ভিয়েনা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেছে রাজনৈতিক অবস্থান, শৈলকুপায় ইছহাক হোসেনকে নিয়ে তুমুল আলোচনা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:৪০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৯ সময় দেখুন

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা মকছেদ আলীর ছেলে ইছহাক হোসেনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি,আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইছহাক হোসেন তৎকালীন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. আব্দুল হাকিম আহমেদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নুর সঙ্গেও তার রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে,ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার,হামলা, চাঁদাবাজি,সালিশ বাণিজ্য এবং মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার নাম আলোচনায় আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইছহাক হোসেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে তাকে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও সমাবেশে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতে আওয়ামীলীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলেছেন বলেও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
এদিকে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্বে তাকে আনার চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ,অতীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং যাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে,এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে আনার চেষ্টা দলের আদর্শ ও ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন না,বরং ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয় ছিলেন, তাদের হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। তাদের মতে,সুবিধাবাদী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

‎এই বিষয়ে মনোহরপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন,’আমরা গত ১৭ বছর ধরে রাজপথে আওয়ামী লীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লড়াই করেছি। আজ যখন দল সুসময়ে আছে,তখন ইছহাক হোসেনের মতো হাইব্রিড নেতাদের অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের দালালি করেছে,তারা এখন বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে চাইছে। আমরা চাই দলের হাইকমান্ড এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিক। নতুবা দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।’

‎তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইছহাক হোসেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন,’আমার বিরুদ্ধে যে সব কথা বলা হচ্ছে তার ৯০% ই মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি অতীতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করেছি। গত ১৭ বছরে আমার নামে কোনো রাজনৈতিক মামলা হয়নি বা আমি কোনো অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমি একজন সমাজকর্মী হিসেবে সবার সাথে মেলামেশা করি,তার মানে এই নয় যে আমি অন্য দলের লোক। একটি মহল আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেছে রাজনৈতিক অবস্থান, শৈলকুপায় ইছহাক হোসেনকে নিয়ে তুমুল আলোচনা

আপডেটের সময় ১২:৪০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা মকছেদ আলীর ছেলে ইছহাক হোসেনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি,আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইছহাক হোসেন তৎকালীন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. আব্দুল হাকিম আহমেদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নুর সঙ্গেও তার রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে,ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার,হামলা, চাঁদাবাজি,সালিশ বাণিজ্য এবং মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার নাম আলোচনায় আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইছহাক হোসেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে তাকে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও সমাবেশে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতে আওয়ামীলীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলেছেন বলেও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
এদিকে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্বে তাকে আনার চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ,অতীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং যাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে,এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে আনার চেষ্টা দলের আদর্শ ও ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন না,বরং ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয় ছিলেন, তাদের হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। তাদের মতে,সুবিধাবাদী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

‎এই বিষয়ে মনোহরপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন,’আমরা গত ১৭ বছর ধরে রাজপথে আওয়ামী লীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লড়াই করেছি। আজ যখন দল সুসময়ে আছে,তখন ইছহাক হোসেনের মতো হাইব্রিড নেতাদের অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের দালালি করেছে,তারা এখন বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে চাইছে। আমরা চাই দলের হাইকমান্ড এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিক। নতুবা দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।’

‎তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইছহাক হোসেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন,’আমার বিরুদ্ধে যে সব কথা বলা হচ্ছে তার ৯০% ই মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি অতীতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করেছি। গত ১৭ বছরে আমার নামে কোনো রাজনৈতিক মামলা হয়নি বা আমি কোনো অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমি একজন সমাজকর্মী হিসেবে সবার সাথে মেলামেশা করি,তার মানে এই নয় যে আমি অন্য দলের লোক। একটি মহল আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস