বর্ষা আহমেদ বৃষ্টি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ১৩ মাস বয়সী শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঢাকার দোহার থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার উজ্জল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তার স্ত্রী শিখা (৩৫)।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ঈশ্বরগঞ্জের রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। পরে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।
পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনা বেগমকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটিকে পরিবারের কাছেই রেখে যেতে হয় তাকে। পরে রোজিনা গাজীপুরে গিয়ে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন।
এর মধ্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী ও স্বজনরা শিশুটিকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। শিশুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রোজিনা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্তে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ রোমন বলেন, সন্তানহীন এক দম্পতি শিশুটিকে লালন-পালনের কথা বলে কিনে নিয়েছিলেন। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি জানান, শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা/এসএস



















