ইবিটাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শের অপেক্ষায় রয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৭ হাজার রান পূর্ণ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৪৩ রান। আগামীকাল বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে এমন কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
বাংলাদেশের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেটে নির্ভরতার প্রতীক মুশফিক। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা, চাপের মুখে দায়িত্বশীল ইনিংস এবং দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১০৬টি টেস্টের ১৯৫ ইনিংসে ৩৯.০৮ গড়ে মুশফিকুর রহিমের সংগ্রহ ৬ হাজার ৯৫৭ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের প্রথম টেস্টেই এই রানসংখ্যাকে সাত হাজারে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাত হাজার রানের হাতছানি
টেস্ট ক্রিকেটে সাত হাজার রান পূর্ণ করা একজন ব্যাটারের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য, ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। মুশফিকুর রহিমের সামনে এখন সেই মাইলফলক অর্জনের সুযোগ।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সাত হাজার রানে পৌঁছাতে তাঁর প্রয়োজন ৪৩ রান। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে এই রান করতে পারলেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে সাত হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করবেন তিনি।
মুশফিকের এই সম্ভাব্য অর্জন বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এই ব্যাটার বিভিন্ন সময়ে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও লড়াকু মানসিকতা বাংলাদেশের টেস্ট দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে সাত হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের বিপক্ষে ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাটিং করতে হবে। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ সামলে ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি দলের জন্য কার্যকর ইনিংস খেলাই থাকবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
১৮ বছর বয়সে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক
মুশফিকুর রহিমের টেস্ট যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তাঁর।
সেই শুরু থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন পরিস্থিতি, বিদেশের মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ঘরের মাঠে প্রত্যাশার চাপ সামলে নিজের ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকের পরিসংখ্যান তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। ১০৬ ম্যাচের ১৯৫ ইনিংসে ৬ হাজার ৯৫৭ রান করার পথে তিনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৪টি শতক, ৩০টি অর্ধশতক এবং তিনটি দ্বিশতক।
এই পরিসংখ্যান তাঁকে বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের ইতিহাসে অন্যতম সফল খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাত হাজার রানের মাইলফলক অর্জিত হলে তাঁর ক্যারিয়ারের সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হবে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
টেস্টে তিনটি দ্বিশতক, ১৪টি শতক মুশফিকের
টেস্ট ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্যের জন্যও পরিচিত মুশফিকুর রহিম। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ইনিংস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের গতি নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা তাঁর ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
এ পর্যন্ত টেস্ট ক্যারিয়ারে তিনটি দ্বিশতক করেছেন তিনি। পাশাপাশি রয়েছে ১৪টি শতক ও ৩০টি অর্ধশতক। এসব অর্জন বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অবদানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
টেস্টের মতো দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ নয়। প্রতিপক্ষের বোলারদের পরিকল্পনা, উইকেটের অবস্থা এবং ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে হয়। মুশফিকের ক্যারিয়ারে বড় ইনিংসের সংখ্যা তাঁর এই সামর্থ্যেরই পরিচায়ক।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টেও তাঁর ব্যাটিংয়ের দিকে নজর থাকবে সমর্থকদের। সাত হাজার রানের মাইলফলক সামনে থাকায় ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলের স্কোর সমৃদ্ধ করাও হবে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েছিলেন মুশফিক
বাংলাদেশের ক্রিকেটে শততম টেস্ট খেলার অনন্য কীর্তিও রয়েছে মুশফিকুর রহিমের দখলে। দেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে মাঠে নামার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।
গত বছর মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন মুশফিক। বিশেষ সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই ১০৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের প্রথম এবং বিশ্বের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে বিরল এই কীর্তি গড়েন মুশফিক। গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের ম্যাচে এমন ইনিংস তাঁর ক্যারিয়ারের স্মরণীয় অর্জনগুলোর অন্যতম।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ব্যক্তিগত মাইলফলকের চাপ সামলেও ব্যাট হাতে দলের জন্য অবদান রাখা সম্ভব। এবার সাত হাজার রানের নতুন লক্ষ্য সামনে রেখে আবারও আলোচনায় বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুশফিকের পরিসংখ্যান
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। ২৭ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৭৮২ রান।
এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একটি শতক ও তিনটি অর্ধশতক রয়েছে তাঁর। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং গড় ৩১.২৮, যা সামগ্রিক টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৯.০৮ গড়ের তুলনায় কম।
আসন্ন প্রথম টেস্টে মুশফিকের জন্য ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজের পারফরম্যান্স আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগও থাকছে। মিরপুরের পরিচিত পরিবেশে ব্যাট হাতে ভালো শুরু পেলে সাত হাজার রানের লক্ষ্য পূরণ করা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হয়ে উঠতে পারে।
মিরপুর টেস্টে নজর থাকবে অভিজ্ঞ ব্যাটারের দিকে
বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মুশফিকুর রহিমের সম্ভাব্য সাত হাজার রান পূর্ণ করা। ৪৩ রান প্রয়োজন হওয়ায় মাইলফলকটি তাঁর নাগালের মধ্যেই রয়েছে, যদিও ক্রিকেটে ব্যক্তিগত অর্জন নির্ভর করে ম্যাচের পরিস্থিতি ও ব্যাটিংয়ের সুযোগের ওপর।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, শততম টেস্টে সেঞ্চুরি এবং বড় ইনিংস খেলার রেকর্ড মুশফিককে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। সাত হাজার রান পূর্ণ করতে পারলে দেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন একটি রেকর্ডের মালিক হবেন তিনি।
এখন দেখার বিষয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেই কি সেই কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ব্যক্তিগত রেকর্ডের অপেক্ষার পাশাপাশি তাঁর ব্যাট থেকে একটি কার্যকর ইনিংসও প্রত্যাশা করবে বাংলাদেশ দল।
ঢাকা/এসএস





















