জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. ফয়জুল আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। উপজেলা পর্যায়ে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও ভেরিফিকেশনের পর নিয়োগপত্র পাননি তিনি।
ফয়জুল আলমের দাবি, লালমোহন উপজেলায় তার সঙ্গে কাগজপত্র জমা দেওয়া অন্য সব চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র পেলেও একমাত্র তিনিই নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন।
জানা গেছে, ভোলা জেলায় এ নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ২৫৬ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে লালমোহন উপজেলায় ৪৩ জন ছিলেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়।
প্রথম পর্যায়ে ফয়জুল আলমসহ বেশ কয়েকজনের নাম গেজেটে না আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বাদ পড়া প্রার্থীরা ঢাকায় আন্দোলনও করেন। পরে বাদ পড়া প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে দ্বিতীয় পর্যায়ে পুনরায় গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে ফয়জুল আলমের দাবি, লালমোহনের অন্য বাদ পড়া প্রার্থীদের নাম দ্বিতীয় পর্যায়ের গেজেটে এলেও তার নাম সেখানে আসেনি।
ফয়জুল আলম জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ভেরিফিকেশনে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি বলে দাবি করেছেন।

মো. ফয়জুল আলম বলেন, “আমি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও অজ্ঞাত কারণে নিয়োগপত্র পাইনি। অথচ লালমোহন উপজেলা পর্যায়ে মেধা তালিকায় আমার স্থান দ্বিতীয়। আমার কাগজপত্রেও কোনো সমস্যা নেই।”
তিনি বলেন, আগে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ হয়েছে জানতে পেরে সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় বর্তমানে তিনি বেকার অবস্থায় রয়েছেন।
ফয়জুল আলমের ভাষ্য, তার পরিবারে স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও ভাই-বোন রয়েছেন। তিনি দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং এর আগে তিনবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি।
তিনি বলেন, “তখন আপসোস ছিল না। এবার চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েও ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। আমার সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সও শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে বেকার অবস্থায় রয়েছি।”
নিজের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই দাবি করে ফয়জুল আলম বলেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও স্বচ্ছ কারণ ছাড়া ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তাকে বাদ দেওয়া হলে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগপত্র দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
যা বলছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ভোলা জেলায় লালমোহনের একজনসহ মোট চারজন শিক্ষক বাদ পড়েছেন।
তিনি বলেন, “এই চারজন শিক্ষকের ডকুমেন্টসহ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে তাদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফলে ফয়জুল আলমের নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ঢাকা/এসএস





















