ভিয়েনা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রিয়ার গ্র‍্যাজে (Graz) বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন লালমোহন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করায় বিপাকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী লালমোহনে আন্তঃজেলা মাদক ও জাল টাকার ব্যবসায়ী আটক ইরাকে ইরানি কুর্দিদের ওপর ড্রোন হামলায় নিহত ১ মন্ত্রিসভার আকার ছোট করলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট কৃষি খাতে ১,১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে : তথ্য উপদেষ্টা আগামী দুই মাসেও জ্বালানি তেলের সমস্যা হবে না সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই নদীতে ঘের দিয়ে অবাধে চলছে মাছ নিধন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১
  • ৮২ সময় দেখুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই নদীতে ঘের দিয়ে অবাধে চলছে মাছ নিধন। এতে করে একদিকে যেমন কমছে মাছ উৎপাদন ও অন্যদিকে নস্ট হচ্ছে নদীর সৌন্দর্য।

সরজমিনে দেখা যায়, খোয়াই নদীতে চারদিকে বাশ দিয়ে বেড় দেয়া হয়েছে, পরে চারপাশে জাল ফেলা হয়েছে, যাতে আটকা পড়ে পোনা মাছ সহ মা মাছ। রাতে কখনো কখনো বা দিনে অবাধেই মাছ শিকার করছেন স্থানীয় জেলেরা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, খোয়াই নদীতে এভাবে বেড় দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শিকার করা হচ্ছে মাছ। প্রতি বছরই এভাবে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে মাছ ধরা হলেও এতে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরই উপজেলার খোয়াই নদীর নতুনব্রীজ থেকে জগতপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পন্থায় মাছ ধরা হয়। এ বছরও প্রায় শতাধিক স্থানে নদীর দুই পাশের জায়গা দখল করে মাছ ধরা হচ্ছে। চারদিকে বাঁশ পুঁতে মাঝখানে গাছের ডালপালা ফেলে ওই স্থানে খাবার দিয়ে মা মাছসহ পোনা জড়ো করা হয়। পরে জাল দিয়ে চারদিক ঘিরে ফেলে মাছ শিকার করা হয়। ছোট ছিদ্রযুক্ত এসব জালে মা ও পোনা মাছসহ সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। নদীতে প্রায় শতাধিক স্থানে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয় মহৎজীবী খেলু মিয়া জানান, নদী এক সময় অনেক মাছ ছিল। প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। এই মাছ বিক্রি করেই চলতো তাদের সংসার। কিন্তু এখন নদীতে মাছ ধরতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। নদীতে ঘের তৈরী করার ফলে মাছও পাওয়া যায়না আগেরমত। নদীর কোথাও তীরবর্তী, কোথাও কোথাও মাঝ–নদীতে ডালপালা, বাঁশ ফেলে ঘের তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঘের মালিক জানান,এলাকার অনেকেই ঘের তৈরি করে মাছ ধরে। আমিও তাই ঘের তৈরি করেছি। প্রশাসন থেকেও কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন ঘের দিয়ে মাছ শিকার মৎস্য আইনে সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। আমরা তাদেরকে মাইকিং করে সতর্ক করবো। সতর্ক না হলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে অভিযানে নামবো ।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোঃ মিনহাজুল ইসলাম ইউরো বাংলা টাইমস কে বলেন, বিষয়টি  শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা দ্রুত নেয়া হবে। কিছুদিন আগে নদীতে বাধঁ দিয়ে মাছ শিকার করায় একজনকে জরিমানাও করেছি।

মোতাব্বির হোসেন কাজল /ইবি টাইমস

Tag :
জনপ্রিয়

অস্ট্রিয়ার গ্র‍্যাজে (Graz) বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই নদীতে ঘের দিয়ে অবাধে চলছে মাছ নিধন

আপডেটের সময় ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই নদীতে ঘের দিয়ে অবাধে চলছে মাছ নিধন। এতে করে একদিকে যেমন কমছে মাছ উৎপাদন ও অন্যদিকে নস্ট হচ্ছে নদীর সৌন্দর্য।

সরজমিনে দেখা যায়, খোয়াই নদীতে চারদিকে বাশ দিয়ে বেড় দেয়া হয়েছে, পরে চারপাশে জাল ফেলা হয়েছে, যাতে আটকা পড়ে পোনা মাছ সহ মা মাছ। রাতে কখনো কখনো বা দিনে অবাধেই মাছ শিকার করছেন স্থানীয় জেলেরা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, খোয়াই নদীতে এভাবে বেড় দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শিকার করা হচ্ছে মাছ। প্রতি বছরই এভাবে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে মাছ ধরা হলেও এতে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরই উপজেলার খোয়াই নদীর নতুনব্রীজ থেকে জগতপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পন্থায় মাছ ধরা হয়। এ বছরও প্রায় শতাধিক স্থানে নদীর দুই পাশের জায়গা দখল করে মাছ ধরা হচ্ছে। চারদিকে বাঁশ পুঁতে মাঝখানে গাছের ডালপালা ফেলে ওই স্থানে খাবার দিয়ে মা মাছসহ পোনা জড়ো করা হয়। পরে জাল দিয়ে চারদিক ঘিরে ফেলে মাছ শিকার করা হয়। ছোট ছিদ্রযুক্ত এসব জালে মা ও পোনা মাছসহ সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। নদীতে প্রায় শতাধিক স্থানে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয় মহৎজীবী খেলু মিয়া জানান, নদী এক সময় অনেক মাছ ছিল। প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। এই মাছ বিক্রি করেই চলতো তাদের সংসার। কিন্তু এখন নদীতে মাছ ধরতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। নদীতে ঘের তৈরী করার ফলে মাছও পাওয়া যায়না আগেরমত। নদীর কোথাও তীরবর্তী, কোথাও কোথাও মাঝ–নদীতে ডালপালা, বাঁশ ফেলে ঘের তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঘের মালিক জানান,এলাকার অনেকেই ঘের তৈরি করে মাছ ধরে। আমিও তাই ঘের তৈরি করেছি। প্রশাসন থেকেও কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন ঘের দিয়ে মাছ শিকার মৎস্য আইনে সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। আমরা তাদেরকে মাইকিং করে সতর্ক করবো। সতর্ক না হলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে অভিযানে নামবো ।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোঃ মিনহাজুল ইসলাম ইউরো বাংলা টাইমস কে বলেন, বিষয়টি  শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা দ্রুত নেয়া হবে। কিছুদিন আগে নদীতে বাধঁ দিয়ে মাছ শিকার করায় একজনকে জরিমানাও করেছি।

মোতাব্বির হোসেন কাজল /ইবি টাইমস