ইবিটাইমস ডেস্ক : হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের শর্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে ইরান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এ অবস্থান জানান। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তেহরান থেকে এএফপির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বাসস।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, তেহরানের পরিকল্পনায় লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের বিষয়টি রয়েছে। পাশাপাশি কয়েক মাস আগে ভেস্তে যাওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলোও পূরণ করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে আরাকচি বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ এসব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। আমরা এসব শর্ত থেকে সরে আসব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনো কূটনীতি বা আলোচনার দরজা বন্ধ করিনি। একই সঙ্গে আমরা কখনো আমাদের অধিকার থেকেও সরে আসিনি।’
এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান এমন একটি চুক্তি করতে চায়, যার মাধ্যমে তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে।
এ বিষয়ে আরাকচি বলেন, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম প্রতিক্রিয়া দেখেছে। তবে এখন পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা দেয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান জানার অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।
‘চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার’
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান জুনে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। তবে কিছুদিন পরই সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।
ইরানের অভিযোগ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয় বিবেচনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে অনুমোদন নিতে হবে। এ নির্দেশ অমান্যকারী কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালী উন্মুক্ত রাখার দায়িত্ব পালনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এসব নৌপথকে চাপ প্রয়োগ, হুমকি বা কোনো দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার সৌদি আরব প্রত্যাখ্যান করে। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় এসব নৌপথের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও বলেন, অন্যান্য দায়িত্বশীল দেশের সঙ্গে রাশিয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলকে স্থিতিশীল করতে গঠনমূলকভাবে অবদান রাখতে প্রস্তুত।
এদিকে নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আলোচনার টেবিল থেকে সরে যায়নি। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এখন আর আস্থা নেই তেহরানের।
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আরাকচি জানান, ইরান কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
আরাকচি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান কোনো ধরনের জবরদস্তি, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেয় না। চাপের মুখে ইরান তার সার্বভৌম অধিকার সমর্পণ করবে না।’
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবিকে উদ্ধৃত করে তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বন্ধ করা হবে না। এর আগে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেবি জানিয়েছিলেন, শত্রুতা বন্ধের ক্ষেত্রে ইয়েমেনও তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে।
ঢাকা/এসএস




















