ভিয়েনা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এআই’কে গুটিকয়েক ধনকুবেরের মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না : জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার চলমান থাকবে: চিফ প্রসিকিউটর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে ইইউর ধন্যবাদ জ্ঞাপন দেশের সব আবর্জনা দূর করতে চাই: শফিকুর রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, আগামীকাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হামলায় নিহত ১৪

ভিক্ষা ছেড়ে কাজ করতে চায় রোকসানা; প্রয়োজন সমাজের সহযোগিতা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুন ২০২১
  • ৫৯ সময় দেখুন

লালমোহন প্রতিনিধি: রোকসানা বেগম, দুই সন্তানের জননী। বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তবে অর্ধাহারে-অনাহারে কঙ্কালসার রোকসানাকে দেখে মনে হবে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। ৩মাসের শিশু সন্তান কোলে নিয়ে লালমোহন বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভিক্ষা করছে রোকসানা।

ইউরোবাংলা টাইমস’ এর প্রতিনিধিকে রোকসানা জানায়, মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে ভাল লাগেনা তার, কাজ করে খেতে চায় সে। সরকারি-বেসরকারি কোনও সাহায্য সহযোগিতা পেলে ভিক্ষা ছেড়ে দেয়ার আগ্রহের কথাও জানায় সে। তার এ স্বপ্ন পূরণে সমাজের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

রোকসানা বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের মৃত নাছির মেস্তরির মেয়ে। প্রায় ৮ বছর আগে একই উপজেলার মৃত আতরজমার ছেলে সিরাজের সাথে বিয়ে হয় তার। তাদের ঘরে হাবিবা (৪) ও তাসপিয়া (৩ মাস) নামের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাসপিায়ার জন্মের আগেই রোকসানা কে ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় স্বামী সিরাজ। পরে শশুর বাড়িতে ও ঠাঁই হয়নি তার। তাই জীবিকার তাগিদে ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছে সে।

রোকসানা জানায়, প্রায় তিন বছর আগে তার মায়ের মৃত্যু হয়। এর বছরখানেক পর বাবা নাছির মেস্তরিও মারা যান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি থেকে তাকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়। তাই দুই সন্তান ও নিজের জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিক্ষা করছেন তিনি। ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে ভাড়া ও সন্তানদের কাওয়ার ব্যবস্থা করেন। করোনার সময় সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য পাননি বলেও জানায় রোতসানা। অভিযোগ করেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে সরকারি একটি ঘরের জন্য বারবার গিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

যদিও বিষযটি অস্বীকার করেছেন হাসাননগর ইউনিয়নের সদস্য মোঃ সাফায়েত ভূইয়া। বলেন, আমার কাছে এ নামের কেউ আসেনি। তবে আসলে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো।

হাসাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মানিক হাওলাদার বলেন, রোকসানা নামের কেউ আমার কাছে আসেনি। তবে আমার এলাকার কেউ ভিক্ষাবৃত্তি করুক, এটা আমিও চাইনা। সে যদি আমার কাছে আসে, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে রোকসানাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে যে কেউ চাইলে সহযোগিতা করেত পারেন। সহযোগিতার জন্য ০১৭১২-৩৮৭৩২৯ এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সে।

সমাজের বিত্তবানসহ সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ ও মাথা গোজার ঠাঁই হবে রোকসানার, এমনটাই স্বপ্ন তার।

সালাম/ইবিটাইমস/এমএন

জনপ্রিয়

এআই’কে গুটিকয়েক ধনকুবেরের মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না : জাতিসংঘ মহাসচিব

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভিক্ষা ছেড়ে কাজ করতে চায় রোকসানা; প্রয়োজন সমাজের সহযোগিতা

আপডেটের সময় ১২:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুন ২০২১

লালমোহন প্রতিনিধি: রোকসানা বেগম, দুই সন্তানের জননী। বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তবে অর্ধাহারে-অনাহারে কঙ্কালসার রোকসানাকে দেখে মনে হবে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। ৩মাসের শিশু সন্তান কোলে নিয়ে লালমোহন বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভিক্ষা করছে রোকসানা।

ইউরোবাংলা টাইমস’ এর প্রতিনিধিকে রোকসানা জানায়, মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে ভাল লাগেনা তার, কাজ করে খেতে চায় সে। সরকারি-বেসরকারি কোনও সাহায্য সহযোগিতা পেলে ভিক্ষা ছেড়ে দেয়ার আগ্রহের কথাও জানায় সে। তার এ স্বপ্ন পূরণে সমাজের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

রোকসানা বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের মৃত নাছির মেস্তরির মেয়ে। প্রায় ৮ বছর আগে একই উপজেলার মৃত আতরজমার ছেলে সিরাজের সাথে বিয়ে হয় তার। তাদের ঘরে হাবিবা (৪) ও তাসপিয়া (৩ মাস) নামের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাসপিায়ার জন্মের আগেই রোকসানা কে ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় স্বামী সিরাজ। পরে শশুর বাড়িতে ও ঠাঁই হয়নি তার। তাই জীবিকার তাগিদে ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছে সে।

রোকসানা জানায়, প্রায় তিন বছর আগে তার মায়ের মৃত্যু হয়। এর বছরখানেক পর বাবা নাছির মেস্তরিও মারা যান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি থেকে তাকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়। তাই দুই সন্তান ও নিজের জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিক্ষা করছেন তিনি। ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে ভাড়া ও সন্তানদের কাওয়ার ব্যবস্থা করেন। করোনার সময় সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য পাননি বলেও জানায় রোতসানা। অভিযোগ করেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে সরকারি একটি ঘরের জন্য বারবার গিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

যদিও বিষযটি অস্বীকার করেছেন হাসাননগর ইউনিয়নের সদস্য মোঃ সাফায়েত ভূইয়া। বলেন, আমার কাছে এ নামের কেউ আসেনি। তবে আসলে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো।

হাসাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মানিক হাওলাদার বলেন, রোকসানা নামের কেউ আমার কাছে আসেনি। তবে আমার এলাকার কেউ ভিক্ষাবৃত্তি করুক, এটা আমিও চাইনা। সে যদি আমার কাছে আসে, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে রোকসানাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে যে কেউ চাইলে সহযোগিতা করেত পারেন। সহযোগিতার জন্য ০১৭১২-৩৮৭৩২৯ এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সে।

সমাজের বিত্তবানসহ সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ ও মাথা গোজার ঠাঁই হবে রোকসানার, এমনটাই স্বপ্ন তার।

সালাম/ইবিটাইমস/এমএন