ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে টিসিবি’র ট্রাক সেলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য মানুষের লাইন ক্রমান্বয় দীর্ঘ হচ্ছে। টিসিবি ট্রাকসেলে ১০০টাকা লিটার সোয়াবিন তেল, ৫৫ টাকা কেজি দরে ডাল ও চিনি এবং ৩০টাকা কেজি দরে পিয়াজ বিক্রি করছে করছে। এই সকল পণ্যের দাম দোকানগুলোতে অনেক বেশি। বাজারে ১৪০টাকা লি. দরে সোয়াবিন তেল, ৯০টাকা কেজি দের ডাল এবং ৭৫টাকা কেজি দরে চিনি ও ৪০ থেকে ৫০টাকা কেজি দরে পিয়াজ দোকান গুলোতে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের এককোনে টিসিবির ডিলাররা ট্রাক সেলের পণ্য বিক্রি করছে। প্রতিদিনই পণ্য কেনার জন্য সকাল ১০টাক থেকে ক্রেতা জমায়ত শুরু করে ১২টার পরে ডিলাররা টিসিবির গোডাউন থেকে পণ্য নিয়ে আসার মধ্যে ত্রেতাদের ভীর জমে যায়। অনেক ক্রেতাদের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে পণ্য না পেয়ে মনকষ্ট নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। প্রতিদিন একজন ডিলার সর্বচ্চ ১ থেকে দেড় মে.টন করে এই সকল পণ্য বিক্রির জন্য দেয়া হচ্ছে এবং এই পরিমান পণ্য ক্রেতার তুলনায় কম হচ্ছে বলে লোকজনকে ফিরে যেতে হয়। বুধবার মেসার্স শাহাদাৎ এন্টারপ্রাইজ নামে ডিলার পণ্য বিক্রি করছে। তারা জানান ক্রেতা চাহিদার তুলনায় টিসিবির ট্রাকসেলে বরাদ্ধ কম থাকায় সবাইকেই পণ্য দেয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে ঝালকাঠি জেলায় ১৭১টি পুজা মন্ডবে এ বছরে শারদিয় দূর্গাপুজার প্রস্তুতি চলছে। ঝালকাঠি জেলায় এবছর দুটি পৌরসভা ও ৪টি উপজেলায় ১৭১টি পুজা মন্ডবে শারদীয় দূর্গাপুজা হচ্ছে। প্রতিটি মন্দিরের এখন চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। দূরদুরান্ত থেকে প্রতিমা শিল্পীরা তাদের টিম নিয়ে ঘুরে ঘুরে কাজ করছে। এখন তারা রাতদিন কাজ করে প্রতিমা তৈরীর ব্যস্তবহুল সময় কাটাচ্ছে। প্রতিমা শিল্পীরা বর্তমান উর্ধমূখী বাজার ব্যবস্থার মধ্যেও ৫বছর পূর্বে প্রতিমা তৈরী করার জন্য যে পরিমান মজুরী নিতেন মন্দির কমিটি এখনও তাদের সেই অর্থের বেশি দিতে চাচ্ছে না বলে দাবী করেছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে ঝালকাঠিতে আসা শ্রী বাস পাল। তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে জিনিস পত্রের দাম অনেকগুন বেড়েছে। কিন্তু তাদের শ্রমের মজুরী বাড়েনি। শ্রী বাস পাল তার নিজ এলাকাসহ তারজনের টিম নিয়ে ঝালকাঠি বরিশালে ১২টি প্রতিমার বায়না নিয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ অসীম কুমার সাহা জানান, বিগত বছরের ন্যায় এবছরও শান্তিপূর্ণভাবে পুজা উদযাপনের আশা করছেন। বর্তমান সরকারে প্রধানমন্ত্রী অসাম্প্রদায়ী মনোভাবের কারণে এবং ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির মধ্যে দিয়ে এই জেলা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দূর্গাপুজা হয়ে আসছে। এছাড়াও এই এলাকার সংসদ সদস্য বর্ষিয়ান জননেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই এলাকার পুজা আয়োজন সর্বাঙ্গীন সুন্দর হচ্ছে প্রশাসনের কঠোর নজরদারীর কারণে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ থাকছে না।
বাধন রায়/ইবিটাইমস/এম আর