জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহনে চুরির অভিযোগ তুলে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের কচুয়াখালী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তার বাড়ি উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী গ্রামে।
লিখিত আবেদনে জুবায়ের জানায়, গত ৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ল্যাবে একটি বই খুঁজতে যায় সে। বই না পেয়ে পরে সেখান থেকে চলে আসে। এ সময় ল্যাবের কোনো কেমিক্যাল বা অন্য কোনো সামগ্রী সে নেয়নি বলে দাবি করেছে।

অভিযোগে বলা হয়, পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জুয়েল হাওলাদার তাকে মাঠ থেকে ডেকে বিজ্ঞান ল্যাবে নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষক তার বিরুদ্ধে ল্যাবের সামগ্রী চুরির অভিযোগ তোলেন। শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করলেও শিক্ষক তার কথা না শুনে তাকে মারধর করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুবায়েরের অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে তার মুখমণ্ডলে আঘাত করা হয়। এমনকি টেবিলের নিচে মাথা রেখে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় কয়েকজন সহপাঠী শিক্ষককে থামানোর চেষ্টা করলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে জুবায়ের জানতে পারে বিজ্ঞান ল্যাবের সামগ্রী হারানোর ঘটনায় ওই শিক্ষকের ছেলে ও বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জাবেদের নামও বলা হচ্ছে।
তবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল হাওলাদার বলেন, “ঘটনা সত্য। ছেলেটি বেয়াদব হওয়ায় তাকে দুটি থাপ্পড় দিয়েছি। হাতে হোন্ডার চাবি থাকায় মুখে একটু দাগ হয়ে যায়।”
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/এসএস




















