ভিয়েনা ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ দেখে স্ট্রোক, তিন দিন পর নারীর মৃত্যু

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩১ সময় দেখুন

পুলিশ দেখে স্ট্রোক, তিন দিন পর নারীর মৃত্যু

বর্ষা আহমেদ বৃষ্টি : কুমিল্লার দেবিদ্বারে মামলার তদন্তে বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার পর ছেলেকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় হাসনা বেগম (৫৬) নামে এক নারী স্ট্রোক করেন বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। তিন দিন অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসনা বেগম দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের নেহাল কাজী বাড়ির আব্দুল আজিজের স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে স্বজনেরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

শুক্রবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ির পাশের একটি গর্তের পানি সেচে মাছ ধরছিলেন আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শুভ। এ সময় একই বাড়ির ট্রাক্টরচালক নবী নেওয়াজ (৩৮) মাছগুলো ফেলে দিয়ে নিজে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ নিয়ে শুভ ও স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

এর জেরে ওই দিন বিকেলে নবী নেওয়াজ ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে শুভদের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে।

পরে গ্রামবাসী ধাওয়া করে ধামতী গ্রামের আব্দুল কাদের (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর আহত আক্তার হোসেনের ছোট ভাই আল আমিন বাদী হয়ে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদেরসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

এদিকে নবী নেওয়াজের বড় ভাই দুলালের উদ্যোগে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার জন্য সামাজিক সালিস অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গেছে।

গত ৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী তদন্তের জন্য ভূষণা গ্রামে যান। আসামিপক্ষের বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তিনি বাদীপক্ষের বাড়ির দিকে গেলে হাসনা বেগম আশঙ্কা করেন, প্রতিপক্ষের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

পরিবারের দাবি, এ সময় তিনি ছেলেদের সরে যেতে বলে চিৎকার করেন। পরে স্ট্রোক করে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করার পর বাদীর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

পুলিশ দেখে স্ট্রোক, তিন দিন পর নারীর মৃত্যু

আপডেটের সময় ১১:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বর্ষা আহমেদ বৃষ্টি : কুমিল্লার দেবিদ্বারে মামলার তদন্তে বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার পর ছেলেকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় হাসনা বেগম (৫৬) নামে এক নারী স্ট্রোক করেন বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। তিন দিন অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসনা বেগম দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের নেহাল কাজী বাড়ির আব্দুল আজিজের স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে স্বজনেরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

শুক্রবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ির পাশের একটি গর্তের পানি সেচে মাছ ধরছিলেন আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শুভ। এ সময় একই বাড়ির ট্রাক্টরচালক নবী নেওয়াজ (৩৮) মাছগুলো ফেলে দিয়ে নিজে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ নিয়ে শুভ ও স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

এর জেরে ওই দিন বিকেলে নবী নেওয়াজ ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে শুভদের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে।

পরে গ্রামবাসী ধাওয়া করে ধামতী গ্রামের আব্দুল কাদের (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর আহত আক্তার হোসেনের ছোট ভাই আল আমিন বাদী হয়ে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদেরসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

এদিকে নবী নেওয়াজের বড় ভাই দুলালের উদ্যোগে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার জন্য সামাজিক সালিস অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গেছে।

গত ৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী তদন্তের জন্য ভূষণা গ্রামে যান। আসামিপক্ষের বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তিনি বাদীপক্ষের বাড়ির দিকে গেলে হাসনা বেগম আশঙ্কা করেন, প্রতিপক্ষের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

পরিবারের দাবি, এ সময় তিনি ছেলেদের সরে যেতে বলে চিৎকার করেন। পরে স্ট্রোক করে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করার পর বাদীর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
ঢাকা/এসএস