অবশেষে জয়ের দেখা পেল অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক: অবশেষে জয়ের দেখা পেল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারে সিরিজ হাতছাড়া হবার পর চতুর্থ ম্যাচে জয় পেয়েছে সফররত অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। শনিবার সিরিজের চতুর্থ টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে অসিরা। এই হারের পরও পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

চতুর্থ টি-টুয়েন্টিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১০৪ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। টি২০ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশ দলের সর্ব নিম্ন স্কোর। এই টার্গেট তাড়া করতেই ঘাম ঝড়াতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ১৯তম ওভারে স্বস্তির জয় পায় অসিরা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও সৌম্য সরকার। ৩ ওভারে ২২ রান তুলে ফেলেন তারা। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজেলউডের বলে কভারে ক্যাচ দিয়ে থামেন সৌম্য। ১টি ছক্কায় ১০ বলে ৮ রান করেন তিনি। এই সিরিজে এটিই তার সর্বোচ্চ রান। সৌম্যর বিদায়ের পর দলকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যান নাইম ও সাকিব। খুবই সর্তকতার সাথে খেলছিলেন তারা। ৯ ওভার শেষে দলের রান ছিলো ৪৩। ১০ম ওভারে সাকিব আল হাসানকে ১৫ রানে থামিয়ে দেন হ্যাজেলউড। ২৬ বল খেলে ১টি চার মারেন সাকিব। দলীয় ৪৮ রানে সাকিবের আউটের বাংলাদেশ ইনিংসে ধস নামান মিডিয়াম পেসার এন্ড্রু টাই ও দুই স্পিনার অ্যাস্টন আগার-মিচেল সুইপসন। ফলে ৩২ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ০, নুরুল হাসান ০, নাইম ২টি চারে ৩৬ বল খেলে ২৮ রানে সুইপসনের শিকার হন। ১৭ বলে ২০ রান করা আফিফ হোসেনকে ফেরান আগার। শামিম হোসেনকে ৩ রানের বেশি করতে দেননি সুইপসন।

৫১ রানে ৩ উইকেট থেকে ৮৩ রানে ৭ উইকেট পড়ে বাংলাদেশের। এতে শতরানের আগে গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে টাইগাররা। কিন্তু সেটি হতে দেননি মাহেদি হাসান। শেষদিকে ১৬ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ২৩ রান করেন মাহেদি। এতে ৯ উইকেটে ১০৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

১০৫ রানের ছোট টার্গেট দিয়েও ইনিংসের প্রথম ওভারেই অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। চতুর্থ ডেলিভারিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মাহেদি হাসান।

এরপর ক্রিজে আসেন ড্যান ক্রিস্টিয়ান। ঐ ওভারে মাহেদির শেষ দুই বলে ১টি চারে ৬ রান তুলেন ডান-হাতি ক্রিস্টিয়ান।  দ্বিতীয় ওভারে সাকিব ৫ রান দেন। তৃতীয় ওভারে নাসুম আহমেদ ১ রান দেন। তবে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সাকিবের উপর ঝড় বইয়ে দেন ক্রিস্টিয়ান। ৫টি ছক্কা মারেন তিনি। ফলে ঐ ওভার থেকে ৩০ রান পায় অস্ট্রেলিয়া। ক্রিস্টিয়ান ঝড়ে ৪ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৪৫ রান তুলে অসিরা। তবে পরের দুই ওভারে হতাশায় পুড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। পঞ্চম ওভারে বেন ম্যাকডারমটকে বিদায় দেন নাসুম। ৫ রান করেন তিনি। চতুর্থ ওভারে ক্রিস্টিয়ানের ঝড় দেখে, ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবারের মত মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমনে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। বাজিমাত করেন ফিজ। দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই মারমুখী ক্রিস্টিয়ানকে আউট করেন মুস্তাফিজ। ৫টি ছক্কা ও ১টি চারে ১৫ বলে ৩৯ রান করেন ক্রিস্টিয়ান। দলীয় ৪৯ রানে ক্রিস্টিয়ানকে ফিরিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে বাংলাদেশের বোলাররা। ৫ রানের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেটে পতন ঘটিয়ে দারুনভাবে লড়াইয়ে টিকে থাকে বাংলাদেশ।

৬৫ রানে ৬ উইকেট পতনে ম্যাচ নিয়ে চিন্তায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এমন অবস্থায়  জয়ের জন্য ৫৮ বলে ৪০ রানের প্রয়োজন পড়ে অসিদের। এরপর সপ্তম উইকেটে ৪৩ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ে পথে নিয়ে যান অ্যাস্টন টার্নার ও অ্যাস্টন আগার। এই জুটিতে ২৭ রানই ছিলো আগারের।  ১৮তম ওভারে আগারকে আউট করে এই জুটি ভাঙ্গেন শরিফুল। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ বলে ২৭ রান করেন আগার। এরপর বাকী ৬ রান তুলেছেন টার্নার ও টাই। টার্নার ৯ ও টাই ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের মাহেদি-মুস্তাফিজ ২টি করে উইকেট নেন।

আগামী ৯ আগস্ট এই ভেন্যুতেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টুয়েন্টি।

ডেস্ক/ইবিটাইমস/এমএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »