রপ্তানি বন্ধ ছিল। এখন কিছু পাঠানো হচ্ছে। তবে পরিমাণে কম। আমরা চেষ্টা করছি পানের রপ্তানি বাড়ানোর।

ঝিনাইদহ/ইবিটাইমস

হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাবে আজ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

পানির দরে পান !

আপডেটের সময় ০১:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ নভেম্বর ২০২১

শেখ ইমন,ঝিনাইদহ: পান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ ঝিনাইদহ জেলা। তবে পানের দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত উঠেছে।  এ জেলার পানের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।এমনকি ঝিনাইদহের পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হয়ে থাকে। পান চাষে সফলতা পেয়ে এখানকার চাষিরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে এবার ভরা মৌসুমে বাজারে পানের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কম চাহিদা আর রপ্তানি প্রায় বন্ধ থাকায় ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পান। দাম এতটাই কম যে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। জেলা শহরের নতুন হাটখোলা, হলিধানী, ডাকবাংলা, হরিণাকুন্ডুর ভবানীপুর, আমতলা, জিন্দারের মোড়সহ বিভিন্ন হাটে খুবই কম দামে বিক্রি হচ্ছে পান।

হলিধানী হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভালোমানের প্রতি পণ (৮০টি) পান বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০ টাকায়। পাঁচ টাকা পণেও বিক্রি হচ্ছে কিছু পান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই বছর জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়েছে।

শৈলকূপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের পানচাষি অশোক বিশ্বাস বলেন, এবার পানের যে দাম যাচ্ছে তা গত কয়েক বছরের তুলনায় সবচেয়ে কম। পানের দাম কম হওয়ার কারণে এবার উৎপাদন খরচও উঠছে না। কৃষক জিয়ারত আলী বলেন, এক বিঘা পান আবাদ করতে সার, খৈল, বিচুলি, পাটকাঠি, ওয়াসি, শ্রমিকসহ হিসাব করলে ৩ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে বর্তমানে পানের যে দাম যাচ্ছে তাতে ভালোমানের পান হলেও ১ লাখ টাকার বেশি পাওয়া যাবে না।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভাদড়া গ্রামের পানচাষি আকবর আলী বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছর পান বিক্রি কম হয়েছে। এখন বিক্রি হলেও দাম কম। এভাবে চলতে থাকলে পানের আবাদ বন্ধ করে অন্য আবাদ করা লাগবে। তিনি আরও বলেন, পানের ভালো দাম পেতে এখন সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ভারত থেকে কিছু পান আসে, সেই পান আনা বন্ধ করতে হবে। আর বিদেশে পান রপ্তানি বাড়াতে হবে। শহরের নতুন হাটখোলা বাজারের পান ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, গত বছরের এই সময়ে যে পান ৭০ থেকে ৮০ টাকা পণ দরে বিক্রি হয়েছিল, সেই পান এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ১৫ থেকে ২০ টাকা পণের পান বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজগর আলী বলেন, দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পান রপ্তানি করা হয়। করোনা শুরুর পর থেকে লকডাউনের কারণে পান রপ্তানি বন্ধ ছিল। এখন কিছু পাঠানো হচ্ছে। তবে পরিমাণে কম। আমরা চেষ্টা করছি পানের রপ্তানি বাড়ানোর।

ঝিনাইদহ/ইবিটাইমস