ইবিটাইমস ডেস্ক : স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কূটকৌশলের অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিএনপির বড় রাজনৈতিক দায় রয়েছে। এ অঙ্গীকার থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিপ্লবী যুব সংহতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাইফুল হক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ কোনো বিপ্লবী চার্টার নয়। এটি সংবিধান কিংবা রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দলিলও নয়। তাই এ সনদ নিয়ে অতিরিক্ত রোমান্টিক ভাবালুতা কিংবা অতি বিপ্লবী মনোভাব দেখানোরও সুযোগ নেই। কারণ, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে এ পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে, তার পুরোটাই বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়েও দেশ ও সরকার বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই জুলাই জাতীয় সনদের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিহীন সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলার লক্ষ্যেই জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক পরিসর সম্প্রসারণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, এ সনদ দেশে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবিধান এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংস্কারের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে ইতিবাচকভাবে ধারণ করে বিএনপির সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন ও গৌরবের বিষয় হতে পারত।
কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ না করায় বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, সংসদের বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশ না নেওয়ায় সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এসব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে এগিয়ে নিতে সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অঙ্গীকার রক্ষা করা জরুরি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী যুব সংহতির আহ্বায়ক আওয়াল মাহমুদ। সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, বিপ্লবী যুব সংহতির যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন রহমান, সংগঠনটির ঢাকা উত্তরের সদস্যসচিব আহমেদ রনি, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিফুল ইসলাম ও লোকমান হোসেনসহ অন্যরা।
ঢাকা/এসএস





















