ভিয়েনা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ঈদুল আজহা দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঈদে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি নেই: র‌্যাব মহাপরিচালক সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবিগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত হবিগঞ্জে RAB এর অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিচারকরা সম্পূর্ণ স্বাধীন, যে কারণে তারা গ্রেফতারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন: আইনমন্ত্রী ঢাকা- টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার ধীরগতি আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি সরকার পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনীর মতো ব্যবহার করতে চাইছে: ঝিনাইদহে হাসনাত আবদুল্লাহ

অস্ট্রিয়ায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় নার্সের মৃত্যু

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১
  • ১০২ সময় দেখুন

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ায় ৪৯ বৎসর বয়সী নার্সের মৃত্যু অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলেই হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে,অস্ট্রিয়ার NÖ রাজ্যের Zwettl জেলার একজন নার্স যিনি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন গ্রহণের পর রক্ত জমাট ব্যাধিজনিত অসুস্থ হয়ে ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

ভিয়েনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা তার মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটন করেছেন।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে,৪৯ বৎসর বয়স্ক নার্স ভ্যাকসিন গ্রহণের পর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ব্রেনের থ্রোম্বোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।ভিয়েনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এই জাতীয় ঘটনা একটি খুবই বিরল ঘটনা বলে জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার একটি ডোজের পরে উক্ত নার্স অসুস্থ হয়ে Zwettl হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১০ দিনপর অবস্থার কোন পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে।স্থানান্তর করা হয়েছিল। ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে আনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই উক্ত নার্সের মৃত্যু ঘটে।।তাছাড়াও একই সময়ে উপরোক্ত ভ্যাকসিন নিয়ে এই হাসপাতালের ৩০ বৎসর বয়স্ক আরেকজন স্বাস্থ্য  সহকর্মী ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এই ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভ্যাকসিন প্রদান সাময়িক স্থগিত করে এই অ্যাস্ট্রাজেনিকা ভ্যাকসিনের “ABV5300” ব্যাচটি প্রত্যাহার করেছিলেন।

এই ঘটনার পরপরই ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ডেনমার্কের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন প্রদান সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন পরবর্তীতে ইউরোপ সহ ১৬ টির অধিক দেশ এই ভ্যাকসিন প্রদান সাময়িক স্থগিত করেন। অবশ্য অস্ট্রিয়া এই ভ্যাকসিন প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি (EMA) এই অভিযুক্ত ভ্যাকসিন অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর বলে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা নার্সের মৃত্যুর ব্যাপারে স্পষ্টত একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যা জার্মানির Greifswald (UMG) বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন। শুক্রবার জার্মানির  ইউনিভার্সিটি মেডিকেল Greifswald (ইউএমজি) -এর ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের প্রধান অ্যান্ড্রেস গ্রিনাচার ঘোষণা করেন যে, “আমরা এই মৃত্যুর কারন অনুসন্ধান করেছি।”

আমাদের গবেষক বিজ্ঞানীদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা শরীরের প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথক ক্ষেত্রে রক্তের প্লেটলেটগুলি সক্রিয় করতে পারে।  ফলস্বরূপ এটি প্লেটলেটগুলির অভাবের সাথে মারাত্মক সেরিব্রাল শিরা থ্রোম্বোসিস ঘটাতে পারে।

ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালের (AKH) করিন ফেহিংগার বলেন,নার্সের রহস্যজনক মৃত্যুর পর আরও অধিকতর তদন্তের জন্য নার্সের শরীর থেকে নমুনা জার্মানির ইউনিভার্সিটি মেডিকেল Greifswald (ইউএমজি) -এ পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও জানান,প্রাথমিক কারণ আমাদের কাছে আসলেও ময়না তদন্তের ফলাফল এখনও পাওয়া যায় নি – সমস্ত পরীক্ষা শেষ হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন,আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই কেননা Zwettl নার্সের বেলায় যা ঘটেছে এটি একটি বিরল ঘটনা এবং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে খুবই কম রোগীদের মধ্যেই এই রকম ঘটনা ঘটেছে।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ৩,৩৪৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৮ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ৮৯৬ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৭৫৬ জন, Steiermark রাজ্যে ৪৫৭জন, OÖ রাজ্যে ৩৮৮ জন,Tirol রাজ্যে ২৮১ জন,Salzburg রাজ্যে ২৫০ জন,Kärnten রাজ্যে ২১৬ জন, Burgenland রাজ্যে ১০৮ জন এবং Vorarlberg রাজ্যে ৩২ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫,১১,৪৪০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৯,০৫২ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৪,৭০,৬৮৪ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩১,৭০৪ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩৯৪ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৮৪৪ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ ইবি টাইমস

Tag :
জনপ্রিয়

জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

অস্ট্রিয়ায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় নার্সের মৃত্যু

আপডেটের সময় ০৮:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ায় ৪৯ বৎসর বয়সী নার্সের মৃত্যু অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলেই হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে,অস্ট্রিয়ার NÖ রাজ্যের Zwettl জেলার একজন নার্স যিনি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন গ্রহণের পর রক্ত জমাট ব্যাধিজনিত অসুস্থ হয়ে ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

ভিয়েনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা তার মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটন করেছেন।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে,৪৯ বৎসর বয়স্ক নার্স ভ্যাকসিন গ্রহণের পর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ব্রেনের থ্রোম্বোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।ভিয়েনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এই জাতীয় ঘটনা একটি খুবই বিরল ঘটনা বলে জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার একটি ডোজের পরে উক্ত নার্স অসুস্থ হয়ে Zwettl হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১০ দিনপর অবস্থার কোন পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে।স্থানান্তর করা হয়েছিল। ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে আনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই উক্ত নার্সের মৃত্যু ঘটে।।তাছাড়াও একই সময়ে উপরোক্ত ভ্যাকসিন নিয়ে এই হাসপাতালের ৩০ বৎসর বয়স্ক আরেকজন স্বাস্থ্য  সহকর্মী ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এই ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভ্যাকসিন প্রদান সাময়িক স্থগিত করে এই অ্যাস্ট্রাজেনিকা ভ্যাকসিনের “ABV5300” ব্যাচটি প্রত্যাহার করেছিলেন।

এই ঘটনার পরপরই ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ডেনমার্কের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন প্রদান সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন পরবর্তীতে ইউরোপ সহ ১৬ টির অধিক দেশ এই ভ্যাকসিন প্রদান সাময়িক স্থগিত করেন। অবশ্য অস্ট্রিয়া এই ভ্যাকসিন প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি (EMA) এই অভিযুক্ত ভ্যাকসিন অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর বলে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা নার্সের মৃত্যুর ব্যাপারে স্পষ্টত একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যা জার্মানির Greifswald (UMG) বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন। শুক্রবার জার্মানির  ইউনিভার্সিটি মেডিকেল Greifswald (ইউএমজি) -এর ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের প্রধান অ্যান্ড্রেস গ্রিনাচার ঘোষণা করেন যে, “আমরা এই মৃত্যুর কারন অনুসন্ধান করেছি।”

আমাদের গবেষক বিজ্ঞানীদের মতে, একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা শরীরের প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথক ক্ষেত্রে রক্তের প্লেটলেটগুলি সক্রিয় করতে পারে।  ফলস্বরূপ এটি প্লেটলেটগুলির অভাবের সাথে মারাত্মক সেরিব্রাল শিরা থ্রোম্বোসিস ঘটাতে পারে।

ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালের (AKH) করিন ফেহিংগার বলেন,নার্সের রহস্যজনক মৃত্যুর পর আরও অধিকতর তদন্তের জন্য নার্সের শরীর থেকে নমুনা জার্মানির ইউনিভার্সিটি মেডিকেল Greifswald (ইউএমজি) -এ পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও জানান,প্রাথমিক কারণ আমাদের কাছে আসলেও ময়না তদন্তের ফলাফল এখনও পাওয়া যায় নি – সমস্ত পরীক্ষা শেষ হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন,আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই কেননা Zwettl নার্সের বেলায় যা ঘটেছে এটি একটি বিরল ঘটনা এবং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে খুবই কম রোগীদের মধ্যেই এই রকম ঘটনা ঘটেছে।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ৩,৩৪৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৮ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ৮৯৬ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৭৫৬ জন, Steiermark রাজ্যে ৪৫৭জন, OÖ রাজ্যে ৩৮৮ জন,Tirol রাজ্যে ২৮১ জন,Salzburg রাজ্যে ২৫০ জন,Kärnten রাজ্যে ২১৬ জন, Burgenland রাজ্যে ১০৮ জন এবং Vorarlberg রাজ্যে ৩২ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫,১১,৪৪০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৯,০৫২ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৪,৭০,৬৮৪ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩১,৭০৪ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩৯৪ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৮৪৪ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ ইবি টাইমস