ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি জেলায় বিগত ১০-১২ বছরের মধ্যে বর্তমানে চলমান ডায়রিয়ার ব্যাপকতা দেখা যায়নি। ১সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের সাথে কথা বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন রোগ নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায় এসে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালি নদী এবং পুকুর জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছেন।
ষাট দশক থেকে সত্তর দশক পর্যন্ত দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলিতে কলেরার প্রাদুর্ভাবের কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে দীর্ঘ এক দশক ধরে স্বাস্থ্যবিভাগের কলেরা জিবাণু নির্মুল কর্মসূচির সফলতা হিসাবে কলেরা ভাইরাসের জিবাণু নির্মুল হয়েছিল। বর্তমান ডায়রিয়ার পরিস্থিতিতে কারণ অনুসন্ধানে নদ-নদীর পানিতে কলেরার জিবাণু সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে তার জন্যই পানি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
জেলার মধ্যে সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলায় আক্রান্তদের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। জেলার অন্য দু’টি উপজেলা রাজাপুর ও কাঠালিয়ায় আক্রান্তদের হার তুলনামুলক কম। গত ২৪ ঘন্টায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ১০৪ জন ও মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আরও ৫৩ জন ভর্তি হয়েছে এবং নলছিটি উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৬০ জন আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ ভাগ রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
জেলায় গত ১সপ্তাহে হাসপাতালগুলিতে ৩ হাজারের মত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সুস্থ হয়েছে। বর্তমানে রাজাপুর উপজেলায়ও ডায়রিয়া মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে মর্মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে। এই উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সিমটমের মধ্যে ডায়রিয়াও অনন্য উপসর্গ। এজন্য ডায়রিয়া রোগীদের মধ্যে সোমবার করোনা পরীক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল শেবাচিম করোনা ইউনিটের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সকলের রিপোর্ট নিগেটিভ এসেছে। মঙ্গলবার আরও ১০ জনের কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত কি-না নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বরিশাল করোনা ইউনিটের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, আচমকা এই ডায়রিয়ার প্রকোপ জেলা জুড়ে বেড়ে যাওয়ায় মজুত শেষ হয়ে আসছে। ঢাকায় অধিদপ্তরে আইভি স্যালাইনের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে ঝালকাাঠির সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু ১ হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইন ও জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনারের দেয়া ৫ হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইন স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে। ফলে এই হারে যে পরিমান প্রতিদিন স্যালাইন প্রয়োজন হয় তা আরও কয়েকদিন সামাল দেয়া যাবে।
বাধন রায়/ ইবি টাইমস