ইবিটাইমস ডেস্ক : দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় কৃষক সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকরাই দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারাই দেশ গড়ার যোদ্ধা। কৃষকদের সম্মান ও উৎসাহিত করতে কৃষিক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং অসামান্য অবদানের জন্য ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি দেশের অন্যতম ইতিবাচক খাত। কৃষকের শ্রম, নতুন নতুন উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে দেশে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকেরা দুর্নীতি করেন না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যাতে সঠিক মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও সচেতন ও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও কৃষকদের উন্নয়নে সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই কৃষকরা এসব উদ্যোগের সুফল পাবেন।
সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির প্রতিনিধি দল কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষক দিবস উদযাপন, জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের পুরস্কার প্রদান, শস্যবীমা চালু, জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসতে তিনি কৃষক সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ এবং খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগের কথা রাষ্ট্রপতিকে জানান। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।





















