ইবিটাইমস ডেস্ক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ করলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এ জন্য তেহরানকে তার আচরণে বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিরোধী নয়। তবে যেকোনো সমঝোতা হতে হবে কার্যকর এবং এমন, যা ইরান বাস্তবে মেনে চলবে।
তিনি বলেন, ‘এটি বাস্তবসম্মত হতে হবে। এমন একটি চুক্তি হতে হবে, যা তারা মেনে চলতে প্রস্তুত থাকবে।’
রুবিও’র দাবি, এক সপ্তাহ আগে ইরানের হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে তেহরান তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তার ভাষায়, ‘তাদের আচরণ বদলাতে হবে, তাহলেই আমাদের আচরণও বদলাবে।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাবে ইরান, তবে তার আগে সামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের ‘সুবিধাজনক অবস্থান’ নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, কখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে আলোচনার পথে যাওয়া হবে, সেই সঠিক সময় নির্ধারণ করা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের সমাপ্তি দুটি উপায়ে সম্ভব, একটি হলো নিরঙ্কুশ সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে, আর অন্যটি আলোচনার মাধ্যমে।
তিনি বলেন, ‘আলোচনার উপযুক্ত সময় ঠিক তখনই, যখন সামরিক ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সাফল্য এবং কৌশলগত অর্জন নিশ্চিত করা যায়।’
আরাঘচির ভাষ্য, দেশের জনগণের জীবন ও পুরো রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যায় না। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতিবিদদের সব সময় মূল্যায়ন করতে হবে, যুদ্ধ চালিয়ে গেলে লাভ বাড়বে, নাকি এতে আরও বেশি মানবিক ও জাতীয় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
এদিকে দুই দেশের এমন বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা/এসএস



















